ঠিক তিন দিন আগে ম্যাচ শেষে হাসিমুখে যেভাবে দল নিয়ে গর্ব করেছিলেন, শুক্রবারও পিটার বাটলার প্রশংসায় ভাসালেন দলকে। তবে সেই স্বস্তির হাসিটা ছিল না এবার। উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫-০ ব্যবধানে বিধ্বস্ত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই হাসিটা যায় না কোচের অবয়বে। তবে এমন হারে কোন দুঃখবোধ নেই। উত্তর কোরিয়াকে ভিনগ্রহের দল আখ্যা দিয়ে এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলার সুযোগটাকেই বড় করে দেখছেন কোচ।
ম্যাচ শেষে পানসে মুখে কমব্যাংক স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে এলেন বাটলার। প্রারম্ভিক বক্তব্যেই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে নিজের দলের ব্যবধানটা চাইলেন পরিস্কার করতে, 'আজ আমরা একটি অসাধারণ দলের বিপক্ষে খেলেছি। সম্ভবত এশীয় ফুটবলের অন্যতম সেরা। আমাদের সত্যিকারের ফুটবলের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে এবং প্রকৃত শক্তি ও টেকনিক্যাল সক্ষমতার দিক থেকে তারা আমাদের চেয়ে অনেক অনেক এগিয়ে ছিল। ৫-০, ৬-০ বা ৭-০ গোলে হেরে যাওয়া কোনো লজ্জার বিষয় নয়। আমি মেয়েদের সমালোচনা করতে পারি না কারণ আমরা সেই স্তরে নেই। তবে আমি তাদের প্রচেষ্টায় কোন খামতি ছিল না। তারা যা করেছে তার জন্য গর্বিত। তারা একঝাঁক চমৎকার মেয়ে। তবে আমরা উত্তর কোরিয়াকে আটকাতে পারছিলাম না। এটি একটি অসম লড়াই ছিল। আমার এটাও মনে হয়েছে আমাদের কিছু মেয়ে রোদে নুয়ে পড়েছিল এবং নিজেদের প্রতি সুবিচার করতে পারিনি।'
চীনের বিপক্ষে ম্যাচের মতো উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও শেষ মুহূর্তে দুই গোল হজম করে বাংলাদেশ। এটা কী কিছুটা ভাবাচ্ছে, জানতে চাইলে বাটলার বলেন, 'আমি দুঃখিত বা হতাশ নই, এই মেয়েদের জন্য গর্বিত। আচ্ছা, আপনারা কি কখনও প্রতিপক্ষ দলের কথা ভেবেছেন যাদের বিপক্ষে আমরা খেলছি? ৩০ মিনিট পর তো ৩, ৪ বা ৫ গোলও হতে পারতো। আমি বিশ্বাস করি মেয়েরা তাদের সেরাটাই দিয়েছে। আবহাওয়ার হয়তো একটা প্রভাব ফেলেছে, তবে সেটা অজুহাত হিসেবে দাড় করানোর সুযোগ নেই্। তাছাড়া মনোযোগ একটা সময় নড়ে যেতেই পারে। তবে আপনাকে মনে রাখতে হবে উত্তর কোরিয়ার খেলোয়াড়রা অনেক উঁচু স্তরে খেলে। তারা এমন মানের খেলোয়াড় যাদের খেলা দেখার জন্য আমি টাকা খরচ করব। আমরা কেবল আমাদের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী একটি দলের সাথে খেলেছি যারা অন্য গ্রহের। আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে।
সোমবার উজবেকিস্তানকের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। পার্থে সে ম্যাচ খেলতে আজ সিডনি ছাড়বে দল। বলতে গেলে বাংলাদেশের আসল অভিযান শুরু হলো এখন থেকে। বাটলার অবশ্য বাস্তবতাকেই সামনে টেনে আনেন, 'আমাদের প্রত্যাশার ব্যাপারে বাস্তববাদী হতে হবে। আমি সবসময় বলেছি যে এখানে পৌঁছানোই ছিল আমাদের বিশ্বকাপ। এই মানের দলগুলোকে হারানোর কোনো প্রত্যাশা আমার নেই। হয়তো এটি একটি জেগে ওঠার ডাক হতে পারে। এখন মেয়েরা নিজেদের পরে ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করব। আমি চেয়েছিলাম বড় কোনো ইনজুরি ছাড়াই এই ম্যাচটি শেষ করতে। এটি মেয়েদের জন্য একটি দুর্দান্ত শেখার সুযোগ। আপনারা যা ভুলে যান তা হলো এই দলটির গড় বয়স ১৯.৫ বছর। আর প্রতিপক্ষের গড় বয়স ২৩-২৪ বছর। তাই আমরা একটি ভিন্ন শক্তির বিরুদ্ধে লড়ছি। আমরা আবার লড়াই করব হাসিমুখে এবং আমাদের সেরাটা দেব। যদি সেটা যথেষ্ট হয় তবে ভালো, আর না হলে জীবন তার গতিতে চলবে।'
আগের ম্যাচের মতো এ ম্যাচেও ভালো ফুটবল খেলেছেন তরুণ গোলকিপার মিলি আক্তার। নইলে হারের ব্যবধানটা আরও বড় হতে পারতো। মিক্সডি জোনে মিলি বলেন, 'আসলে আজকে আমরা যে ভুলগুলা করেছি, মানে এগুলা শুধরানোর চেষ্টা করব। মানে যে গোলগুলো হজম করেছি সেই ম্যাচের ভিডিও দেখব। চেষ্টা করবো ভুলগুলা শুধরিয়েয়ে ভালো খেলার চেষ্টা করব।
চীনের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও গোল খাইয়েছিলেন আফঈদা খন্দকার। এই ম্যাচে শুরুর দুই গোলেই আছে তার দায়। তারপরও ভুলত্রুটি শুধরে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক, 'অনেক কিছু শিখেছি। যে ভুলত্রুটিগুলো হয়েছে আমাদের, পরের ম্যাচে যেন সেই ভুলত্রুটিগুলো না করি, এর থেকে শিখে যেন লড়াই করতে পারি। উত্তর কোরিয়া বিশ্বের ৯ নম্বর দল। অবশ্যই ওরা ভালো খেলবে, আমরা জানি। তারপরও আমরা লড়াই করার চেষ্টা করছি।'
দ্রুতই উত্তর কোরিয়ার কাছে হারের ধাক্কা সামলে বাংলাদেশকে প্রস্তুত হতে হবে আসল ম্যাচের জন্য। যে ম্যাচটা জিতলে খুলে যাবে অনেক দরজা। অভিষেক আসরেই কোয়ার্টার ফাইনালে খেলা, বিশ্বকাপ, অলিম্পিক- এরকম অনেক ইতিহাস হাতছানি দিয়ে ডাকছে। এখন স্রেফ একটা জয়ের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।