দ্রুতগতি যেন ঠিক থাকে

জনস্বার্থে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে সরকার সামনের দিকে যাচ্ছে, সহজেই তা বোঝা যাচ্ছে। সরকারের দ্বিতীয় সপ্তাহের কাজের নমুনা নিয়ে আমরা আশাবাদী। অতীতে দেখা গেছে, মন্ত্রীরা নিজ এলাকায় সংবর্ধনা নিতেই ব্যস্ত থাকতেন। এবার মন্ত্রীরা এলাকায় কাজ শুরু করেছেন। তাদের সামনে মূলত ১৮০ দিন। এই ছয় মাসের মধ্যে দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ দেখাতে না পারলে তারেক রহমানের সরকারের সঙ্গে থাকা হবে না। পরিকল্পনাগুলো সুনির্দিষ্ট হওয়ায় গ্রামের মানুষের মধ্যেও সেই আশা জেগেছে যে, তারা ওয়াদামাফিক সহযোগ পেতে যাচ্ছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, প্রবাসী কার্ড, বৃক্ষরোপণ, খাল খনন কর্মসূচি এই কাজগুলো সূচনা করতে মন্ত্রণালয়গুলো এবং সরকারপ্রধান শ^াস ফেলার সময় পাচ্ছেন না। আসন্ন ঈদের আগেই ইমাম-মুয়াজ্জিনদের বেতনের ব্যবস্থা করতে যাচ্ছে সরকার। প্রথমপর্যায়ে এজন্য ৬০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে। দেশের জন্য এসব প্রকল্প স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি হিসেবে চালু থাকবে।

আমরা একে বলতে চাই শুভসূচনা। নতুন নতুন কর্মপরিকল্পনা নিয়েও সরকার কাজ করতে যাচ্ছে, যা গণমানুষের জন্য ইতিবাচক হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু এর মধ্যে আবার সমস্যা-সংকটও কমবেশি আছে ও হতে যাচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ড. মুস্তফা কে. মুজেরী বলেছেন, সরকারের শুরুটা ভালো। তবে খেয়াল রাখতে হবে, ভালো প্রকল্প বা ভালো কাজ তড়িঘড়িতে যেন নষ্ট না হয়। ড. মুজেরীর এই শঙ্কা প্রকাশের পেছনে আছে দক্ষতার বিষয়। যারা এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন, সেই আমলাদের শুধু কর্মদক্ষ হলেই চলবে না, তাদের নৈতিক অবস্থান গণমানুষের পক্ষে থাকতে হবে। মাঠপর্যায়ে যারা কাজ করবেন, তারা যেন দলীয় পরিচয়কে প্রাধান্য না দেন। প্রকৃত যোগ্যতাসম্পন্ন গরিব মানুষ, গরিব নারীরাই যেন কার্ড পান তা নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর উদ্যম প্রত্যাশা তৈরি করেছে। সেই প্রত্যাশা পূরণে দক্ষ আমলাতন্ত্র বা জনপ্রশাসনকে যদি সাজানো যায়, তাহলে সাফল্য অর্জিত হবে। না পারলে প্রকল্প বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে পড়বে।

এই পরিকল্পনাকে অনেকটা হুমকির মধ্যে ফেলেছে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ। আমরা অচিরেই জ্বালানি সংকটের মধ্যে নিপতিত হব, যদি সংঘাত পরিস্থিতির অবসান না হয়। ইরানের অবস্থান কঠোর বোঝা যাচ্ছে। যদি আলোচনায় না বসে, মার্কিনি স্থাপনাগুলোয় মিসাইল হামলা অব্যাহত রাখে, তাহলে নেতানিয়াহু ও ট্রাম্প ইরানের সামরিক শক্তি ধ্বংসের চেষ্টা চালাবেন। এর মধ্যেই কাতারের এলএনজি উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ট্যাংকারগুলো আসতে পারবে না। জ্বালানি সংকটে শিল্প, বিদ্যুৎ, পরিবহন এবং কৃষি সেক্টরে প্রতিক্রিয়া হবেই। সরকার বৈদেশিক মুদ্রার আয়ের প্রবাহ থেকে বঞ্চিত হবে। অভ্যন্তরীণ সামাজিক জীবনে নেমে আসতে পারে অস্থির পরিস্থিতি। রাজনৈতিক কাজের ক্ষেত্রে বিরোধী বলয়ের উসকানি পরিবেশকে উত্ত্যক্ত করে তুলতে পারে। যে খুশির সূচনা তারেক রহমান করেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত তা ব্যাহত করতে পারে। এ নিয়ে সরকারকে আগাম ভাবতে হবে। সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে পরিকল্পনা আঁটতে হবে সরকারকে। আমরা চাই, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংকট দ্রুত সমাধানে পৌঁছাক। যুদ্ধের অপচ্ছায়ায় যেন অর্থনীতির গতিশীলতা হ্রাস না পায়। এবারই প্রথম গরিব মানুষ পেতে যাচ্ছে ন্যায় ও কল্যাণকর কয়েকটি সরকারি পদক্ষেপ। অতীতে এ ধরনের প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তড়িঘড়ির কারণে কিছু প্রকল্প সফল হতে পারেনি। তবে এবার যুক্ত হবে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস। এক হাজার কিমি খাল খননের কর্মসূচি, যা শুকনো মৌসুমে পানির সরবরাহ দেবে। ২০ কোটি গাছ রোপণের কর্মসূচি পালিত হলে শুধু খাল-বিল-নদী-নালার পাড়গুলোই রক্ষা পাবে না, ফলদবৃক্ষ ও অক্সিজেনের ঘাটতি পূরণ করবে। এর সঙ্গে গ্রামের হালট/সড়কগুলো পথচারীদের জন্য হবে আরামদায়ক আমরা এ রকমই চাই।