সুপার সঞ্জুতে সেমিতে ভারত

জয় ছিনিয়ে আনা বাউন্ডারিটা মেরে পিচের মধ্যেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়লেন সঞ্জু স্যামসন, বুকের ওপর ক্রুশ আঁকলেন। এরপর যেন অনেকক্ষণ ধরে চেপে রাখা শ্বাসটা ছাড়লেন। প্রত্যাবর্তন বুঝি একেই বলে! বিশ্বকাপের দলে থাকলেও একাদশে জায়গা হারিয়েছিলেন। অনেকেই তার ক্যারিয়ারে সমাপ্তিরেখা টেনে দিয়েছিলেন। সেই সঞ্জু স্যামসন ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের ইনিংস খেলে ভারতকে জেতালেন ইডেনে। সেই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে, যারা এখানেই এক দশক আগে করেছিল শিরোপা জয়ের উল্লাস। ম্যাচের প্রথম ইনিংস শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যখন ৪ উইকেটে ১৯৫, তখন গ্যালারি জুড়ে নীরবতা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের এর আগে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড হচ্ছে ১৭৩, ২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। সেমিফাইনালে যেতে হলে রেকর্ড বইয়ের পাতায় লিখতে হবে নতুন অধ্যায়।

সেটা লিখেছেন সঞ্জু, উইলোর কলমে। ইনিংসের সূচনায় নেমে শেষ অবধি অপরাজিত, দায়িত্ব পালন করেই ছেড়েছেন মাঠ। ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭, ১২টা চারের সঙ্গে ৪টা ছক্কা। নিয়ন্ত্রণ আর আক্রমণের চমৎকার মিশেলে ইডেন থেকে ওয়াংখেড়ের টিকিটটা কনফার্ম করলেন সঞ্জু। যেখানে আসছে বৃহস্পতিবার ইংল্যান্ড অপেক্ষা করছে স্বাগতিক ভারতের জন্য। ৪ মার্চ আরেক সেমিফাইনালে লড়বে দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ড।

টস জিতে বোলিং নিয়েছিলেন সূর্যকুমার যাদব। এই ইডেনেই কলকাতার হয়ে কত ম্যাচ খেলেছেন সূর্য-গম্ভীর, জানেন এখানে শিশির রান তাড়াটা সহজ করে দেয়। কেউ হাফসেঞ্চুরি না পেলেও সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস থামে ৪ উইকেটে ১৯৫ রানে। জবাবে অভিষেক শর্মা শুরুতেই ফিরে গেলেও তৃতীয় উইকেটে সঞ্জুর সঙ্গে সূর্যের (১৮) আর এরপর সঞ্জুর সঙ্গে তিলকের (২৭) জুটিই ভারতকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়। শেষটায় হার্দিক পান্ডিয়া (১৭) আর শিভম দুবের (৮*) ক্যামিও জিতিয়ে দেয় ভারতকে। ১৯.২ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৯ রান করে ৫ উইকেটে জয়ী ভারত। ম্যাচসেরা সঞ্জু স্যামসন।