দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, সহিংসতা কিংবা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে নিজ দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার পদক্ষেপ নিয়েছেন সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম। বুধবার(৪মার্চ) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি স্বেচ্ছাসেবকদলের নেতাদের হামলায় আহত মসজিদের ইমাম রবিউল হোসেনকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপির)কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, আহত মসজিদের ইমামকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ে তার পরিবারের খোঁজখবর নিয়েছি। ইতোমধ্যে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল উদ্দিন ও মো.হাসান কে পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) পরামর্শ দিয়েছি। বিএনপি সন্ত্রাস পছন্দ করে না। শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্টকারি কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি আরও বলেন, কেউ দলের নাম ব্যবহার করে আইন নিজের হাতে তুলে নিলেএবং চাঁদাবাজি, দখল বা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়ালে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শামীম বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক দল। দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হয় এমন কাজ বরদাস্ত করা হবে না। নেতাকর্মীদেরকে জনগণের আস্থা অর্জনের রাজনীতি করতে হবে, ভয়ভীতি বা প্রভাব খাটিয়ে নয়। দলের শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে দলীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়াও অনুসরণ করা হবে।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার (৩মার্চ) রাতে উপজেলার চরকিং ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের চরবগুলা গ্রামের হাজী রগবত আলী জামে মসজিদে তারাবির নামাজ শেষে মসজিদের ইমাম রবিউল হোসেনকে মসজিদ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর করার অভিযোগওঠে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাদের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
স্থানীয়রা জানান, রবিউল হোসেন সংসদ নির্বাচনে ‘শাপলা’ প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থক ছিলেন এবং তার বিজয়ের জন্য দুই খতম কোরআন মানত করেছিলেন। বিষয়টি ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। অভিযোগ রয়েছে, তারা কয়েকবার তাকে মারধরের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ঘটনার দিন ইমাম রবিউল হোসেন যথারীতি তারাবির নামাজে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার পথরোধ করে। এ সময় তিনি মোটরসাইকেল ফেলে দৌড়ে পুনরায় মসজিদে আশ্রয় নেন। হামলাকারীরা ইমামের কক্ষের দরজা ভেঙে তাকে বাইরে এনে বেদম মারধর করে। চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।