প্রায় চার বছর আগে না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ান স্পিন কিংবদন্তি শেন ওয়ার্ন। তবু স্মৃতিতে তিনি আজও জীবন্ত। বিশেষ করে নিউজিল্যান্ড জাতীয় ক্রিকেট দলর লেগ স্পিনার ইশ সোধির কাছে। ওয়ার্নকে আদর্শ মানা সোধি এখনো মাঝেমধ্যে খুদে বার্তা পাঠান! তিনি জানেন, কখনো এর উত্তর আসবে না। তবু মনে করেন, কোনো না কোনোভাবে বার্তাটি পৌঁছে যায়।
ওয়ার্নের বিখ্যাত ডেলিভারি ‘ফ্লিপার’ আয়ত্ত করার চেষ্টা করছেন সোধি। পিচে পড়ে দ্রুত স্কিড করা এই বলটি নিয়েই দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। এক সাক্ষাৎকারে সোধি বলেন, ‘এটা এমন একটা বল, যেটা নিয়ে আমি অনেকদিন ধরে কাজ করছি। পুরোনো ধাঁচের ফ্লিপার। ওয়ার্নি যেভাবে শিখিয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই। ছোটবেলায় ওয়ার্নির ফ্লিপার দেখা ছিল আমার নেশার মতো। গত কয়েক বছরে এসে আমি এটা একটু বেশি ব্যবহার করছি। তবে এটা পুরোপুরি ওনার মতো হয় না। এটা আমার নিজের সংস্করণ—একটু দ্রুতগতির।’
রাজস্থান রয়্যালসে খেলার সময় ওয়ার্নের কাছ থেকে ফ্লিপারের কিছু কৌশল শিখেছিলেন সোধি। সেই স্মৃতি এখনো তাজা, ‘মাঝেমধ্যে আমি ওয়ার্নিকে একটা বার্তা পাঠাই। কোনো ম্যাচে ফ্লিপার থেকে উইকেট পেলে ভিডিও পাঠিয়ে লিখি- “ওয়ার্নি, তুমি যদি এটা দেখতে পারতে!” জানি, উনি এই বার্তা পাবেন না। কিন্তু রাজস্থান রয়্যালসে ওনার সঙ্গে যেসব মুহূর্ত কাটিয়েছি, ফ্লিপার নিয়ে যে টিপস দিয়েছিলেন, সেগুলো আজও মনে আছে। দুঃখ লাগে, উনি এটা সামনে থেকে দেখতে পারছেন না।’
২০২২ সালের মার্চে থাইল্যান্ডে ছুটি কাটাতে গিয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান ওয়ার্ন। বয়স হয়েছিল মাত্র ৫২ বছর। ক্রিকেটার হিসেবে যতটা প্রভাবশালী ছিলেন, মেন্টর হিসেবেও ছিলেন ততটাই অনুপ্রেরণাদায়ক। রাজস্থান রয়্যালসর অধিনায়ক ও পরবর্তীতে মেন্টর হিসেবে অনেক তরুণকে গড়ে তুলেছেন তিনি। ওয়ার্ন নেই, কিন্তু তার ছায়া আছে ইশ সোধির ঘূর্ণিতে, আর প্রেরিত কিছু খুদে বার্তায়।
উল্লেখ্য, চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত দুটি ম্যাচ খেলেছেন সোধি। পাকিস্তানের বিপক্ষে বল করার সুযোগ না পেলেও কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কোনো উইকেট পাননি। তবে কিপ্টে বোলিংয়ে দিয়েছেন ১৩ রান। ৬১ রানের সেই জয়ে স্বাগতিকদের বিদায় নিশ্চিত করে নিউজিল্যান্ড।