চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে বাংলাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতন, সীমান্ত সহিংসতা এবং সাংবাদিক হেনস্তাসহ বিভিন্ন মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা উদ্বেগজনক মাত্রায় বেড়েছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু নারী নির্যাতনের ক্ষেত্রে জানুয়ারিতে ৩১টি পারিবারিক পরিবেশে চালানো সহিংসতা, ৩৫টি ধর্ষণের, ২টি যৌন হেনস্তার এবং ৬টি কন্যাবিবাহ ও দাম্পত্যবিষয়ক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার রাতে পাঠানো আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) ‘বাংলাদেশে মানবাধিকার পরিস্থিতি : জানুয়ারি ২০২৬’ শীর্ষক এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে।
প্রতিবেদনটিতে নারী নির্যাতনের ধরন অনুযায়ী দেখা গেছে, গৃহহিংসার সংখ্যা সবচেয়ে বেশি ৩১টি, যা পরিবার ও সমাজে নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থতার প্রমাণ। ধর্ষণের ৩৫টি ঘটনা এবং যৌন হেনস্তার ২টি ঘটনা নারী নির্যাতনের ভয়াবহতা তুলে ধরেছে। পাশাপাশি, যৌতুক সম্পর্কিত সহিংসতার ঘটনা ছয়টি এবং গৃহকর্মী নারীর ওপর সহিংসতার ঘটনা ১টি। আশার কথা হলো, অ্যাসিড হামলার কোনো ঘটনা জানুয়ারি মাসে ঘটেনি। শিশু নির্যাতনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। জানুয়ারি মাসে শিশুদের ওপর সহিংসতার ৩৫টি ঘটনা ঘটেছে এবং শিশু হত্যার ঘটনা ২৫টি হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। এটি সমাজের সবচেয়ে দুর্বল অংশের নিরাপত্তা সংকটে থাকার চিত্র তুলে ধরে।
সীমান্তে এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের সহিংসতায় ১ জন নিহত হয়েছেন। জেল হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ১৬টি এবং আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার হাতে মৃত্যুর ঘটনা ৪টি নথিভুক্ত হয়েছে। তবে জানুয়ারি মাসে বলা হয়েছে কোনো অনৈতিকভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটেনি।
এ ছাড়া সংবাদকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হেনস্তার ঘটনা ঘটেছে ১৬টি। যা সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও তথ্যপ্রকাশের ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দেয়। মব লিঞ্চিং বা গণরোষের ফলে ১৪ জনের মৃত্যু ঘটেছে। রাজনৈতিক সহিংসতায় ১১টি মৃত্যু এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ঘটনা ১৪টি নথিভুক্ত হয়েছে, যা দেশে রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার গভীরতা প্রমাণ করে।