ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে মন্দিরের সম্পত্তি উদ্ধারের দাবিতে মানববন্ধনে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ কমপক্ষে ১০ জন আহত হয়। এ নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
আজ বুধবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে উপজেলার অরুয়াইল ইউনিয়নের বাদে অরুয়াইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার মুখেই বিক্ষোভ কর্মসূচি চালিয়ে যায় হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে ছুটে আসে।
দুপুর ২টার দিকে শ্রী শ্রী মোহনলাল জিউর মন্দির থেকে শত শত নারী-পুরুষের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হন। মিছিলকারীরা দখল হয়ে যাওয়া জায়গায় গিয়ে শ্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় সহিদ মিয়া ও তার লোকজন বাঁধা দেন। এক পর্যায় রোকন উদ্দিন নামে এক যুবক কয়েকজনকে নিয়ে বিক্ষোভকারিদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন। মুহূর্তেই ২০-২৫ জন এসে লাঠিসোটা নিয়ে হামলা করে। এতে কমপক্ষে ১০ জন আহত হন। আহতরা সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।
মন্দির কমিটির নেতারা জানান, মন্দিরের জায়গা নিয়ে মামলা চলমান অবস্থায় প্রতিবেশী সহিদ মিয়া বালু ফেলে জায়গা দখল করেন। এ ছাড়া খালের ওপর মাটি ফেলেছেন তিনি। মন্দিরের জায়গা রক্ষার দাবিতে মানববন্ধন করতে গেলে হামলা চালানো হয়। রোকন নামে এক যুবক প্রথমে কয়েকজনকে উস্কে দিয়ে ঢিল ছোঁড়েন। পরে অন্যরা হামলা চালায়।
যাদব ঘোষ নামে গ্রামের এক প্রবীণ ব্যক্তি বলেন, আমরা অসহায়। মানববন্ধন করতে এসেও এখন হামলার শিকার হতে হলো। আমরা এর বিচার চাই।
অভিযুক্ত সহিদ মিয়া বলেন, মন্দিরের জায়গায় তিনি মাটি ফেলননি। যেটি খাল দেখা যায় সেটি আসলে জমি। তাদের মানববন্ধনে আমরা হামলা করিনি। একটি চক্র এটার পেছনে কাজ করছে।
এ ব্যাপারে অরুয়াইল ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশারফ হোসেন বলেন, জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছে। দুই পক্ষই নিজের জায়গা বলে দাবি করে। আদালতে মামলা চলমান বিধায় বিষয়টি মীমাংসা করা যায়নি। খাল দখল করতে সহিদ মিয়াকে নিষেধ করা হয়। দিনে না করে রাতে তিনি খাল ভরাট করে ফেলে।