আমের বনে নতুন স্বপ্নের ঘ্রাণ

আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমচাষিদের মাঝে এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন উঁকি দিচ্ছে। গাছে গাছে ব্যাপক মুকুল এসেছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জুড়ে ম-ম গন্ধ ছড়াচ্ছে। চাষিরাও পাচ্ছেন সুখের ঘ্রাণ। এবার ফাগুনের হাওয়া আসার আগেই মাঘের শীতের শেষে গাছে গাছে দেখা মিলেছে প্রচুর মুকুলের। ইতিমধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৯০ শতাংশ গাছ মুকুলিত হয়েছে। আর কিছুদিনের মধ্যেই বাগানগুলো মুকুলে ছেয়ে যাবে। শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

উত্তরের সীমান্ত জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জকে প্রাচীনকাল থেকেই চেনা যায় আমের জন্য। চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল আম। দিন দিন বেড়েছে বাগানের পরিমাণ এবং আম উৎপাদনে প্রযুক্তির ব্যবহার। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। ইতিমধ্যে গুটি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, ক্ষীরসাপাত, লক্ষ্মণভোগ, আম্রপালিসহ বিভিন্ন জাতের গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তা ও আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে শীতের তীব্রতা কমে যাওয়ার পর থেকেই গাছে গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ঝিলিম ইউনিয়নের আতাহার এলাকার আমচাষি ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বাগানে আগাম মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মাঘ মাসের মাঝামাঝি থেকে বাগানে মুকুল আসতে শুরু হয়েছে, ফাল্গুন মাস পর্যন্ত মুকুল বের হবে। এখন পর্যন্ত আসা মুকুল দেখে এখানকার চাষিরা বেজায় খুশি।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার শংকরবাটি এলাকার আমচাষি সাদরুল খান বলেন, ‘মুকুল আসার পর থেকেই গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা করছি। মুকুল রোগ-বালাইয়ের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় স্প্রে করা হচ্ছে। বর্তমানে আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। এ অবস্থা থাকলে এবার আমের বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করা যায়।’

তবে চাষিরা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও বেড়েছে বালাইনাশকের দাম। শ্রমিকদের মজুরিও বেড়েছে। এ ছাড়া সার পাওয়া গেলেও কিনতে হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। ফলে এবার সব মিলিয়ে গত বছরের চেয়ে আমের উৎপাদন খরচ বাড়বে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মুনজের আলম মানিক বলেন, ‘চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ অনেক আগে থেকেই আমের সঙ্গে সম্পৃক্ত। গত বছর ফলন আশানুরূপ না হওয়ায় আমচাষিরা বেশি লাভ করতে পারেননি। এবার আবহাওয়া এখন পর্যন্ত ভালো রয়েছে। তবে বালাইনাশকের দাম বৃদ্ধি হওয়ায় আগের তুলনায় বাগান পরিচর্যার খরচ বেড়েছে।’ তিনি মৌসুম জুড়ে বাজারে বিক্রি হওয়া বালাইনাশকের মান যথাযথ হওয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, ‘বাজারে যেসব বালাইনাশক বিক্রি হয়, সেগুলো যথাযথ মানের হলে চাষিদের কম বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়। তাতে চাষিদের খরচ কম হয়।’

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (বিএডিসি) উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী বলেন, ‘প্রকৃতিতে শীত কমে আসছে, বাড়ছে তাপমাত্রা। এতে আমগাছে মুকুল আসতে শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯০ শতাংশ গাছ মুকুলিত হয়েছে। এখন গাছে সেচের ব্যবস্থা করা হলে আরও ব্যাপক মুকুল চলে আসবে।’

তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আমচাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে গাছে সেচের ব্যবস্থা করা এবং রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনের জন্য নিয়মিত স্প্রে করার।

তিনি বলেন, ‘আগামীতে যদি আবহাওয়া ভালো থাকে, আশা করছি এ বছর গতবারের চেয়ে মুকুল ভালো হবে এবং ফলনও ভালো হবে। এবার চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাঁচ লক্ষাধিক টন আম উৎপাদন হবে বলে আমরা আশা করছি।’