সংস্কৃতিবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, যদি আমাদের এই অঞ্চলে পদ্মা ব্যারেজ ও পদ্মাসেতু হয় তাহলে এই অঞ্চলের প্রতিটি বালিকণা সোনায় পরিণত হবে। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পদ্মা ব্যারেজে ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর বিষয়টি নিয়ে এসেছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারে সময় পদ্মা ব্যারেজের বিষয়টি প্রি-একনেক সভায় পাশ হয়েছে। আগামী একনেক সভায় এই বিষয়টি উত্থাপন হবে।
রবিবার (১ মার্চ) জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির মাসিক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তারের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ, সিভিল সার্জন এস এম মাসুদ, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানরা।
খৈয়ম বলেন, পদ্মা ব্যারেজ নিয়ে আমরা কয়েকটি সেমিনার করেছি। সেই প্রতিপাদ্য বিষয় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারকে অবহিত করি। সেখানে চারটি মন্ত্রণালয়ে সভা হয়। সেই সভায় প্লানিং হয়ে বিগত সরকারের সময় পদ্মা ব্যারেজের বিষয়টি প্রি একনেক হিসেবে পাশ হয়ে আছে। আগামী ৮ তারিখ একনেকের সভা আছে। আমি আশা করছি খুব দ্রুতই এটি পাশ হবে। পাশাপাশি যদি দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয় তাহলে, এই এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হবে। এই এলাকার প্রত্যেকটি বালিকণা সোনায় পরিণত হবে। এরকম একটি সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের পরে আমাদের অনেকগুলো দাবি কিন্তু সামনে এসেছে। পদ্মা সেতু ও পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি এই অঞ্চলে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় করতে হবে। আমাদের রেলের দেশের মধ্যে একটি বড় ওয়ার্কশপ হওয়ার কথা ছিল এখন সেটি থেমে আছে। একটি ক্যান্টনমেন্ট করার জন্য জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছিল, কিন্তু সেটি আর হয়নি। ২০০১ সালে এমপি থাকাকালীন একটি আধুনিক নৌবন্দর নির্মাণের বিষয়ে পার্লামেন্টে উপস্থাপন করা হয়। আমাদের অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করতে হবে।
তিনি বলেন, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের চিকিৎসা নিয়ে মানুষের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এটি জরুরি জিনিস। দ্রুত হাসাপতালের কি সীমাবদ্ধ রয়েছে তার সমাধান করে মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। খৈয়ম বলেন, রাজবাড়ী জেলা এখন মাদকে ছেয়ে গেছে। মাদক নিয়ে ইতোমধ্যে মার্ডারও হয়েছে। এসব বন্ধ করতে হবে। মাদক নিয়ন্ত্রণ করতে পুলিশ সুপারকে জরুরি ব্যবস্থা নেওয়া নির্দেশ দেন তিনি।
সভায় রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ হারুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী প্রথম ১৮ মাসে এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলেছেন। ইতোমধ্যে ৮০ হাজার স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগের ঘোষণ দেয়া হয়েছে। আমাদের এখানে শিল্পের তেমন কোন উন্নতি নেই। আমাদের অঞ্চল মূলত কৃষি প্রধান। কর্মসংস্থান না থাকার কারণে মাদকের সঙ্গে জড়িত হওয়ার একটি অন্যতম নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে। তবে শুধু পুলিশ প্রশাসন চেষ্টা করলেই এ মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। রাজনৈতিক ও নেতাকর্মীদেরও এ বিষয়ে ভূমিকা রাখতে হবে।