ফড়িংয়ের জীবনধারা

প্রায় ৩০০ মিলিয়নের বেশি বছর ধরে পৃথিবীতে ফড়িংয়ের বসবাস। কার্বনিফেরাস যুগে ফিরলে দেখা যাবে, ফড়িংদের পূর্বপুরুষ ছিল পতঙ্গদের মধ্যে সবচেয়ে বড়। বড় চোখের সুবাদে ফড়িংয়ের দৃষ্টিশক্তি অসাধারণ। এদের দর্শনশক্তি প্রায় ৩৬০ ডিগ্রি এবং মানুষের চেয়ে অধিক সংখ্যক রঙ দেখতে পারে তারা। নারী ফড়িংগুলো পানির ওপরে, জলজ উদ্ভিদ বা শৈবালের ওপর ডিম দেয়। এখানেই ডিম ফুটে বের হয় ফড়িংয়ের বাচ্চা বা নিম্ফ। অক্সিজেন গ্রহণ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগের জন্য ফড়িংয়ের নিম্ফ ব্যবহার করে পায়ুপথ। তাদের ফুলকা তখন থাকে মলদ্বারের ভেতরে। পায়ুপথ দিয়ে সরাসরি পানি টেনে নেয় ভেতরে এবং এরপর আবার তা বের করে দেয় একই পথ দিয়ে। ফড়িং সামনে যেমন উড়তে পারে, তেমনি পেছনের দিকেও উড়তে সক্ষম। গবেষণায় দেখা গেছে, অসাধারণ দৃষ্টিশক্তি ও উড়তে পারার দক্ষতার দরুণ শিকার ধরতে ও আগের জায়গায় ফিরে আসতে একটি ফড়িংয়ের মাত্র ১-১.৫ সেকেন্ড সময় লাগে। কিছু প্রজাতির ফড়িং তার এলাকায় অন্য ফড়িংয়ের প্রবেশ একেবারেই পছন্দ করে না। কোনো ফড়িং এই অনধিকার চর্চা করলে, তার বিরুদ্ধে ওই এলাকার পুরুষ ফড়িং যুদ্ধ ঘোষণা করে। ফড়িংয়ের জীবনের আয়ু খুব কম। প্রজাতি ভেদে এরা কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত বাঁচে।