তবু অনিশ্চিত ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২’

এ যেন মুক্তির আগেই অগ্নিপরীক্ষা। একদিকে সেন্সরের কাঁচি, অন্যদিকে আদালতে নিষেধাজ্ঞা এসব নিয়ে বেশ চাপে রয়েছেন ‘দ্য কেরালা স্টোরি ২ : গোজ বিয়ন্ড’র নির্মাতারা। অবশেষে সিনেমাটি ইউ/এ ১৬+ প্রশংসাপত্র পেয়েছে, তবে তার আগে মানতে হয়েছে ১৬টি বড় কাটছাঁটের নির্দেশ। এই ছাড়পত্র দিয়েছে সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি)। বোর্ডের আপত্তির কেন্দ্রে ছিল ঘনিষ্ঠতা ও যৌন হিংসার দৃশ্য। চুম্বন ও ধর্ষণের দৃশ্য ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। একটি নির্দিষ্ট লিপ-লক দৃশ্য সাত সেকেন্ড ছাঁটা হয়েছে আর ধর্ষণের দৃশ্য কমানো হয়েছে ২০ সেকেন্ড। তাও আবার দুটি আলাদা দৃশ্য। একটিতে এক নারীকে চড় মারা, অন্যটিতে এক নারীর মাথায় আঘাত। দুটিই দুই সেকেন্ড করে ছোট করতে হয়েছে। শুধু দৃশ্য নয়, সংলাপেও পড়েছে কাঁচি। তিনটি সংলাপ পরিবর্তন করা হয়েছে এবং একটি শব্দ নিঃশব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্তের বাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভাঙার দৃশ্যেও সংশোধন চেয়েছে বোর্ড।

এখানেই শেষ নয়। সিবিএফসি নির্দেশ দিয়েছে, সিনেমার শুরুতে স্পষ্ট ঘোষণা রাখতে হবে যে এটি ‘সত্য ঘটনা অবলম্বনে’। সেই ঘোষণা পর্দায় থাকবে অতিরিক্ত ২ মিনিট ৩ সেকেন্ড এবং তার সঙ্গে থাকবে ভয়েসওভার। নির্মাতাদের সম্পূর্ণ চিত্রনাট্য ও সংলাপ জমা দিতে হয়েছে, পাশাপাশি এমন নথিও দিতে হয়েছে, যা প্রমাণ করে এর কাহিনি বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতে তৈরি। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিল্পীর অভিনয়-সংক্রান্ত সম্মতিপত্রও বোর্ডে জমা পড়েছে। সব শর্ত পূরণের পর সিনেমাটির ছাড়পত্র মিলেছে। এর চূড়ান্ত দৈর্ঘ্য ১৩১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড। অর্থাৎ ২ ঘণ্টা ১১ মিনিট ২৪ সেকেন্ড। আজ শুক্রবার মুক্তি পাচ্ছে সিনেমাটি। তবে এর মুক্তি ঘিরে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। এটি নিষিদ্ধ করার দাবিতে একাধিক আবেদন জমা পড়েছে। জানা গেছে, কেরালা হাইকোর্ট রায় দেওয়ার আগে সিনেমাটি দেখে নেবে। প্রথম পর্ব নিয়েই দেশ জুড়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। দ্বিতীয় পর্বেও সেই বিতর্ক যেন নতুন করে জেগে উঠেছে। এখন সেন্সরের ১৬ কাটের পর আদালতের রায়ে শেষ পর্যন্ত কী হয় সেটাই দেখার বিষয়।

এবারের সিনেমায় শুধু কেরালার গল্প নয়। ট্রেলারের প্রথম দৃশ্যে দেখা যায়, রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ এবং কেরালার তিনটি ভিন্ন শহরে তিন তরুণীর জীবন কেমনভাবে সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় চাপের মধ্যে আটকে গেছে। রাজস্থানে ভুয়া পরিচয়ে বিয়ে, মধ্যপ্রদেশে ধর্মান্তরের চাপ, আর কেরালায় একটি আন্তঃধর্মীয় সম্পর্ক এই তিনটি গল্প মিলিয়ে সিনেমার মূল কাঠামো গড়ে উঠেছে। টিজারে নির্মাতাদের দেওয়া বার্তাটি স্পষ্ট, ‘তারা আমাদের মেয়েদের লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছে... এবার আমরা নীরব থাকব না।’