চারদিনে খুলনায় তিন হত্যাকাণ্ড

খুলনায় ফের সন্ত্রাসীরা গুলি ও কুপিয়ে আব্দুল আজিজ (৩৫) নামে এক যুবককে হত্যা করেছে। রবিবার (১ মার্চ) রাতে নগরীর নিরালা জাহিদুর রহমান ক্রস রোডে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত আজিজ বাগমারা মেইন রোড ব্রিজ এলাকার খলিলুর রহমানের ছেলে। আজিজ ইট-বালুর ব্যবসা করতেন।

শুধুই আব্দুল আজিজই নয়, এ নিয়ে গত চারদিনে খুলনায় তিনজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হলেন। খুলনা ক্রমবর্ধমান অপরাধ, বিশেষ করে হত্যাকান্ড সাধারণ মানুষের ভয় ও উৎকন্ঠা ছড়াচ্ছে।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রবিবার রাত ৯টার দিকে আজিজ নগরীর নিরালা জাহিদুর রহমান ক্রস রোডে অবস্থান করছিল। এ সময় একটি মোটরসাইকেলে দুজন সন্ত্রাসী এসে তাকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি করে। এরমধ্যে একটি গুলি তার বুকের বাম পাশে ও আরেকটি গুলি তার পেটে বিদ্ধ হয়। এরপর তারা আজিজকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে দ্রুত মোটরসাইকেলে চলে যায়। পরে এলাকাবাসী তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, আব্দুল আজিজ নগরীর শীর্ষ সন্ত্রাসী পলাশ গ্রুপের সদস্য হিসেবে কাজ করত। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসী গ্রুপ তাকে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করেছে।

খুলনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন বলেন, নিহত আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে দুটি মারামারি ও একটি চুরির মামলা রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও কারা এর সঙ্গে জড়িত তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে অভিযান চলছে। সন্ধ্যা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে ওসি উল্লেখ করেন।

এদিকে, এর আগে গত শুক্রবার ইফতারির আগে সাড়ে সন্ধ্যা ৫টার দিকে দিঘলিয়া উপজেলার সেনহাটি শিক্ষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসির) সামনে প্রতিপক্ষরা গুলি ও কুপিয়ে স্থানীয় যুবদল নেতা  মুরাদ হোসেন খানকে হত্যা করে।

এ প্রসঙ্গে দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহ আলম বলেন, এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা সাজ্জাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকী আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

এর আগের দিন বৃহস্পতিবার দুপুরে নগরীর খানজাহান আলী আফিল গেটে একটি পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন গ্যারেজের সামনে শেখ সোহেল নামে এক ঘের ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। সোহেলের বিরুদ্ধে ২টি হত্যা ও একটি মারামারির মামলা রয়েছে।

অন্যদিকে গত ২১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৭টা ৫৬ মিনিটে কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন (৩৫) নামে একজন ব্যবসায়ী নগরীর পুলিশ লাইন মসজিদে তারাবির নামাজ আদায় করতে যান। নামাজ শেষে প্রায় আধাঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ কাজী নিজাম উদ্দিন সুজনের সন্ধানের দাবিতে গত বুধবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে তার পরিবার।

কাজী নিজাম উদ্দিন সুজন খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিজানের জামাই।
তবে সার্বিক বিষয় নিয়ে খুলনা মহানগর পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) তাজুল ইসলাম বলেন, সন্ত্রাসীদের বিভিন্ন গ্রুপরে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে খুনোখুনি হচ্ছে। তবে অপরাধ দমনে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত সাপেক্ষ আসামিদের গ্রেপ্তারও করা হচ্ছে।