ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার রায়মনি এলাকায় ভাড়া বাসায় এক যুবকের রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় এক বছর পর আদালতের নির্দেশে নিহত সজিব মিয়া (২৪)-এর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়; বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যা।
গত মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সরকারি কবরস্থান থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার (ম্যাজিস্ট্রেট)–এর উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানো হয় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগে।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, সজিব মিয়া তার মা ও সৎ বাবার সঙ্গে বসবাস করতেন। ছোটবেলায় মায়ের বিবাহ বিচ্ছেদের পর মা-ই তাকে লালন-পালন করেন। পরবর্তীতে তার মা পুনরায় বিয়ে করলে সৎ বাবা তাকে নিজের সন্তানের মতো বড় করেন। বিয়ের পর সজিব স্ত্রীকে নিয়ে একই বাড়ির প্রথক ভাড়া কক্ষে বসবাস শুরু করেন। একই বাড়ির অন্য কক্ষগুলোতেও পরিবারের সদস্যরা ভাড়া থাকতেন।
অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে ছোট ভাইবোনদের টিভি দেখা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে এমরান, শফিক, কাউসার ও মিনার নামের কয়েকজন সজিবকে বাঁশের লাঠি ও মুগুর দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ঘরে নিয়ে যান।
পরিবারের দাবি, সেদিন রাতে এলাকায় ওয়াজ মাহফিল চলাকালে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে সজিবের স্ত্রী ঘরে ফিরে তাকে ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ঝুলন্ত দেখতে পান। পরে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন। পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পুলিশে খবর না দিয়ে নিজেরাই মরদেহ নামিয়ে দ্রুত পরদিন সকালে দাফন সম্পন্ন করেন।
নিহতের পরিবার অভিযোগ করেছে, ঘটনার পর তাদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়। বাড়িতে থাকা প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও শিশুদের বইপত্র অভিযুক্তরা আটকে রাখেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের মা প্রথমে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি সি.আর মামলা (নং-৮৯৭/২০২৫) দায়ের করেন। তবে বিদেশে অবস্থানের কারণে মামলা পরিচালনায় অসুবিধা হওয়ায় তা প্রত্যাহার করা হয়। পরে নিহতের সৎ বাবা বাদী হয়ে পুনরায় মামলা দায়ের করেন।
নিহতের পরিবারের দাবি, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
ত্রিশাল থানার ওসি মুহাম্মদ ফিরোজ হোসেন জানান, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।