ফাল্গুনের আমেজে উৎসবের রঙে রাঙা হয়ে উঠেছে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রাম। শীতলা পূজা উপলক্ষে প্রায় চারশ বছরের ঐতিহ্যবাহী দুই দিনব্যাপী জামাই মেলা শুরু হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) প্রতিবছরের ন্যায় এবারও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ ঐতিহ্যবাহী মেলা। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ফাল্গুন মাসে শীতলা পূজাকে কেন্দ্র করে প্রায় চারশ বছর ধরে এ জামাই মেলার আয়োজন হয়ে আসছে।
মেলার প্রধান আকর্ষণ এলাকার জামাইরা। দূর-দূরান্ত থেকে তারা শ্বশুরবাড়িতে আসেন এবং স্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে মেলায় ঘুরে কেনাকাটা করেন। শ্বশুরবাড়ি ও আত্মীয়-স্বজনদের জন্য মাছ, মিষ্টি ও বিভিন্ন সামগ্রী কেনেন তারা। এলাকায় জামাইদের আগমনে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।
মেলায় ছিল হরেক রকমের মিষ্টি, মাছ, মাংস ও মনোহরী পণ্যের সমাহার। বিশেষ করে বালিশ মিষ্টি, আমৃত্তি, ছানার জিলাপি ও রসগোলার প্রতি ছিল ক্রেতাদের বাড়তি আগ্রহ। পাশাপাশি টাটকা ইলিশ ও রুই মাছ, হাঁস, রাজহাঁস, মুরগি ও খাসির মাংসের দোকানগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। বিক্রেতাদের হাঁকডাকে মুখর ছিল পুরো মেলাঙ্গন।
স্থানীয়রা জানান, এ মেলায় জামাইদের মধ্যে এক ধরনের কেনাকাটা প্রতিযোগিতা চলে। যার কেনাকাটা যত সমৃদ্ধ, এলাকাজুড়ে তার সুনাম ছড়িয়ে পড়ে। ফলে মেলাকে ঘিরে জমে ওঠে ব্যাপক কেনাবেচা।
শুধু জামাই নয়, এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মিলনমেলায় পরিণত হয় এ উৎসব। কেনাবেচার পাশাপাশি চলে আনন্দ-আড্ডা। গ্রামীণ ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধনের এক অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে এই জামাই মেলা।
মেলা কমিটির সভাপতি অমল চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ঐতিহ্য ধরে রাখতে স্থানীয়দের সহযোগিতায় প্রতিবছর সুষ্ঠুভাবে মেলার আয়োজন করা হয়।
এদিকে গোপালগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জিলানী মেলায় উপস্থিত হয়ে মেলা কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মেলাঙ্গন পরিদর্শন করেন। তিনি ঐতিহ্যবাহী এ মেলা সংরক্ষণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
চারশ বছরের এ ঐতিহ্যবাহী মেলা শুধু কেনাবেচার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি গ্রামীণ সংস্কৃতি, সামাজিক সম্প্রীতি ও পারিবারিক বন্ধনের এক উজ্জ্বল প্রতিচ্ছবি।