তিন লিগে চাপে শীর্ষ দল, দুই লিগে স্বস্তির দৌড়

ইউরোপিয়ান শীর্ষ পাঁচ লিগে এখন দুটি ভিন্ন চিত্র। লা লিগা, প্রিমিয়ার লিগ ও ফ্রেঞ্চ লিগ ‘আঁ’তে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। আর বুন্দেসলিগা ও সিরি ‘আ’-তে শীর্ষে থাকা দুই দল অনেকটা নির্ভার। লা লিগায় লড়াইটা বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদের। প্রিমিয়ার লিগে আর্সেনালের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে ম্যানচেস্টার সিটি। ফরাসি লিগেও পিএসজিকে চ্যালেঞ্জের মুখে রেখেছে লাঁস। তবে বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ ও সিরি ‘আ’-তে ইন্টার মিলান শিরোপা দৌড়ে এখন পর্যন্ত বেশ ভালোভাবেই এগিয়ে আছে।

লা লিগা

রিয়াল মাদ্রিদ হোঁচট খাওয়ার সুযোগটি পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগাল বার্সেলোনা। রবিবার ক্যাম্প ন্যুতে অবনমনের শঙ্কায় থাকা লেভান্তেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে পুনরায় লা লিগার টেবিলের শীর্ষস্থান দখল করেছে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা।

গত সপ্তাহে জিরোনার কাছে ২-১ গোলে হেরে বার্সা দ্বিতীয় স্থানে নেমে গিয়েছিল। তবে লেভান্তের বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপট দেখিয়ে জয় তুলে নেয় তারা।

ম্যাচের মাত্র চার মিনিটেই বার্সাকে লিড এনে দেন ১৮ বছর বয়সী তরুণ প্রতিভা মার্ক বার্নাল। এরিক গার্সিয়ার নিচু ক্রস থেকে দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে গোলটি করেন তিনি। ৩২ মিনিটে জোয়াও ক্যান্সেলোর নিখুঁত ক্রস থেকে আনমার্কড অবস্থায় বল জালে জড়ান ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ং। বদলি হিসেবে নেমে ৮১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বাঁ-পায়ের জোরালো শটে দলের তৃতীয় গোলটি করেন ফার্মিন লোপেস। বলটি পোস্টে লেগে জালে জড়ায়।

এই জয়ের পর ২৫ ম্যাচ শেষে বার্সেলোনার পয়েন্ট এখন ৬১। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ গত শনিবার ওসাসুনার কাছে ২-১ গোলে হেরে যাওয়ায় ৬০ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে নেমে গেছে।

দল        ম্যাচ      জয়       ড্র          হার       গোল     পয়েন্ট

বার্সেলোনা          ২৫         ২০       ১          ৪           ৬৭/২৫             ৬১

রিয়াল মাদ্রিদ       ২৫         ১৯       ৩          ৩           ৫৪/২১  ৬০

ভিয়ারিয়াল          ২৫         ১৬       ৩          ৬           ৪৭/২৭              ৫১

আতলেতিকো       ২৫         ১৪       ৬          ৫           ৪২/২৩             ৪৮

রিয়াল বেতিস      ২৫         ১১       ৯          ৫           ৪০/৩০              ৪২

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ

৭২ ঘণ্টার দুঃস্বপ্ন কাটিয়ে উত্তর লন্ডনের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহ্যাম হটস্পারকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে শীর্ষের আর্সেনাল। এই বিধ্বংসী জয়ের পর গানার কোচ মিকেল আর্তেতা একে একটি ‘মানসিক মুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এই জয়ের ফলে ম্যানচেস্টার সিটির চেয়ে পাঁচ পয়েন্টের ব্যবধান পুনঃপ্রতিষ্ঠা করল আর্সেনাল। ম্যাচে আর্সেনালের হয়ে জোড়া গোল করেছেন এবেরেচি এজে এবং ভিক্টর গিয়োকেরেস।

গত বুধবার তলানির দল উলভসের বিপক্ষে ২-০ গোলে এগিয়ে থেকেও ২-২ ড্র করে শিরোপার ভাগ্য ম্যান সিটির হাতে তুলে দিয়েছিল আর্সেনাল। সেই হতাশাজনক ড্রয়ের পর খেলোয়াড়দের মানসিকভাবে চাঙ্গা করা ছিল আর্তেতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

ম্যাচ শেষে আর্তেতা বলেন, ‘আমি গত ৭২ ঘণ্টা আমাদের খেলোয়াড়দের মানসিক অবস্থা দেখে অত্যন্ত গর্বিত। উলভসের বিপক্ষে ড্রয়ের কোনো ব্যাখ্যা আমার কাছে ছিল না। রাগান্বিত, লজ্জিত এবং বিমর্ষ অবস্থা থেকে নিজেদের টেনে তোলা সহজ ছিল না। কিন্তু আজ আমরা মাঠে যা করেছি তা অসাধারণ।’

১৯৭৮ সালের পর টটেনহ্যামের মাঠে এটিই আর্সেনালের সবচেয়ে বড় জয়। ১৯৩৪-৩৫ মৌসুমের পর এবারই প্রথম একই মৌসুমে টটেনহ্যামকে দুবার ৩ বা তার বেশি গোলের ব্যবধানে হারাল গানাররা (গত নভেম্বরেও ৪-১ ব্যবধানে জিতেছিল আর্সেনাল)।

দল        ম্যাচ      জয়       ড্র          হার       গোল     পয়েন্ট

আর্সেনাল            ২৮        ১৮       ৭          ৩           ৫৬/২১  ৬৪

ম্যান সিটি            ২৭        ১৭       ৫          ৫           ৫৬/২৫              ৫৬

অ্যাস্টন ভিলা      ২৭        ১৫       ৬          ৬           ৩৮/২৮              ৫১

চেলসি    ২৭         ১২       ৯          ৬           ৪৮/৩১  ৪৫

ম্যান ইউ.            ২৬         ১২       ৯          ৫           ৪৭/৩৭              ৪৫

সিরি ‘আ’

সিরি ‘আ’র শিরোপা লড়াইয়ের লাগামটা এখন পুরোপুরিই ইন্টার মিলানের হাতে। বিশেষ করে গতকাল পার্মার কাছে এসি মিলানের ১-০ গোলের হারে এখন অবস্থান আরও সুদৃঢ় হয়েছে ইন্টারের। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে লিসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ইন্টার। ২৬ ম্যাচে দলটির পয়েন্ট ৬৪। সমান ম্যাচে এসি মিলানের পয়েন্ট ৫৪। ১০ পয়েন্টে এগিয়ে থাকা ইন্টারের হাত থেকে শিরোপা কেড়ে নিতে অতিনাটকীয় কিছুই করতে হবে মিলানসহ অন্যদের।

দল        ম্যাচ      জয়       ড্র          হার       গোল     পয়েন্ট

ইন্টার মিলান       ২৬        ২১       ১          ৪           ৬২/২১  ৬৪

এসি মিলান          ২৬        ১৫       ৯          ২           ৪১/২০  ৫৪

নাপোলি ২৬         ১৫       ৫          ৬           ৩৯/২৭              ৫০

রোমা     ২৬        ১৬       ২          ৮           ৩৪/১৬  ৫০

জুভেন্টাস            ২৬         ১৩       ৭          ৬           ৪৩/২৫              ৪৬

বুন্দেসলিগা

সিরি ‘আ’র ইন্টার মিলানের মতো বুন্দেসলিগায় শিরোপা লড়াইয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে বায়ার্ন মিউনিখ। ২৩ ম্যাচ শেষে বায়ার্নের পয়েন্ট ৬০। সর্বশেষ ম্যাচে আইনট্রাখট ফ্রাঙ্ক ফুর্টকে বায়ার্ন হারিয়েছে ৩-২ গোলে।

অন্যদিকে দুইয়ে থাকা বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ২-২ গোলে ড্র করেছে আরবি লাইপজিগের সঙ্গে। এই ড্রয়ের পর ডর্টমুন্ডের পয়েন্ট ২৩ ম্যাচে ৫২। ৩৪ ম্যাচের লিগে ৮ পয়েন্টে এগিয়ে থাকায় বায়ার্ন চাইলে এখনই শিরোপা স্বপ্ন দেখতে পারে।

দল        ম্যাচ      জয়       ড্র          হার       গোল     পয়েন্ট

ইন্টার মিলান       ২৬        ২১       ১          ৪           ৬২/২১  ৬৪

এসি মিলান          ২৬         ১৫       ৯          ২           ৪১/২০  ৫৪

নাপোলি ২৬         ১৫       ৫          ৬           ৩৯/২৭              ৫০

রোমা     ২৬         ১৬       ২          ৮           ৩৪/১৬  ৫০

জুভেন্টাস            ২৬        ১৩       ৭          ৬           ৪৩/২৫              ৪৬

লিগ ‘আঁ’

ফ্রেঞ্চ লিগ ‘আঁ’তে গত সপ্তাহে এক পয়েন্টে এগিয়ে থেকে শীর্ষে ছিল লাঁস। কিন্তু এবার লাঁসকে শীর্ষস্থান থেকে সরিয়ে দিয়ে চূড়ায় উঠেছে পিএসজি। ২৩ ম্যাচ শেষে পিএসজির পয়েন্ট ৫৪। নিজেদের সর্বশেষ ম্যাচে মেৎসকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। বিপরীতে মোনাকোর কাছে ৩-২ গোলে হেরে গেছে লাঁস, যা তাদের নামিয়ে দিয়েছে দুইয়ে। ২৩ ম্যাচ শেষে লাঁসের পয়েন্ট ৫২। তবে ব্যবধানটা যেখানে মাত্র ২ পয়েন্টের, নির্ভার হওয়ার সুযোগ নেই পিএসজির।

দল        ম্যাচ      জয়       ড্র          হার       গোল     পয়েন্ট

পিএসজি ২৩         ১৭       ৩          ৩           ৫২/১৯  ৫৪

লাঁস       ২৩         ১৭       ১          ৫           ৪৪/২০              ৫২

লিওঁ       ২৩         ১৪       ৩          ৬           ৩৭/২৩              ৪৫

মার্শেই    ২৩         ১২       ৪          ৭           ৪৮/৩১  ৪০

লিল       ২৩         ১১       ৪          ৮           ৩৬/৩১  ৩৭