২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক আগ্রাসনের মধ্যে দিয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের শুরু করছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। সে সময় ক্রেমলিনের ধারণা ছিল ১০ দিনের মধ্যেই ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া যাবে। কিন্তু ১ হাজার ৪৫০ দিনের বেশি সময় পর সেই সময়সীমা ভুল হিসাব হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে, বিপরীতে অর্জন খুবই সামান্য। একই সঙ্গে এই যুদ্ধ দেখিয়ে দিয়েছে, ইউক্রেন খুব দুর্বল বা বিশৃঙ্খল বলে যে ধারণা, তাও ছিল ভ্রান্ত। পাশাপাশি অজেয় বলে পরিচিত রাশিয়ার বিশাল সামরিক শক্তির ভাবমূর্তিও আঘাত পেয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং ‘দ্য ইকোনমিস্ট’-এর নিজস্ব মডেলিং থেকে পাওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া ইউক্রেনের চেয়ে অনেক বেশি সৈন্য হারাচ্ছে, অথচ তাদের ভূখণ্ড দখলের হার একেবারেই নগণ্য।
রুশ ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ পরিমাপ করতে দি ইকোনমিস্ট বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা এবং স্বাধীন গবেষকদের নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করেছে। এই তথ্যের সঙ্গে তাদের নিজস্ব ‘ওয়ার ট্র্যাকার’ থেকে প্রাপ্ত স্যাটেলাইট ডেটা ও প্রতিদিনের যুদ্ধের তীব্রতা বিশ্লেষণ করে মৃত্যুহারের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। সে তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার মোট হতাহতের সংখ্যা ১১-১৪ লাখের মধ্যে। এর মধ্যে ২ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার জন মারা গেছেন। এর অর্থ হলো, পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়সী প্রতি ২৫ জন রুশ পুরুষের মধ্যে একজন নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন। ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংক-ট্যাংক সিএসআইএস-এর ২৭ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত ইউক্রেনের মোট হতাহতের সংখ্যা ৬ লাখ। এর মধ্যে ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৪০ হাজার জন নিহত হয়েছেন। মোট সংখ্যার বিচারে রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতি কম হলেও জনসংখ্যার আনুপাতিক হারে এটি অনেক বেশি।
যুদ্ধের শুরুতে ইউক্রেনের ক্ষয়ক্ষতির হার বেশি ছিল। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে রাশিয়ার অভিযান আরও বেশি রক্তক্ষয়ী হয়ে উঠছে। বর্তমানে রাশিয়া প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার করে সৈন্য হারাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইকোনমিস্টের মডেলিং দেখাচ্ছে, গত এক বছরে রাশিয়ার যত সৈন্য মারা গেছে, তা যুদ্ধের প্রথম তিন বছরের মোট প্রাণহানির সমান হতে পারে। এত বিপুল প্রাণহানির বিনিময়ে রাশিয়ার অর্জন খুব বেশি নয়। ২০২৫ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের মাত্র ০.৮৩ শতাংশ ভূখণ্ড দখল করতে পেরেছে। ২০২২ সালের মে মাসে ‘মারিউপোল’ পতনের পর আর কোনো বড় শহর রুশদের নিয়ন্ত্রণে আসেনি। আভিদিভকা বা বাখমুতের মতো যে শহরগুলো তারা দখল করেছে, সেখানে রুশ পতাকা ওড়ানোর অনেক আগেই শহরগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছিল।