সম্পর্ক মেরামতের সফর

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি গতকাল শুক্রবার ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাই পৌঁছেছেন। কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই কার্নির প্রথম ভারত সফর। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের তিক্ত সম্পর্ক মিটিয়ে নতুন বৈশ্বিক জোট গড়ার লক্ষ্যে এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মনে করা হচ্ছে।

মুম্বাইয়ে ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের মাধ্যমে কার্নি একটি ব্যাপকভিত্তিক বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শুরু করবেন, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরপর তিনি নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধ এবং কানাডা দখলের হুমকির মুখে মার্ক কার্নি আমেরিকার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে চীন, মধ্যপ্রাচ্য এবং ভারতের মতো দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে চাইছেন। তিনি এ নতুন বিশ্ব বাণিজ্য ব্যবস্থাকে ‘মিডল পাওয়ার’ বা মধ্যম শক্তির দেশগুলোর নেতৃত্বাধীন ব্যবস্থা হিসেবে অভিহিত করেছেন।

কানাডা ও ভারতের সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল কয়েক বছর আগে। কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সে দেশে এক শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তোলায় পর দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটে।

ভারত বরাবরই হত্যার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। ট্রুডো আমলে কানাডায় অশান্তির পেছনে ভারতকে দায়ী করা হলেও সম্প্রতি সুর বদলেছে কানাডা। দেশটিতে অশান্তি ও সংগঠিত অপরাধের সঙ্গে ভারত আর জড়িত নয় বলা হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, কার্নি ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বা প্রবাসীদের তুষ্ট করার চেয়ে কানাডার অর্থনীতিতে পুঁজি আকর্ষণের দিকেই বেশি নজর দিচ্ছেন।

বিজনেস কাউন্সিল অব কানাডার প্রেসিডেন্ট গোল্ডি হায়দার বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য এখন কানাডায় বিনিয়োগ আনা, দেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় প্রবাসীদের নিয়ে নাড়াচাড়া করা নয়। এটি একটি ব্যবসায়িক সফর, যা ট্রুডো আমলের তুলনায় এক বিশাল পরিবর্তন।’

গত মাসে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তির পর কানাডাও একই পথে হাঁটতে চাইছে। অটোয়ায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার জানুয়ারিতে রয়টার্সকে জানিয়েছিলেন, এ সফরে কার্নি ২ দশমিক ৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের (২.০৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) একটি ১০ বছর মেয়াদি ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তি সই করতে পারেন। এ ছাড়া তেল-গ্যাস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), কোয়ান্টাম কম্পিউটিং এবং শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক ছোট ছোট আরও কিছু চুক্তি হতে পারে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী অনিতা আনন্দ জানিয়েছেন, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে ভারতের শীর্ষ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে এবং প্রবাসীদের ডিজিটাল হুমকি ও নজরদারি থেকে রক্ষায় নতুন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।