ক্রিকেট মাঠে শচিন টেন্ডুলকার মানেই ছিল শৈল্পিক সব শট আর রানের বন্যা। কিন্তু এই কিংবদন্তির ক্যারিয়ারে বহুবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন একজন মানুষ আম্পায়ার স্টিভ বাকনর। ব্রিসবেনের গ্যাবা থেকে শুরু করে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ, বাকনরের কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের মনে ক্ষোভ আর বিস্ময় জাগায়।
২০০৩ সালে ব্রিসবেনের বাউন্সি উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হয়েছিল ভারত। অজি পেসার জেসন গিলেস্পির একটি ডেলিভারি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন টেন্ডুলকার। কিন্তু বলটি প্যাডে আঘাত হানতেই আঙুল তুলে দিলেন স্টিভ বাকনর। অথচ খালি চোখেই বোঝা যাচ্ছিল, বলটি স্টাম্পের অনেক ওপর দিয়ে চলে যেত। শচিন নিজেও এই সিদ্ধান্তে হতবাক হয়ে ক্রিজে দাঁড়িয়ে ছিলেন কিছুক্ষণ।
ধারাভাষ্য বক্সে কিংবদন্তি টনি গ্রেগ তখন ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেছিলেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ সিদ্ধান্ত। বলের উচ্চতা আর মুভমেন্টের দিকে তাকালেই বোঝা যায় এটি আউট ছিল না।’ পরে রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি স্টাম্পের বেশ ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। যেহেতু তখন রিভিউ পদ্ধতি ছিল না, তাই আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হয়েছিল।
দীর্ঘ ২০ বছর পর ব্রিসবেনের ঐতিহাসিক সেই ভুলের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ৭৯ বছর বয়সী স্টিভ বাকনার। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেট আম্পায়ার্স অ্যাসোসিয়েশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেই সিদ্ধান্তটি ভুল ছিল, ‘শচিনকে এলবিডব্লিউ দেওয়াটা যে ভুল ছিল, তা আমি জানি। আজও প্রতিদিন মানুষ এটা নিয়ে কথা বলে কেন আউট দিলাম? ও কি আদৌ আউট ছিল? আসলে জীবনে ভুল হয়েই থাকে। আমি স্বীকার করছি ওটা ভুল ছিল, আর জীবন তার আপন গতিতেই চলে।’
গ্যাবার ঘটনার দুই বছর পর আবারও একই দৃশ্য। এবার প্রতিপক্ষ পাকিস্তান। বোলার আব্দুল রাজ্জাকের একটি বল শচিনের ব্যাটকে কোনো স্পর্শ না করেই উইকেটরক্ষকের গ্লাভসে জমা হয়। খুব জোরালো আবেদন না হওয়া সত্ত্বেও সবাইকে অবাক করে দিয়ে শচিনকে আউটের সংকেত দেন বাকনর। সেই ম্যাচেও শচিনকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল চরম এক অবিচারের শিকার হয়ে।
স্টিভ বাকনরের সঙ্গে নিজের এই অমøমধুর সম্পর্ক নিয়ে গত বছর এক পডকাস্টের ‘আস্ক মি এনিথিং’ সেশনে মজার এক মন্তব্য করেছিলেন শচিন। একজন ভক্ত যখন তাকে বাকনর সম্পর্কে কিছু বলতে বলেন, শচিন রসিকতা করে উত্তর দেন, ‘আমি যখন ব্যাটিং করি, তাকে বক্সিং গ্লাভস পরিয়ে রাখা উচিত (যাতে তিনি আঙুল তুলতে না পারেন)!’