সিটি নির্বাচনে মাতবে এবার ঢাকা-চট্টগ্রাম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে সরকার গঠনের পর আলোচনা শুরু হয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ঘিরে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের পতনের পর ঢাকার দুই মেয়রসহ কাউন্সিলরা লাপাত্তা। মেয়রদের বিকল্প হিসেবে দুই সিটি করপোরেশনে প্রশাসক বসানো হলেও সার্বিক নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে নাগরিকদের ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। তাই নগরের বাসিন্দারা ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে দ্রুত নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি চাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সুখবর দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, অতিদ্রুত সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। শুধু ঢাকার দুই সিটি নয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনেও। ফলে সংসদ নির্বাচনের পর এবার সিটি নির্বাচনে মাতবে দেশের প্রধান দুই শহর।

ভোটের দিন তারিখ ঠিক না হলেও কারা হচ্ছেন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের নগরপিতা সে আলোচনা চলছে বেশ জোরেশোরেই। সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি এমন নেতারা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেছেন। আবার মনোনয়ন পেয়েও নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারেননি এমন নেতারাও রয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায়। প্রার্থীরা দায়িত্বশীল জ্যেষ্ঠ নেতাদের কাছে তাদের আগ্রহের কথা জানান দিচ্ছেন। ইতিমধ্যেই ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বেশ কয়েকজনের নাম নিয়ে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। ঢাকা দখলে প্রস্তুতি নিচ্ছে জামায়াতসহ ১১ দলও।

বিএনপির প্রস্তুতি : ঢাকার দুই সিটিতে সম্ভাব্য বিএনপি প্রার্থীদের মধ্যে ইতিমধ্যে জোর আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম, বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন।

এদের মধ্যে সোহেল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সালাম দক্ষিণের আহ্বায়ক ছিলেন। সর্বশেষ ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। তাবিথ আউয়াল ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী ছিলেন। রবিন সদ্য অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৪ আসন থেকে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছিলেন।

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী হতে চাই। চেয়ারম্যান মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করব। অতীতে ভারপ্রাপ্ত মেয়র হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাছাড়া আমি দীর্ঘদিন রাজধানী ঢাকার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আশা করছি নাগরিক সেবা নিশ্চিতে অতীতের অভিজ্ঞতার আলোকে কাজ করতে পারব।’

তাবিথ আউয়াল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘২০২০ সালে আমি নির্বাচন করেছিলাম। ভোটে কারচুপি করে শেষ রাতে আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এটা দেশবাসী জানে। এবার দলের হাইকমান্ড আমাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচন করতে চাই। মেয়র হয়ে রাজধানীবাসীর প্রত্যাশা পূরণ করতে চাই। তাছাড়া রাজধানী ঢাকা নিয়ে আমার নিজস্ব প্ল্যান রয়েছে। সেগুলো বাস্তবায়ন করতে চাই।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করলে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলীয় ফোরামে আলোচনা করব। ফোরামে আলোচনা সাপেক্ষে মেয়র নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ করবে বিএনপি।’

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, এখন দুটি আসনের উপনির্বাচন এবং সংরক্ষিত আসনের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে কমিশন। এরপর স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু হবে। এক্ষেত্রে প্রথমেই ঢাকা দুই সিটি করপোরেশন এবং চট্টগ্রামের নির্বাচনকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য সিটি করপোরেশনে নির্বাচন শুরু হবে।

সরকার গঠনের পর গত বুধবার সচিবালয়ে প্রথম কর্মদিবসে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘যতদ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকারগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদে এখন জনপ্রতিনিধি নেই। তাই আমরা যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচনের ব্যবস্থা করব। এক দিনে তো সম্ভব নয়, আমরা দ্রুত সেদিকেই এগিয়ে যাচ্ছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশের মানুষের নানা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। আমাদের সবকিছুর মধ্যেই গণতন্ত্র থাকবে। বিশেষ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় তৃণমূল মানুষকে নিয়ে কাজ করে। আমি বিশ্বাস করি, এ মন্ত্রণালয়কে গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।’

২০২০ সালের ৩০ জানুয়ারি রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে নির্বাচন হয়। এই নির্বাচনে ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রার্থী ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য তাবিথ আউয়াল ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মেয়র প্রার্থী ছিলেন বিএনপির ভাইস চেয়াম্যান ও অবিভক্ত সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকার ছেলে বিএনপি নেতা ও বর্তমানে বিএনপি সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।

জামায়াত ও ১১ দলের প্রস্তুতি : দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচন হবে এই ঘোষণার পর সংসদে প্রধান বিরোধী দল জামায়তে ইসলামী ও তার মিত্ররা এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ শুরু করেছে। রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ছয়টি আসনে জয়ের পর এবার ঢাকার দুর্গে মেয়র বসানোর পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নামছে জামায়াত।

দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত না হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ নানা জায়গায় জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে বিশ্লেষণ। মেয়র পদে প্রার্থী চূড়ান্ত না হলেও অনেক এলাকায় কাউন্সিলর প্রার্থীরা সামাজিক কাজ শুরু করেছেন অন্তত এক বছর আগে থেকে। দলটির জোটসঙ্গী এনসিপি এরইমধ্যে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে প্রাথমিকভাবে দুইজনকে ঠিক করেছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

জামায়াত নেতারা বলছেন, সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ঢাকার ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তারা। যেসব আসনে জামায়াত পরাজিত হয়েছে, তার ব্যবধান খুবই সামান্য।

মোট ভোটের হিসাবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ১৫টি আসনে বিএনপির চেয়ে দেড় লাখের মতো ভোট কম পেয়েছেন জামায়াত জোটের প্রার্থীরা। জামায়াত নেতাদের ধারণা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাদের প্রার্থীরা আরও ভাল করবেন। ২০০৩ সালে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে একটি এবং ২০১৫ সালে ডিএনসিসিতে একটি সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে জয় পেয়েছিল জামায়াত।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করা না হলেও অনেক আগেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। দুই মেয়র ছাড়াও ১২৯টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর প্রার্থীও ঠিক করেছে দলটি। এখন পর্যন্ত কাউকে চূড়ান্ত মনোনয়ন না দিলেও সম্ভাব্য কাউন্সিলর এবং মেয়র প্রার্থীরা মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছেন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দীনকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র পদে মনোনয়নের জন্য চিন্তা করা হয়েছিল। তাছাড়া শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে। দুই জনই ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি। সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে সিলেট ৬ আসন থেকে ৮ হাজার ভোটে পরাজিত হন সেলিম উদ্দীন। আতিকুর রহমানকে ঢাকা-১১ আসনে মনোনয়ন দিয়েছিল জামায়াত। সমঝোতার কারণে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে আসনটি ছেড়ে দেন আতিকুর রহমান। এ আসন থেকে নাহিদ ইসলাম জয়ী হয়েছেন। সেই হিসেবে আতিকুর রহমানকে প্রার্থী করার বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তাছাড়া ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলামের নাম আলোচনায় থাকলেও তাদের মনোনয়ন দেওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।

সম্প্রতি ওয়ার্ড সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে একটি সভা করেছে ঢাকা উত্তর জামায়াত। সেখানে শাখা আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দীন বলেছেন, সংসদ নির্বাচনের ধারাবাহিকতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আরও বেশি ভালো ফল অর্জন করতে হবে। এ জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে নিজেদের কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আগের থেকে সাংগঠনিক ও সামাজিক কাজ আরও বৃদ্ধি করতে হবে।

‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন ঢাকা মহানগরী’ ঘোষণা করে দলটি। মিরপুরে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান নিজ হাতে ময়লা পরিষ্কার করে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পরে মহানগরীর প্রতিটি থানায় আলাদাভাবে এই কর্মসূচি পালন করে জামায়াত। জামায়াতের কাউন্সিলর প্রার্থীদের নেতৃত্বে এই কর্মসূচি অব্যাহত রাখার কথা বলেছেন দলের নেতারা।

অন্যদিকে জামায়াতের জোটসঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এরইমধ্যে তাদের প্রার্থী ঠিক করেছে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিএনসিসির মেয়র প্রার্থী হিসেবে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করেছে। আদীব সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে ১১ দলীয় জোট থেকে ঢাকা-১৮ আসনের প্রার্থী ছিলেন। বিএনপির প্রার্থীর কাছে পরাজিত হলেও ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট পান। তাছাড়া দলের পক্ষ থেকে নগর ও পরিবেশবিষয়ক সভা সেমিনারে প্রতিনিধিত্ব করে থাকেন তিনি।

চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করতে পারে এনসিপি। আসিফ মাহমুদ চব্বিশের অভ্যুত্থ্যান পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ছিলেন। সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে উপদেষ্টা পদ ছাড়েন তিনি। জাতীয় নির্বাচনের শুরু থেকেই এনসিপির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আসিফ। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে জোটসঙ্গী বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিনি। তাছাড়া ঢাকা-৮ আসন থেকে সংসদ নির্বাচনে পরাজিত প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর নাম আলোচনায় রয়েছে।

এদিকে ডিএসসিসির মেয়র পদে প্রার্থিতায় চমক দেখাতে পারে জামায়াত। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখ সারির যোদ্ধা ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েমকে প্রার্থী করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। সংসদ নির্বাচনের আগে সাদিকের ব্যাপারে আলোচনা উঠলেও শেষপর্যন্ত তাকে প্রার্থী করেনি জামায়াত। ডাকসুতে ছাত্রশিবিরের ভূমিধস বিজয় এনে দেন তিনি। ক্লিন ইমেজের তরুণ নেতা হিসেবে সাদিক কায়েমকে বাছাই করতে পারে জামায়াত। তাছাড়া ঢাকা-৭ আসনে অল্প ভোটের ব্যবধানে হেরে যাওয়া এনায়েতউল্লাহ এবং ঢাকা ৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের নামও আলোচনায় রয়েছে। ড. আব্দুল মান্নান জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সহকারী সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে ১১ দলীয় জোটের একাধিক নেতার সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোট কার্যকর থাকবে। এনসিপি ও খেলাফত মজলিসসহ অন্য দলগুলোর সমঝোতা করে নির্বাচনে অংশ নেবে জামায়াত। এনসিপি দুই সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঠিক করলেও জামায়াতের সঙ্গে এখনো কোনো সমঝোতা বৈঠক হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের এক নেতা জানান, এনসিপিসহ অন্য দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা ছিল, আগামীতেও থাকবে। এমনকি এই সমঝোতা রাজনৈতিক জোটে রূপ নিতে পারে। মেয়র পদ নিয়ে এই নেতা বলেন, ঢাকা থেকে মেয়র পদে জোটের প্রার্থী না থাকার সম্ভাবনাই বেশি। কাউন্সিলর পদে জোটের শরিকদের প্রার্থী আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য জামায়াত সব সময়ই প্রস্তুত থাকে। এখনো দলীয় বা জোটের প্রার্থী চূড়ান্ত হয়নি।

অপরদিকে সিটি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। গত শনিবার রাতে এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয় তারা। দলের কেন্দ্রীয় প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক শেখ ফজলুল করিম মারুফ দেশ রূপান্তরকে বলেন, নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলেও এখনো প্রার্থী ঠিক করা হয়নি। এ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ডিএসসিসি নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হতে পারেন হাজী আব্দুর রহমান। তিনি দলের কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রমবিষয়ক সম্পাদক। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তিনি ঢাকা-৭ আসনে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী ছিলেন। এর আগেও দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছিলেন আব্দুর রহমান।

ডিএনসিসিতে প্রার্থী করা হতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদকে। তিনি সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে ঢাকা-১১ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তাছাড়া এর আগের দুটি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী ছিলেন। ফজলে বারী সাঈদনগরে জামিয়া সাঈদিয়া করীমিয়া মাদ্রাসায় মুহাদ্দিস ও অধ্যক্ষের দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিএনসিসিতে প্রার্থী করা হতে পারে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদকে।

প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি : ঢাকার দুই সিটি ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে চিঠি এসেছে। নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ঈদের পর আমরা স্থানীয় নির্বাচনগুলো ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করব।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর মেয়র ও চেয়ারম্যানদের পদত্যাগের প্রেক্ষিতে সরকার ১২টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা, ৪৯৭টি উপজেলা পরিষদ ও জেলা পরিষদের জনপ্রতিনিধিদের বহিষ্কার করে। ইউনিয়ন পরিষদ ছাড়া বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠান প্রশাসকের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে আদালতের আদেশে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন শাহাদাত হোসেন।

ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। বর্তমানে রমজান মাস চললেও তারা সদ্য একটি নির্বাচন সম্পন্ন করেছেন এবং পর্যায়ক্রমে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে এবং কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ চলমান আছে। ভোটের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি জানান, প্রধান বিষয় হলো ভোটার তালিকা হালনাগাদ করা। এ ছাড়া প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্ট কমিশনের কাছে রয়েছে। গত নির্বাচনে ব্যবহৃত ব্যালট বাক্সসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংরক্ষিত আছে। জাতীয় নির্বাচন ইতিমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছোট নির্বাচনের ক্ষেত্রে প্রস্তুতিতে বড় ধরনের কোনো সংকট হবে না।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধিমালায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি নাএমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এখনো সে পর্যায়ে পৌঁছাইনি। রমজানের পর বিষয়টি দেখা হবে। তবে ধারণা, আইনে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

দলীয় মনোনয়নের বিধান (অর্ডিন্যান্স) পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে মেয়র পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন সংসদ বসবে। সংসদে এই বিল বা অর্ডিন্যান্স অনুমোদিত (রেটিফাই) হলে সে অনুযায়ী নির্বাচন হবে। আর যদি অনুমোদিত না হয় এবং আগের অবস্থায় ফিরে যায়, তাহলে নির্বাচন আগের আইন অনুযায়ী হবে। তিনি বলেন, পার্লামেন্টের প্রথম দিনই বিদ্যমান সব অর্ডিন্যান্স উপস্থাপন করা হবে। সেগুলো অনুমোদিত না হলে বাতিল হয়ে যাবে এবং আগের আইন বহাল থাকবে। সংসদ বসা পর্যন্ত কমিশন অপেক্ষা করবে। সে অনুযায়ী কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।