ফরিদপুরের মধুখালীতে অবস্থিত ‘ফরিদপুর চিনি কল লিমিটেড’র অপরিশোধিত তরল বর্জ্যে দূষিত হচ্ছে চন্দনা নদী। বর্জ্যে পানি দূষণের কারণে মাছ মারা যাওয়ার পাশাপাশি স্থানীয়রা নদীর পানি কোনও কাজেই ব্যবহার করতে পারছেন না। দুর্গন্ধে নদী পাড়ের বাসিন্দাদের নাভিশ্বাস অবস্থা। এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিন দেখা যায়, মধুখালী থানা গেট সংলগ্ন খাল দিয়ে পানি এসে পড়ছে চন্দনা নদীতে। এতে চন্দনা নদীর এক পাশের পানি পরিষ্কার ও অন্য পাশে চিনিকলের বর্জ্যে কালো রঙ ধারণ করেছে। এক মাসে আগেও যেখানে নদীর পানি স্বচ্ছ ছিল এখন তা কালচে হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
চিনিকলের কাছে গিয়ে দেখা যায়, বর্জ্য বের হওয়ার নালা বন্ধ করা থাকলেও পানির চাপে তা কার্যকর হচ্ছে না। মিলগেট এলাকায় একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলে জানা যায়, কিছুদিন আগে চিনিকলের যান্ত্রিক ত্রুটি ও শ্রমিকদের অসতর্কতার কারণে অনেক আখের রস নষ্ট হয়েছে। সেগুলো খাল ও নদীতে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।
মধুখালী বাজারের বাসিন্দা ও শিক্ষক বৈদ্যনাথ সরকার জানান, চিনিকলের বর্জ্য নদীর পানিতে মিশে যাচ্ছে। নদীর পানিতে কোনও কাজ করা তো দূরের কথা, দুর্গন্ধে কাছ দিয়ে হেঁটে যাওয়াও সম্ভব হচ্ছে না।
উপজেলার পশ্চিম গাড়াখোলা চন্দনা নদী পাড়ের বাসিন্দা মো. জিলাল হোসেন জানান, চিনিকলের বর্জ্যে চন্দনা নদীর পানি কালচে ও দুর্গন্ধ হয়েছে। এই দূষিত পানিতে মাছসহ কোনও পোকামাকড়, জলজ প্রাণী বাঁচা অসম্ভব।
মধুখালী বাজারে বসবারকারী সুমন সরকার, মনি বালা ও পুষ্প রানী বলেন, আমরা স্নানসহ পরিবারের কোনও কাজই করতে পারছি না। দেখার কেউ নাই।
ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তারেক ফরহাদ এ বিষয়ে মুঠোফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ রকম ঘটনা ঘটেনি, আমরা যথেষ্ট সাবধানতা অবলম্বন করে বর্জ্য আমাদের নিজস্ব স্থানে ফেলছি। দুই-চার ফোঁটা পানি যেতে পারে তবে এখন পর্যন্ত কোনও মাছ মরেনি।
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিব হোসেন বলেন, মিলের বর্জ্যরে কারণে নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে। এ বিষয়ে মিল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওশনা জাহান বলেন, মিল কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে যে তাদের ইটিপি রয়েছে এবং তারা মিলের বর্জ্য নিজেদের পুকুরে ফেলে। যাহোক এ বিষয়টির দ্রুত সমাধান করা হবে।