মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যকার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে জ্বালানি তেল সংকটের আশঙ্কায় ঢাকা, পাবনা সহ সারা দেশে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই আতঙ্কের জেরে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকাল থেকেই জেলা শহরের পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল চালকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক পড়ায় নির্ধারিত সময়ের আগেই অনেক পাম্পে মজুত শেষ হয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পাবনায় সরেজমিনে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকে পাবনা শহরের মেরিল বাইপাস এলাকার ইয়াকুব ফিলিং স্টেশন, অনন্ত বাজার এলাকার মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশন এবং রাধানগরের এসএম ফরিদ ফিলিং স্টেশনসহ অধিকাংশ পাম্পে বাইকারদের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক চালক স্বাভাবিক চাহিদার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি তেল সংগ্রহ করতে চাইলে তৈরি হয় বিশৃঙ্খলা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনেক পাম্প মালিক মাথাপিছু ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেন। তবুও রাত ১০টার মধ্যে শহরের সিংহভাগ পাম্পে ‘তেল নেই’ বলে বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
রাধানগর এলাকায় তেল নিতে আসা সাইমন ও রনি জানান, শুনেছি কাল থেকে তেল পাওয়া যাবে না, তাই তড়িঘড়ি করে এসেছি। আগে কখনো ট্যাংক ফুল না করলেও আজ করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু পাম্প থেকে ৫০০ টাকার বেশি দিচ্ছে না।
মেসার্স হাইওয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী ইসরাফিল জানান, অতিরিক্ত চাপের কারণে তাদের মজুত দ্রুত শেষ হয়ে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা রাত ১০টা পর্যন্ত জনপ্রতি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকার তেল দিলেও পরে সরবরাহ বন্ধ করতে বাধ্য হন। তবে শুক্রবার ভোরে নতুন সরবরাহ আসার কথা রয়েছে।
এদিকে,জ্বালানি সংকটের এই খবরকে স্রেফ 'আতঙ্ক' বলে উড়িয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব আবুল আহসান রেয়ন বলেন, সরকারের কাছে মাত্র ১৪ দিনের তেল মজুত আছে—এমন একটি বিভ্রান্তিকর খবর ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। এটি কোনো প্রকৃত সংকট নয়। দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুত রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনাই সাময়িক এই চাপের কারণ।
তিনি আরও জানান, কাল থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক হবে। তবে খোলা বাজারে বা ড্রামে করে তেল বিক্রি বন্ধ রাখার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ অবৈধ মজুত করতে না পারে।