দীর্ঘ সময় প্রযোজকরা ছবি মুক্তি দিয়েছেন নিজস্ব অফিসে আর ম্যানেজার ছবি মুক্তি দিলেও কন্ট্রোল করতেন লগ্নিকারক। ওই সময় পুঁজি ফেরত পেয়ে লাভের মুখ দেখতেন প্রযোজকরা। তবে বর্তমান সময়ে সবকিছুই যেন উল্টা-পাল্টা। দুইটি পরিবেশনা সংস্থা সিনেমা মুক্তি দিয়ে থাকেন। এখানে প্রযোজকের কর্তৃত্ব থাকে না এমনকি সিনেমা কোথায় প্রদর্শিত হয়, তাও ঠিকমতো জানতে পারে না। নানা প্রতারণায় প্রযোজক ক্লান্ত হয়ে কাউকে কিছুই বলতেও পারেন না।
অভিযোগ উঠেছে দীর্ঘ ১৫ বছর একক আধিপত্য বিস্তার করে রেখেছেন শহিদুল্লাহ মাস্টার। চিত্রনায়ক শাকিব খানের ছবি মুক্তির দায়িত্ব নেওয়ায় অনেকে তাকে ‘দরবেশ’ উপাধি দিয়েছেন। এই তারকার ছবি রিলিজ নেওয়ায় তিনি এখন বুকিং এজেন্টে ও ঢাকায় বিজিবি, আনন্দ, মধুমিতা, শ্যামলী, বর্ষা, মেট্রো, তামান্না, কল্লোল, রাজিয়া, রূপকথা, বগুড়ার সিনেপ্লেক্স, কুষ্টিয়ার নীলকণ্ঠ প্রেক্ষাগৃগুলো বুকিং করেন।
অভিযোগে বলা হয়, এসব প্রেক্ষাগৃহে ঈদে মুক্তি পাওয়া শাকিব খানের ছবি মুক্তি পায় ২ থেকে আড়াই লাখ টাকায়, অপজিশন হল মালিকরা চালাতে চাইলে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা রেন্টাল দাবি করেন। যার কারণে অন্য প্রেক্ষাগৃহের মালিকরা বঞ্চিত হতে হতে ছবি সংকটে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করতে বাধ্য হন। উদাহরণ স্বরূপ ঢাকার মধুমিতা শহিদুল্লাহ মাস্টার বুকিং করায় জোনাকী ও অভিসার সিনেমাহল মালিকরা ছবি সংকটে ভুগতে ভুগতে বাধ্য হয়ে একপর্যায়ে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ করে দিয়েছেন। প্রায় প্রদর্শক ও বুকিং এজেন্টরা শহিদুল্লাহ মাস্টারকে চলচ্চিত্র ব্যবসা ধ্বংসের কারিগর হিসেবেও আখ্যা দিয়েছেন।
একই ধারায় ভাড়াটিয়া প্রদর্শক কামাল হোসেনের সেনা অডিটোরিয়াম, চন্দ্রিমা, ছায়াবাণী, শাপলা, নন্দিতা, নবীন, চিত্রালী এসব দামী পেক্ষাগৃহ গুলোকে কম রেন্টাল বা এমজিতে ছবি দিয়ে প্রযোজকদের কোটি কোটি টাকা লোকসানের দিকে ঠেলে দিয়েছেন এরপরেও আনকোড়া অদক্ষ প্রযোজকরা শহিদুল্লাহ মাস্টারকে দিয়ে ছবি মুক্তি দেওয়ার কারণে ধ্বংসের দাড়প্রান্তে চলচ্চিত্র ব্যবসা। চলচ্চিত্র বোদ্ধাদের প্রধান দাবি. সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল প্রেক্ষাগৃহ কাউন্টার সেলের ৫০% দিতে হবে। অন্যথায় ছবি মুক্তি নয়। যারা সিনেপ্লেক্স ও সিঙ্গেল সিনেমা হল চালাচ্ছেন তারাই ছবি প্রযোজনা করুন।
এ বিষয়ে শহিদুল্লাহ মাস্টারের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।