‘আমি এটাকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখি যে অভিষেক শর্মা তিনটি শূন্য করেছে। বড় মুহূর্তের জন্য সে নিজের সেরা খেলাটা জমিয়ে রেখেছে। প্রতিপক্ষ দলগুলো একটু চিন্তায় থাকবে, কারণ সে এখনো রান পায়নি।’
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম তিন ম্যাচ তারকা ওপেনারের শূণ্য রানে আউট হওয়ার বিষয়ে এই মন্তব্য করেছিলেন ভারতের ক্রিকেট ভাষ্যকার রবি শাস্ত্রী।
কিন্তু সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে অভিষেক শর্মা শূণ্য থেকে বের হলেও ভালো স্কোর করতে পারেননি, যার জেরে ১৮৮ রান তাড়া করতে নেমে ভারত গুটিয়ে গেছে মাত্র ১১১ রানেই। প্রোটিয়াদের কাছে ৭৬ রানের এই শোচনীয় পরাজয় বিশ্বকাপের ইতিহাসে ভারতের সবচেয়ে বড় হার। এমন বিপর্যয়ের জন্য অভিষেক শর্মার ফর্মহীনতার সমালোচনা করেছেন ভারতের আরেক কিংবদন্তী ক্রিকেট ভাষ্যকার সুনীল গাভাস্কার।
"অভিষেকের ব্যাটে এখন সেই সাবলীলতা নেই। নেটে আউট হলেও পরের বল খেলার সুযোগ থাকে, কিন্তু ম্যাচে সেই চাপ ব্যাটারকে আড়ষ্ট করে দেয়। দক্ষিণ আফ্রিকা তাকে খুব চতুরতার সাথে বল করেছে। তারা জানত অভিষেক জায়গা করে নিয়ে অফ-সাইডে খেলতে পছন্দ করে, তাই রাবাদা অনবরত তার প্যাড লক্ষ্য করে বোলিং করে তাকে হাত খোলার সুযোগই দেয়নি।"
আহমেদাবাদে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কিছুটা ইতিবাচক শুরু করেছিলেন অভিষেক। তবে ১২ বলে ১৫ রান করেই মার্কো জানসেনের নাকল বল বুঝতে না পেরে মিড-উইকেটে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।
সুনীল গাভাস্কার মনে করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটাররা যেভাবে ইনিংস গুছিয়েছিলেন, ভারত তার ধারেকাছেও যেতে পারেনি। প্রোটিয়ারা একসময় ২০ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল, সেখান থেকে ডেভিড মিলার (৬৩) এবং ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (৪৫) দলকে টেনে তোলেন।
গাভাস্কার বলেন, "মিলার আর ব্রেভিস যেভাবে ইনিংস পুনর্গঠন করেছে, সেটা দেখার মতো ছিল। পিচে বল কিছুটা থেমে আসছিল, তারা সেটা বুঝতে পেরেছিল। অথচ আমাদের ব্যাটাররা পরিস্থিতি না বুঝেই শুধু ব্যাট চালিয়েছে। উইকেটে টিকে থেকে ইনিংস গড়ার কোনো চেষ্টাই দেখা যায়নি।"
দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক অধিনায়ক শন পোলকের মতে, ভারতের ব্যাটিং ছিল একেবারেই অপরিকল্পিত। আহমেদাবাদের পিচ কেমন আচরণ করছে, তা বুঝতে চরম ভুল করেছে সূর্যকুমারের দল।
"ভারত একদমই মানিয়ে নিতে পারেনি। প্রোটিয়ারা এই মাঠে আগেই তিনটে ম্যাচ খেলেছিল, তাই তাদের ধারণা ছিল। শুরুর কঠিন সময়টা পার করার পর তারা হাত খুলে খেলেছে। ভারতের উচিত ছিল শুরুর চাপটা সামলানো, কিন্তু তারা শুরু থেকেই মারতে গিয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে খেই হারিয়ে ফেলে।"
এই হারের পর ভারতের নেট রান রেট দাঁড়িয়েছে -৩.৮০০। গ্রুপ ১-এ বর্তমানে তারা পয়েন্ট তালিকার নিচে অবস্থান করছে। সেমিফাইনালের আশা টিকিয়ে রাখতে হলে জিম্বাবুয়ে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে পরের দুটি ম্যাচ শুধু জিতলেই হবে না, বড় ব্যবধানে জিতে নেট রান রেটও শুধরে নিতে হবে।