যেখানে বসে ইরানের ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছেন ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুম থেকে নয়, বরং ফ্লোরিডায় অবস্থিত তার নিজস্ব মার-আ-লাগো এস্টেটের একটি সুরক্ষিত কক্ষ থেকে পর্যবেক্ষণ করেন। হোয়াইট হাউস প্রকাশিত কয়েকটি ছবিতে এমনটাই দেখা গেছে।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, মার-আ-লাগোতে স্থাপিত একটি 'সেনসিটিভ কম্পার্টমেন্টেড ইনফরমেশন ফ্যাসিলিটি' (স্কিফ) থেকে ট্রাম্প ও তার মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যরা পুরো অভিযান তদারকি করছেন। গোপন ও সংবেদনশীল তথ্য নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এ ধরনের কক্ষ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় পরিচালিত হয়। প্রথমবার ২০১৭ সালে মার-আ-লাগোতে এমন ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছিল।

একটি ছবিতে জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান ড্যান কেইনকে একটি বড় স্ক্রিনের দিকে ইশারা করতে দেখা যায়, যেখানে আরব সাগরে অবস্থানরত একটি মার্কিন সামরিক সম্পদের চিত্র ভেসে উঠেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। আরেকটি ছবিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে দেখা যায়; তিনি ইরান পরিস্থিতি নিয়ে কংগ্রেসে ব্রিফ করার কথা রয়েছে।

অন্য একটি ছবিতে দেখা যায়, ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউস সিচুয়েশন রুম থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অভিযান পর্যবেক্ষণ করছেন। তার সঙ্গে ছিলেন ন্যাশনাল ইন্টেলিজেন্স পরিচালক তুলসি গ্যাবার্ড, ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট।

হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুম প্রায় ৫ হাজার বর্গফুটের একটি উচ্চ-নিরাপত্তা কমপ্লেক্স, যা ২০২৩ সালে আধুনিকায়ন করা হয়। এতে উন্নত নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এবং সার্বক্ষণিক জনবল নিয়োজিত থাকে।

রবিবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানজুড়ে এক হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। এর মধ্যে ছিল কমান্ড সেন্টার, বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পস-সংশ্লিষ্ট স্থাপনা। প্রাথমিক হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও দেশটির শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের কয়েকজন নিহত হন।