শসা আবাদে সফল কৃষক সোহাগ

দিনাজপুরের হাকিমপুরের হিলিতে রমজানকে ঘিরে আধুনিক পদ্ধতিতে শসা আবাদ করে সফল হয়েছেন কৃষক সোহাগ হোসেন। অল্প সময়ে কম খরচে শসা চাষে সফলতা পেয়েছেন তিনি। তার দেখাদেখি এলাকার অন্য কৃষকরা এই শসা আবাদে আগ্রহী হচ্ছেন। এদিকে শসার আবাদ বাড়াতে সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

হিলির খট্টামাধবপাড়া গ্রামের কৃষক সোহাগ হোসেন জানান, স্থানীয় কৃষি অফিস থেকে আমাকে শসা আবাদ করার পরামর্শ দেন। লাভবান হতে পারব বলেও জানান তারা। সেই মোতাবেক সরকারি প্রণোদনার বীজ, সার ও মালচিং পেপার দিয়ে সহযোগিতা করেন। তারপর তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আমি ৫০ শতক জমিতে এই শসা চাষে হাত দিই। তাদের সহযোগিতা বাদে ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যেই আমি ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার শসা বিক্রি করেছি। আজকেও উঠাচ্ছি, আগামী সপ্তাহ জুড়েই উঠবে। এখনো যে পরিমাণ গাছে ফুল ও ফল আসছে তাতে করে আমার আশা আমি ৩ লাখ টাকার ওপর শসা বিক্রি করতে পারব। রমজান শুরুর পর বাজারে দাম বাড়তি এখন প্রতি মণ বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ১শ টাকা করে। শসা অল্প সময়ের মধ্যে লাভজনক আবাদ। যদি কোনো চাষি আধুনিকত্বের সঙ্গে সঠিকভাবে পরিচর্যা করে শসা আবাদ করে, সে অন্তত এক বিঘা জমিতে দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা লাভ করবে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে। আমার এই শসা চাষ দেখার পরে অনেকেই এর আবাদ শুরু করে দিয়েছে। একই এলাকার কৃষক শরিফুল ইসলাম বলেন, শসা স্বল্প সময়ের চাষাবাদ ও অতি লাভজনক আবাদ। যদি যত্ন করা যায়, তাহলে অল্প সময়ে অধিক মুনাফা অর্জন করা সম্ভব। দেখা যাচ্ছে বিঘাপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ করলেন। যদি সবকিছু ভালো থাকে বীজ থেকে শুরু করে যত্ন যদি সময়মতো হয় তাহলে অন্যান্য চাষাবাদের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি লাভ। আর যদি শসার জাত ভালো হয়, তাহলে দেখা যাচ্ছে এক বিঘাতে আপনি আড়াই থেকে তিন লাখ টাকা পর্যন্ত মুনাফা করতে পারবেন, যা অন্যান্য আবাদে সম্ভব নয়। আমাদের এলাকাতে কয়েকজন কৃষকের মধ্যে সোহাগ ভাই অন্যতম। উনি আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সময়মতো ও সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করেন, যাতে গ্রামের অন্য কৃষকরাও উদ্বুদ্ধ হয়েছে।

কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, আমাদের এই অঞ্চলে দিন দিন শসার আবাদ বাড়ছে। আমি গতবার শসা লাগিয়েছিলাম। অনেক ফলন পেয়েছি, দামও ভালো পেয়েছি। ওই দেখাদেখি এবার সবাই শসা লাগাচ্ছে। আমিও লাগিয়েছিলাম। ইতিমধ্যেই বিক্রি করা শেষ করেছি। এখন মানুষ আরও বেশি শসা লাগাচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ একটা লাভের আবাদ, যার কারণে কৃষকরা লাভবান হবে। শসা লাগানোর ৪০ দিনের ভেতর উঠতে শুরু করে ও দুই থেকে আড়াই মাস পর্যন্ত থাকে। এটা লাভের আবাদ সার, কীটনাশক ও ওষুধ এতে কম লাগে।

শসাক্ষেতে কাজ করা হাফিজুল ইসলাম বলেন, আমি সোহাগ ভাইয়ের শসারক্ষেতে কাজ করছি, তাতে করে দিনে ৫শ টাকা হাজিরা পাই। এতে আমার সংসার ভালোই চলে, তেমনি ছেলেমেয়েদের পড়ালেখার খরচ চালাতে পারছি। আমি আশা করি শসা চাষে আরও অনেকে এগিয়ে এলে তারাও লাভবান হবেন। তেমনি আমাদের মতো বেকার শ্রমিকদের কাজের ব্যবস্থা হবে। রমজান মাসের কারণে শসার চাহিদাও অনেক বেশি। এমন অবস্থা ক্ষেত থেকেই শসা নিয়ে যাচ্ছেন পাইকাররা।

হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম বলেন, উপজেলায় চলতি মৌসুমে শসার আবাদ হয়েছে প্রায় তিন হেক্টর জমিতে, যেটা গত বছরে ছিল এক হেক্টরেরও কম। এখানকার মাটি শসা চাষের উপযোগী হওয়ায় শসার আবাদ বাড়ছে। আর শসার উৎপাদন ভালো হওয়ার কারণ হচ্ছে ভালো বীজ। আমরা যে বীজ দিয়েছি সেটা হচ্ছে হাইব্রিড জাতের একটা বীজ জিপি-০০১, যেটা আমাদের দেশীয় শসার সঙ্গে আসলে সংকর করে নিয়েই সেই জাতটা উদ্ভাবন করা হয়েছে। এই জাতটাতে আসলে দেশীয় শসার যেমন ফ্লেভার পাওয়া যাচ্ছে, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও অনেক মানসম্পন্ন এবং পরিবেশবান্ধব উপায় বিশেষ করে মালচিং পেপার ব্যবহার করার কারণে প্রত্যেকটা শসার আকার-আকৃতি সঠিক ছিল, রঙ সঠিক ছিল। খুব কম সময়ে অল্প খরচে আসলে শসাটা বাজারজাত করা যাচ্ছে এবং বাজারমূল্য কৃষকের জন্য খুবই অনুকূল। ভালো বাজারমূল্য পাওয়ায়, ফলন বেশি হওয়ায়, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আসলে কৃষকরা দিন দিন এই শসা চাষের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে।