রোজায় জেসি অ্যাগ্রোয় ১০ টাকায় দুধ বিক্রি

রমজান মাস এলেই অধিকাংশ ব্যবসায়ী যেখানে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে পড়েন, সেখানে গত টানা পাঁচ বছর ধরে ব্যতিক্রমী নজির স্থাপন করে চলেছে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম। ফার্মের সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। রমজানে ১০ টাকা লিটারে গরুর খাঁটি দুধ বিক্রি করছে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামের জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম। প্রতি বছর ১০ টাকা লিটারে জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের খামারে উৎপাদিত ৩ টন দুধ বিক্রি করা হয়।

রমজান মাস জুড়ে সাধারণ মানুষের মাঝে প্রতিদিন ১০ টাকা লিটার দামে দুধ বিক্রি করা হয় একটি নিয়মের মাধ্যমে। প্রতি একজন ব্যক্তি দৈনিক সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কিনতে পারবেন। এভাবে ১০ টাকা লিটার দরে গত পাঁচ বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও তার খামার থেকে উৎপাদিত সব দুধ বিক্রি করছে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাঁচ বছর আগে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম নামে খামার গড়ে তোলা হয় জেলার করিমগঞ্জ উপজেলার রৌহা গ্রামে। সেই খামারে দুগ্ধ ও মোটাতাজাকরণের দেড় শতাধিক গরু রয়েছে। এর মধ্যে বর্তমানে ১৮টি গরু দুধ দিচ্ছে। খামার থেকে প্রতিদিন সকাল-বিকাল ৮০-৯০ লিটার দুধ উৎপাদিত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ রমজান মাসে অতিরিক্ত দামের কারণে দুধ কিনতে পারেন না। তাদের কথা ভেবেই খামারটি শুরু করার পর থেকেই প্রতি বছর রমজান মাস জুড়ে দুধ ১০ টাকা লিটারে বিক্রি করে আসছে। যে কেউ জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের খামার থেকে ১০ টাকা লিটার দরে সর্বোচ্চ এক লিটার দুধ কিনতে পারবেন।

বৃহস্পতিবার সকালে গিয়ে দেখা গেল এলাকার দরিদ্র মানুষ প্লাস্টিকের বোতল, পলিথিন ব্যাগ, জগ, মগসহ নানা পাত্র নিয়ে অপেক্ষা করছেন দুধের জন্য। বাজারে যেখানে গরুর দুধ বিক্রি হচ্ছে ৯০-১০০ টাকা লিটার। সেখানে খামারে উৎপাদিত এক লিটার খাঁটি দুধ মিলছে মাত্র ১০ টাকায়। তাই তো নামমাত্র টাকায় দুধ কিনতে জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম খামারে মানুষ ভিড় করছেন।

পার্শ্ববর্তী নিয়ামতপুর গ্রাম থেকে দুধ নিতে আসা রায়হান মিয়া বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে রোজার সময় এখান থেকে ১০ টাকা কেজি ধরে দুধ নিচ্ছি। কমে পেয়ে আমরা অনেক খুশি, কারণ রোজার মধ্যে আমাদের মতো গরিব মানুষের ১০০ টাকা লিটার করে বাজার থেকে দুধ কিনে খাওয়া সম্ভব না।

কিরাটন গ্রামের কৃষক রুহুমুদ্দিন বলেন, রোজা এলেই বাজারে সব কিছুরই মূল্য বেড়ে যায়। রমজানে ১০০ টাকা লিটার করে দুধ কিনে খাওয়া আমাদের সম্ভব না। জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম গত পাঁচ বছর ধরে দুধের জন্য আমাদের এলাকার লোকজনের কোনো চিন্তা করতে হয় না। প্রতিদিনই দুধ দিয়ে আমরা সাহরি করি।

দুধ নিতে আসা নিয়ামতপুর ইউনিয়নের রৌহা গ্রামের গৃহবধূ আগুরা আক্তার বলেন, রমজানে খাবারের জিনিসপত্রের দাম অনেক বেশি থাকে। এর মধ্যে ৯০ থেকে ১০০ টাকায় লিটার দুধ কেনা আমাদের পক্ষে কখনোই সম্ভব হবে না। ১০ টাকা লিটারে দুধ কেনার সুযোগ করে দেওয়ায় অন্যকিছু কিনতে না পারলেও আমরা দুধ-কলা খেয়ে রোজা রাখতে পারছি।

জেসি অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক হোসেন মোহাম্মদ রিয়াদ জানান, এক লিটার কিংবা দুই লিটার নয়। পবিত্র রমজান উপলক্ষে দরিদ্র মানুষের মধ্যে রোজার প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত নামমাত্র মূল্যে তিন হাজার লিটার দুধ বিক্রি করছি। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের চাহিদা মিটিয়ে চড়ামূল্য দুধ কেনা দরিদ্র মানুষের পক্ষে কোনো অবস্থাতেই সম্ভব নয়। তাই কম দামে দুধ পেয়ে খুশি এলাকার মানুষ। প্রত্যেকের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ১০ টাকা করে। তবে কারও কাছে টাকা না থাকলে তাকেও ফিরিয়ে দেওয়া হয় না।

উল্লেখ, জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম একটি মানবকল্যাণ ফাউন্ডেশন করে এলাকার হতদরিদ্র, প্রান্তিক ও সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আসছে। মানুষের যেকোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে তাদের সহযোগিতা করে আসছে। এর আগে ২০২৩ সালে দুধ ও মাংস উৎপাদনের জন্য ডেইরি আইকন সম্মাননা পেয়েছিল জেসি অ্যাগ্রো ফার্ম।