ইরানের হামলার সামরিক জবাব কি দেবে উপসাগরীয় জোট?

মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাতে সামনের সারিতে চলে এসেছে উপসাগরীয় আরব রাষ্ট্রগুলো। এতে তারা স্পষ্টতই ক্ষুব্ধ। যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের বিমান হামলার জবাবে ইরান তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। পাশাপাশি বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও হামলার শিকার হয়েছে। কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বলেন, 'সব লাল রেখা অতিক্রম করা হয়েছে।' তার ভাষ্য, সার্বভৌমত্ব, অবকাঠামো ও আবাসিক এলাকায় হামলার জবাব দেওয়া হবে; নেতৃত্বের সামনে সব বিকল্প খোলা রয়েছে। 

এ হামলায় ভ্রমণ, পর্যটন ও আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত গালফ অঞ্চলের নিরাপদ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং চাপ পড়ছে তেল–গ্যাসনির্ভর অর্থনীতিতে।

অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত হলেও ধ্বংসাবশেষে হতাহত ও অগ্নিকাণ্ড ঘটছে। ড্রোন হামলা তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও বাণিজ্য ও বিমান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান ঝুঁকি বাড়িয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ দিতে বাধ্য করতে চাইছে।

এছাড়া বাণিজ্যকেন্দ্র আরব আমিরাতের দিকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে। তেল–গ্যাস খাতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে তার প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে পড়তে পারে। এখনও উপসাগরীয় দেশগুলো প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলার অনুমতি দেয়নি। তবে যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তাদের অবস্থান বদলাতে পারে।