গাজায় ত্রাণ নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টে এনজিও

আন্তর্জাতিক ১৭টি ত্রাণ সংস্থা গাজা, অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে তাদের কার্যক্রম বন্ধের সরকারি নির্দেশ স্থগিত করতে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছে। আগামী ১ মার্চ থেকে ৩৭টি সংস্থাকে কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) যৌথ বিবৃতিতে সংস্থাগুলো জানায়, পূর্ণাঙ্গ বিচারিক পর্যালোচনা না হওয়া পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখতে তারা জরুরি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ চেয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, সংস্থাগুলোর নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে এবং নবায়নের জন্য ৬০ দিনের মধ্যে ফিলিস্তিনি কর্মীদের বিস্তারিত তালিকা জমা দিতে হবে।

ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ), অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল ও কেয়ারসহ বড় সংস্থাগুলো সতর্ক করে বলেছে, এই শর্ত মানলে তাদের কর্মীরা ঝুঁকিতে পড়বেন, মানবিক নিরপেক্ষতার নীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং ইউরোপীয় তথ্য সুরক্ষা আইন লঙ্ঘিত হতে পারে।

অক্সফাম জানিয়েছে, ত্রাণ কার্যক্রম বন্ধ হওয়া কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে পারে, যার প্রভাব পুরো মানবিক ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক ও সুদূরপ্রসারী হবে। সংস্থাগুলোর দাবি, কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য দিতে বাধ্য করা হলে এনজিওগুলো কার্যত সংঘাতের এক পক্ষের তথ্যসংগ্রহকারী বাহিনীতে পরিণত হবে। 

জাতিসংঘের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গাজায় অন্তত ১৩৩ জন এনজিওকর্মী নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে এমএসএফের ১৫ জন কর্মী রয়েছেন। ত্রাণ সংস্থাগুলো বলছে, তাদের কার্যক্রম বন্ধ হলে গাজায় 'মানবিক বিপর্যয়' দেখা দেবে, যেখানে ২০ লাখের বেশি মানুষের অধিকাংশই খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের জন্য সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। সংস্থাগুলো জানিয়েছে, কর্মীদের তালিকা সরাসরি হস্তান্তরের বদলে দাতাদের তত্ত্বাবধানে যাচাইকরণ ব্যবস্থাসহ বিকল্প প্রস্তাব তারা দিয়েছে।