ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এবার বাহরাইনে অবস্থিত অ্যামাজনের একটি ডেটা সেন্টারে ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ফারসের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, তেহরানের শত্রুপক্ষের সামরিক ও গোয়েন্দা কার্যক্রমের কেন্দ্রগুলো কীভাবে সহায়তা করে, তা চিহ্নিত করতেই বাহরাইনের এই অ্যামাজন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হামলাটি দুবাইয়ের অ্যামাজন ডেটা সেন্টার এবং অঞ্চলের অন্যান্য কৌশলগত স্থাপনায় আইআরজিসির সাম্প্রতিক ধারাবাহিক অভিযানেরই অংশ।
অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস গত সোমবার জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতে আমাদের দুটি স্থাপনায় সরাসরি আঘাত হানা হয়েছে এবং বাহরাইনে আমাদের একটি স্থাপনার খুব কাছে ড্রোন হামলার কারণে অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি আরও যোগ করেছে, এই হামলার কারণে কাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে এবং আমাদের অবকাঠামোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আগুন নেভানোর কাজের প্রয়োজন হওয়ায় অতিরিক্ত পানির কারণেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
এদিকে কুয়েতে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শুক্রবার (৬ মার্চ) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গত কয়েক ঘণ্টায় ইরানি সেনাবাহিনীর স্থলবাহিনীর ড্রোন ইউনিট কুয়েতের বিভিন্ন এলাকায় থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে লক্ষ্যভিত্তিক আঘাত হেনেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এটি কেবল অভিযানের সূচনা। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আরও বড় পরিসরে হামলা চালানো হতে পারে। ইরানের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ইরানের মূল ভূখণ্ড ও নৌবাহিনীর ওপর চালানো হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই ড্রোন অভিযান শুরু করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন ধরে তেহরান সতর্ক করে দিয়ে আসছিল যে, যেসব প্রতিবেশী দেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালাচ্ছে, সেসব দেশও পাল্টা আক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে। ধারণা করা হচ্ছে, কুয়েতের ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরান বিপুল সংখ্যক ‘কামিকাজে’ বা আত্মঘাতী ড্রোন ব্যবহার করেছে। এই ঘটনার পর কুয়েতসহ আশপাশের দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোতে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এর আগে কুয়েতে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে এক শিশুসহ চারজন নিহত হওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে কুয়েতের ঘাঁটিগুলোতে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে- সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি পেন্টাগন।
প্রসঙ্গত, গণহত্যাকারী ইসরায়েল ও তাদের সহযোগী যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে ইরানে হামলা চালিয়ে পুরো মধ্যপ্রাচ্যে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই আগ্রাসন শুরুর পর হাতের মুষ্ঠি ছেড়ে দিয়েছে তেহরানও। ঝাঁকে ঝাঁকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়ছে উগ্র ইহুদিবাদী ভূখণ্ড এবং উপসাগরীয় দেশগুলোয় মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা লক্ষ্য করে। এখন পর্যন্ত ইরান একাই ১০টির বেশি দেশের বিরুদ্ধে বীরদর্পে লড়ে যাচ্ছে।