কানাডাকে সহযোগী সদস্যের প্রস্তাব ইইউর

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৩৪ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের তীব্র শুল্ক আরোপ এবং আগ্রাসী নীতির জবাবে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইতিহাসে প্রথম সহযোগী সদস্য করার প্রস্তাব দিয়েছেন জোটটির প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন। স্ট্রাসবার্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টে গতকাল বুধবার দেওয়া ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নিকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আপনার সঙ্গে কাজে আগ্রহী, যাতে কানাডাকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রথম সহযোগী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দুয়ার খুলে দেওয়া যায়।’ ইইউর পার্লামেন্টের সদস্যরা এই প্রস্তাবের সময় দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। আজ বৃহস্পতিবার কানাডার প্রধানমন্ত্রীর পার্লামেন্টে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

ফন ডার লিয়েন জানান, কানাডা ও ইইউ তাদের বিদ্যমান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ‘সেটা’-কে ভিত্তি করে একটি বৃহত্তর ভবিষ্যৎ জোট গড়ে তুলবে। এর মূল লক্ষ্য হবে একটি অভিন্ন সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন ‘প্রিয় মার্ক, ইউরোপ এবং কানাডা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে। আমরা বিশ্বাস করি ক্ষমতা কেবল সবচেয়ে শক্তিশালী, ধনী বা উচ্চকণ্ঠ মানুষের হাতে থাকা উচিত নয়; বরং এটি আমাদের সবার। গণতন্ত্রের স্বাধীনতা আছে নিজের কাজের অংশীদার বেছে নেওয়ার।’ ট্রাম্পের শুল্ক আরোপ এবং কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য বানিয়ে ফেলার বারবার হুমকির কারণে অটোয়াও এখন ইউরোপের সঙ্গে তাদের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক জোরদারে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

এই অংশীদারত্বের আওতায় আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সামগ্রী উৎপাদন, আর্কটিক অঞ্চল, জ্বালানি, গুরুত্বপূর্ণ খনিজসম্পদ, ব্যাটারি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে। ফন ডার লিয়েন বলেন, ‘এই অংশীদারত্ব কারও বিরুদ্ধে নয়, বরং আমাদের সম্মিলিত শক্তির জন্য। সংক্ষেপে, আমরা কানাডার সঙ্গে সম্পর্ককে সর্বোচ্চ সম্ভাব্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই।’ প্রস্তাবিত এই কাউন্সিলটিতে কানাডার পাশাপাশি, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন ও নরওয়েকে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। আলোচনা সম্পর্কে অবগত একজন কানাডীয় কর্মকর্তা গত সপ্তাহে বার্তা সংস্থা এপিকে জানিয়েছেন, একটি বৃহত্তর কৌশলগত অংশীদারত্বের অংশ হিসেবে অটোয়া এমন একটি ব্যবস্থা চাইবে যেখানে কানাডার নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই ইউরোপ ভ্রমণ ও কাজের সুবিধা পায়। যেহেতু সহযোগী সদস্য হিসেবে কানাডার ইইউতে যোগদান প্রক্রিয়া প্রথম, তাই এই প্রক্রিয়া কীভাবে সম্পন্ন হবে তা এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চলতি বছর জানুয়ারিতে দাভোসে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে কানাডার প্রধানমন্ত্রী কার্নি এক ভাষণে বিশ্বশক্তির প্রতিযোগিতার যুগে মধ্যম সারির ক্ষমতাধর দেশগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘যখন আমরা এককভাবে কোনো পরাশক্তির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করি, তখন আমরা দুর্বল অবস্থান থেকে আলোচনা করি। আমরা তখন কেবল তাদের প্রস্তাবই মেনে নিই।’ কার্নি আরও যোগ করেন, ‘এটি সার্বভৌমত্ব নয়; বরং সার্বভৌমত্বের অভিনয় মাত্র, যেখানে আসলে আমরা অধীনতা স্বীকার করছি।’ কার্নির সেই ভাষণের পর ট্রাম্প তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করেছিলেন। এখন ভন ডার লিয়েনের এই নতুন প্রস্তাব ট্রাম্পের সঙ্গে কানাডার চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। ইইউর সদস্যপদ লাভে ২৭টি দেশের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত