ইরান ও ইসরায়েলের সামরিক সংঘাত হঠাৎ করেই বৈশ্বিক বিমান চলাচলে বড় ধরনের সংকট তৈরি করেছে। দুদেশের উত্তেজনার জেরে গতকাল শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে তৈরি হয় নজিরবিহীন অচলাবস্থা। একের পর এক দেশ আকাশসীমা বন্ধ করে দিলে আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এতে শুধু ওই অঞ্চলের নয়, ইউরোপ-এশিয়া ট্রানজিট রুটেও বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের শত শত ফ্লাইট বাতিল, রুট পরিবর্তন বা স্থগিত হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন লাখো যাত্রী।
সংঘাতের পরপরই আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করে ইরান ও ইসরায়েল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে পরে একই পথে হাঁটে ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিরিয়া এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফ্লাইট ট্র্যাকিং সংস্থার মানচিত্রে ওই অঞ্চলের আকাশ প্রায় ফাঁকা দেখা গেছে।
অ্যাভিয়েশন ডেটা অনুযায়ী, ইসরায়েলগামী প্রায় ৪০ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল হয়েছে এবং পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে অন্তত ৬ থেকে ৭ শতাংশ ফ্লাইট বাতিল বা বিকল্প পথে ঘুরিয়ে নিতে হয়েছে। এতে ফ্লাইট সময় বাড়ার পাশাপাশি অপারেশনাল খরচও বেড়ে যায়। সংঘাতের প্রথম দিনেই প্রায় ৩৪০০ নির্ধারিত ফ্লাইটের মধ্যে অন্তত ৩০০ ফ্লাইট বাতিল হয়। কোনো কোনো ফ্লাইটের সময় পরিবর্তন হয়। অনেক ফ্লাইট মাঝপথ থেকে ঘুরে নিজ দেশে ফিরে গেছে।
বাংলাদেশ থেকে সব মধ্যপ্রাচ্য রুট বন্ধ : সংকটের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বিমান চলাচলেও। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব গন্তব্যে ফ্লাইট সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে জেদ্দা, মদিনা, রিয়াদ, দাম্মাম, দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও কুয়েত রুট।
গতকাল শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব গন্তব্যের নির্ধারিত যাত্রীদের সরাসরি বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ না করে বিমানবন্দরে না যেতে অনুরোধ করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বন্ধ থাকায় বিকল্প রুটেও ফ্লাইট পরিচালনা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট রুটের নির্ধারিত কয়েকটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট বাতিল, বিলম্ব অথবা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে বলে সিভিল অ্যাভিয়েশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফ্লাইট বাতিল বা বিলম্ব-সংক্রান্ত তথ্য যাত্রীদের এসএমএস, ই-মেইল ও কল সেন্টারের মাধ্যমে অগ্রিমভাবে জানাতে হবে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের স্টাফদের বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে যাত্রীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও দিকনির্দেশনা নিশ্চিত করতে হবে। ভোগান্তি এড়াতে পুনর্নির্ধারিত ফ্লাইটের বিষয়ে স্পষ্ট ও সমন্বিত তথ্য দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উল্লিখিত রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনায় থাকা যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনস অফিস বা ট্রাভেল এজেন্সির সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের বর্তমান অবস্থা যাচাই ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত যাত্রী নিরাপত্তা ও অপারেশনাল স্বাভাবিকতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সমন্বিত সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও আগমনী ছয়টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
যাত্রীদের চরম ভোগান্তি : ঢাকা, ইস্তাম্বুল, দোহা ও দুবাইয়ের মতো বড় হাবগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা গেছে যাত্রীদের। নির্ধারিত সময়ের কোনো নিশ্চয়তা না থাকায় অনেকে হোটেল খরচ, খাবার ও নতুন টিকিট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে হঠাৎ অচলাবস্থা শুধু আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল নয়, সবচেয়ে বড় ধাক্কা দিয়েছে ওমরাহ যাত্রীদের। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের জেরে মধ্যপ্রাচ্যে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লি পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।
মক্কায় হজ টার্মিনাল থেকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা তরিকুল ইসলাম জানান, ওমরা শেষে ইন্ডিগো এয়ারলাইনসে তার ঢাকা ফেরার কথা ছিল। কিন্তু বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি।
ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা আব্দুল্লাহ আল শাহীন ও মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ওমরা পালন শেষে তারা এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু মাঝপথে বিমানটি আবার জেদ্দায় ফিরে এসেছে।
বিমান যাত্রীরা জানান, তারা হোটেল ছেড়ে দিয়েছেন। এখন নতুন করে হোটেল পাওয়াও মুশকিল। তাছাড়া এতে খরচও বাড়বে অনেক।
প্রবাসী শ্রমিকদের দুর্ভোগ : বাংলাদেশি প্রবাসী কর্মীদের ওপর এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি। অনেকেই ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে পারছেন না। আবার নতুন ভিসা নিয়ে যারা যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন, তাদের যাত্রাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। ওমরাহ যাত্রীদের একটি বড় অংশের সফর স্থগিত হয়েছে।
ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গতকাল বিভিন্ন গন্তব্যে যাওয়া যাত্রীদের ভিড় দেখা যায়। ফ্লাইট বন্ধের খবর শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন যাত্রীরা। কেউ কেউ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চুয়াডাঙ্গার আরিফুল ইসলাম নামের এক প্রবাসী শ্রমিক জানান, সোমবার তার কর্মস্থলে যোগদানের কথা। এখন সময়মতো পৌঁছাতে পারবেন কি-না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
কাজের সন্ধানে প্রথমবার বিদেশ যাচ্ছেন যশোরের জুয়েল রানা। তিনি জানান, অনেক আশা নিয়ে বিমানবন্দরে এসে দেখি ফ্লাইট বন্ধ। কখন চালু হবে জানি না। শেষ পর্যন্ত বিদেশে যাওয়া হবে কি-না তা নিয়েও চরম অনিশ্চয়তায় উদ্বিগ্ন তিনি।
ট্রানজিট যাত্রীদের করুণ অবস্থা : যারা ইতিমধ্যে পথে ছিলেন তাদের অবস্থা আরও ভয়াবহ। কেউ দোহায় আটকে, কেউ ইস্তাম্বুলে, কেউ দুবাইয়ে। ট্রানজিট ভিসা না থাকায় বিমানবন্দরেই থাকতে হচ্ছে। বহু কানেক্টিং ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে যাত্রীদের। এর ফলে থাকা-খাওয়া নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অভিজ্ঞ উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহিম। ওমরা পালন শেষে দুবাই হয়ে দেশে ফেরার পথে তিনি এখন জেদ্দা বিমানবন্দরে অবস্থান করছেন।
অল্পের জন্য ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছেন অনেক যাত্রী। এমন একজন সাংবাদিক ও কূটনীতিক আকবর হোসেন। নিজেকে ভীষণ ভাগ্যবান হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এক ঘণ্টা দেরি হলেই দুবাইতে আটকে পড়তাম। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতারসহ কয়েকটি দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। আমি এমিরেটসের যে ফ্লাইটে ছিলাম সেটি দুবাই ছেড়ে আসার কিছুক্ষণ পরেই এ ঘটনা। এদিকে ঢাকা এয়ারপোর্টে মধ্যপ্রচ্যগামী শতশত মানুষ আটকা পড়েছেন। মানুষগুলো কী করবেন সেটাও বুঝতে পারছেন না। যুদ্ধের দামামা যে বেজেছে সেটি তারা জানেন না। জানলেও কিছু করার নেই।’
বড় এয়ারলাইনগুলোর ফ্লাইট স্থগিত : নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইনগুলো একের পর এক মধ্যপ্রাচ্যের রুটে ফ্লাইট স্থগিত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথানসা, এয়ার ফ্রান্স ও আইবেরিয়া। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক বড় এয়ারলাইন এমিরেটস ও কাতার এয়ারওয়েজও সাময়িকভাবে তাদের বেশ কয়েকটি গন্তব্যে ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে। এরমধ্যে ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত তেলআবিব ও বাহরাইন রুট বন্ধ করেছে। আগামী ৭ মার্চ পর্যন্ত একাধিক রুট স্থগিত করেছে লুফথানসা।
একই সঙ্গে টার্কিশ এয়ারলাইনস একাধিক মধ্যপ্রাচ্যগামী ফ্লাইট বাতিল করেছে। রাশিয়ার সব এয়ারলাইনসও ইরান এবং ইসরায়েল রুটে ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। ইন্ডিগো ও এয়ার ইন্ডিয়া তাদের মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
দীর্ঘ পথ ঘুরে ফ্লাইট পরিচালনা : মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথ বন্ধ থাকায় ইউরোপ-এশিয়া ফ্লাইটগুলোকে দীর্ঘ পথ ঘুরে চলতে হচ্ছে। এতে ফ্লাইট সময় কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। অ্যাভিয়েশন বিশ্লেষকদের মতে, এতে জ্বালানি খরচ বাড়বে এবং ভবিষ্যতে টিকিটের দামও বাড়তে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধের পর আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল যেসব বিকল্প করিডরের ওপর নির্ভর করছিল, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট সেই পথও সংকুচিত করে দিয়েছে। ফলে বৈশ্বিক অ্যাভিয়েশন নেটওয়ার্কে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি। আকাশসীমা কবে খুলবে, ফ্লাইট কবে স্বাভাবিক হবে এ নিয়ে স্পষ্ট ঘোষণা নেই। নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরই সবকিছু নির্ভর করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
বাংলাদেশও ভুক্তভোগী : ইরানের ওপর গতকাল শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা ইরানের পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশ নিজ নিজ আকাশসীমা বন্ধ করে দিয়েছে। দুবাইসহ কয়েকটি স্থানে বিমানবন্দর বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ, তুরস্কসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মধ্যপ্রাচ্যমুখী অধিকাংশ ফ্লাইট আকস্মিকভাবে বাতিল করায় অনেক বিমানবন্দরে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের অনেক নাগরিক রয়েছেন।
ইরানের ওপর গতকাল যখন হামলা হয়, তখন জাতীয় ক্রিকেটার মুশফিকুর রহিম অবস্থান করছিলেন দুবাইয়ে। ওমরাহ শেষে সৌদি আরবের জেদ্দা থেকে দুবাই হয়ে তার ঢাকা ফেরার কথা। ফেসবুকে এক পোস্টে তিনি জানান, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তাদের দুবাই থেকে আবার জেদ্দায় ফেরত নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে বিভিন্ন দেশ থেকে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় বাংলাদেশের অনেক নাগরিক ভোগান্তিতে পড়ার কথা জানা গেছে। একইভাবে ঢাকা থেকে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যেও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় হাজার হাজার যাত্রী হঠাৎ করে বিপাকে পড়ে। আটকা পড়ে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। নিজ নিজ ফ্লাইটের আগাম তথ্য না নিয়ে সবাইকে বিমানবন্দরে যেতে নিষেধ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
যেসব দেশ তাদের আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ইরান, ইরাক, জর্ডান, কাতার, বাহরাইন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিরিয়া ও ইসরায়েল।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের নিজ নিজ এলাকায় স্থানীয়ভাবে দেওয়া সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানিয়েছে বিভিন্ন দেশের রাজধানীতে অবস্থিত বাংলাদেশের কয়েকটি দূতাবাস।
ঢাকায় সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় যুদ্ধের কারণে বাংলাদেশের নাগরিকদের হতাহত হওয়ার কোনো খবর গতকাল শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
দূতাবাসগুলো নিরাপত্তার স্বার্থে প্রবাসীদের নিজ নিজ বাসাসহ নিরাপদ স্থানে অবস্থান, সামরিক ঘাঁটির আশপাশে না যাওয়া, অতিপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঙ্গে রাখা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে সতর্ক থাকতে বলেছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্বেগ : ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতি এবং উদ্ভূত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ওই অঞ্চলে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আকাশপথ ও আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ থাকায় কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে মধ্যপ্রাচ্যে গমনরত বাংলাদেশি কর্মীদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট দেশসমূহের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে, যাতে পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে গমনেচ্ছু ও বর্তমানে আটকেপড়া বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কয়েকটি দেশ ইতিবাচক আশ্বাস দিয়েছে। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসমূহ দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে অবস্থানরত কর্মীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছে, যাতে উদ্ভূত উদ্বেগসমূহ নিরসন করা যায়।
বাংলাদেশ সরকার তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের স্থাপনা, কূটনীতিক ও অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ ইরানে অধ্যয়নরত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করেছে। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে আলোচনা-প্রক্রিয়ার ব্যর্থতায় এবং মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক বিরোধ তীব্রতর হওয়া নিয়ে গভীর উদ্বেগ জানাচ্ছে। বাংলাদেশ পুনর্ব্যক্ত করছে, মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিটি দেশের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখ-তার প্রতি সম্মান প্রদর্শন অপরিহার্য। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সংঘাত কখনও স্থায়ী সমাধান বয়ে আনে না; বরং সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতির মাধ্যমেই বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তি সম্ভব। বাংলাদেশ সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন, উত্তেজনা পরিহার এবং অবিলম্বে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে। বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার পক্ষে তার সুসংহত ও নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা ও সংলাপের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রচেষ্টা জোরদারের আহ্বান জানাচ্ছে।
এদিকে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র সচিব মধ্যপ্রাচ্যের উদ্ভূত পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠককালে তারা তেহরানে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের প্রধানের সঙ্গেও টেলিফোনে আলোচনা করেন।