মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে ইরানের ওপর চাপ বাড়িয়েছে চীন। বিশ্বের বৃহত্তম জ্বালানি আমদানিকারক দেশটি ইরানকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল, বিশেষ করে কাতার থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানি যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে বলা হয়, চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস কোম্পানি ও সরকারি কর্মকর্তারা ইরান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেল-গ্যাসবাহী ট্যাংকার যেন লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত না হয়। বিশেষ করে কাতারের মতো গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি রপ্তানিকারক দেশগুলোর জাহাজ যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে বলা হয়েছে ইরানকে।
এই অঞ্চলে বাড়তে থাকা সংঘাত বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে হুমকির মুখে ফেলেছে। এমন প্রেক্ষাপটে চীনের এই পদক্ষেপকে কৌশলগত হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। ইরানি তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। তেহরানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সম্পর্ক। অন্যদিকে, বিশ্বের শীর্ষ জ্বালানি আমদানিকারক হিসেবে চীনকে মধ্যপ্রাচ্য, বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভর করতে হয়। এই অঞ্চল থেকে তেল ও গ্যাসের সিংহভাগই পরিবহন করা হয় হরমুজ প্রণালি দিয়ে।
চীনা গ্যাস কোম্পানিগুলোর নির্বাহীরা জানান, বিশ্বব্যাপী এলএনজি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আসে কাতার থেকে। চীনে মোট এলএনজি আমদানির ৩০ শতাংশই জোগান দেয় দেশটি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পরেই কাতার বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম এলএনজি উৎপাদনকারী দেশ।
বৈশ্বিক বাণিজ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য বলছে, কাতারের এলএনজি চালানের ৮০ শতাংশই যায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে। ফলে হরমুজ প্রণালি নিয়ে তৈরি হওয়া যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি প্রভাব ফেলবে এশীয় বাজারে, বিশেষ করে চীনের জ্বালানি নিরাপত্তায়। এ কারণেই নিজেদেস্বার্থ রক্ষায় ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগ করছে বেইজিং।