আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় ৯ এপ্রিল

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আগামী ৯ এপ্রিল। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ রায়ের জন্য এদিন ধার্য করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এর আগে গত ২৭ জানুয়ারি এ মামলায় সবশেষ ধাপ যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে রায় যেকোনো দিন ঘোষণা করা হবে মর্মে অপেক্ষমাণ রাখে ট্রাইব্যুনাল।

গত বছরের ২৮ আগস্ট এ মামলায় প্রসিকিউশনপক্ষে সূচনা বক্তব্য ও আসামিদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। প্রথম সাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেন আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন। এ মামলায় ২৫ সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। ২০ জানুয়ারি সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলে যুক্তিতর্কের শুনানি শুরু হয়। শুনানিতে প্রসিকিউশনপক্ষ আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার আরজি জানায়। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অভিযোগ থেকে খালাসের আরজি জানান। প্রসিকিউশনপক্ষে শুনানিতে ছিলেন তখন চিফ প্রসিকিউটরের দায়িত্বে থাকা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মোহাম্মদ মিজানুল ইসলাম প্রমুখ। আসামিপক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু, আবুল হাসান প্রমুখ।

সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থা সংস্কার দাবিতে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই আন্দোলনের সময় বেরোবির সামনে পার্ক মোড়ে দুই হাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে থাকা আবু সাঈদকে গুলি করে পুলিশ। শহীদ আবু সাঈদ বিশ্ববিদ্যালয়টির ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ হত্যাকা-ের পর সারা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। প্রতিবাদে সোচ্চার হন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এর ধারাবাহিকতায় গণঅভ্যুত্থানের মুখে ওই বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। আবু সাঈদ হত্যা মামলার তদন্ত শেষে ৩০ জনকে আসামি করে দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন গত বছরের ৩০ জুন আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল। এ মামলায় বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলামসহ ছয়জন কারাগারে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি (উপাচার্য) মো. হাসিবুর রশীদসহ ২৪ জন এখনো পলাতক। পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি আছে।