শরীয়তপুর-চাঁদপুর সড়কের মধ্যপাড়া এলাকায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি সেতুর ওপর ট্রাক বিকল হয়ে পড়ে আছে। এ কারণে আজ শুক্রবার সকাল হতে ওই সড়কে পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বেইলি সেতুর দুই প্রান্তে অন্তত শতাধিক যানবাহন আটকে থাকায় সৃষ্টি হয়েছে যানজট।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ) সূত্র জানায়, দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১টি জেলার পণ্য ও যাত্রীবাহী যানবাহন সহজে চট্রগ্রাম অঞ্চলে যাতায়াতের জন্য ২০০১ সালে চাঁদপুর-শরীয়তপুর আঞ্চলিক সড়কটি চালু করা হয়। সড়কটি সরু ও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লে তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় সরকার। ২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে জেলা শহরের মনোহর বাজার হতে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ইব্রাহীমপুর পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার সড়ক পুননির্মাণ করার জন্য ৮৬০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদ করা হয়। সড়ক প্রশস্ত ও সড়কে থাকা সেতু ও কালর্ভাট নির্মাণ করার জন্য ৪টি গুচ্ছ প্রকল্পের (প্যাকেজ) আওতায় ২০২০ সালে আলাদাভাবে দরপত্র দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি অংশের ৬ কিলোমিটার সড়ক ও ৫টি সেতু-কালর্ভাট নির্মাণ করা হয়েছে। আর জমি অধিগ্রহণ শেষ না হওয়ায় সড়কটির বাকি ২৯ কিলোমিটার সড়ক ও ৩৫টি সেতু-কালভার্ট নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
২০২২ সালে সড়কটির সদর উপজেলার মধ্যপাড়া এলাকায় থাকা একটি কালভার্ট ভেঙে যায়। তথন স্থানীয় সওজ বিভাগ ভাঙা কালভার্টের ওপর একটি বেইলি সেতু স্থাপন করে। সম্প্রতি সেটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। বেইলি সেতুর পাশ দিয়ে একটি বিকল্প পথ তৈরি করছে সওজ বিভাগ।
শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বালুবোঝাই একটি ট্রাক বেইলি সেতুর ওপর উঠে বিকল হয়ে পড়ে। তখন পথে চলাচলকারী যানবাহন দুই প্রান্তে আটকে যেতে থাকে। এরপর সেতুর পাশ দিয়ে নির্মাণাধীন বিকল্প মাটির পথ দিয়ে স্থানীয় ছোট যানবাহন চলতে থাকে। সকাল ১০টার দিকে সেখানেও আরেকটি ট্রাক মাটিতে দেবে যায়। তখন ওই পথটি দিয়েও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
শরীয়তপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে লোক পাঠিয়েছি। তবে বেইলি সেতু যেহেতু ভাঙেনি, ট্রাক বিকল হয়েছে সেখানে আমাদের কোনও কাজ নেই। তবে বিকল্প মাটির সড়কটিতে যেহেতু ট্রাক দেবে গেছে। সেটার কাজ করা হবে।