বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, বৈষম্যহীনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কার যদি নিশ্চিত না হয়, তবে বাংলাদেশের তরুণরা আবারও রাস্তায় নামবে। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, সরকার যদি সংসদে আলোচনার পথকে সংকুচিত করে, তাহলে বারবার আন্দোলন-সংগ্রাম রাজপথে গড়াবে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাংলা মোটরে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘এনসিপির যাত্রা’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নাহিদ ইসলাম এ কথা বলেন। বইটির লেখক এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক মো. মাহাবুব আলম ও প্রকাশক আদর্শের স্বত্বাধিকারী মাহবুব রাহমান।
নাহিদ ইসলাম মনে করেন, গণতান্ত্রিক সংস্কার ও সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিই বর্তমান সময়ের প্রধান দাবি। এসব দাবি আদায়ে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। এ সময় তিনি সরকারকে দায়িত্বশীল আচরণ করার তাগিদ দেন। জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ বলেন, জুলাই ও এনসিপি নিয়ে বাংলাদেশের চেয়ে বিদেশি গবেষকদের আগ্রহ বেশি। তবে অভ্যুত্থানকে টিকিয়ে রাখতে হলে শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির ওপর জোর দিতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে আরও বই লেখা উচিত। একই সঙ্গে তিনি এই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নিরপেক্ষভাবে গবেষণার আহ্বান জানান।
এনসিপি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশি কূটনীতিকদের কাছে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন এনসিপির আহ্বায়ক। তার মতে, গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা ও লড়াই আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ ঠিক করে দিয়েছে। তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ছিল মূলত মাঠের সাধারণ শিক্ষার্থীদের। আর গত এক দশকে সারা দেশে যে নেতৃত্ব সংগঠিত হয়েছিল, তাদের সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। এই দুই শক্তির মিলনমেলার নামই হলো এনসিপি। গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনেক প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে, আমরা তাদের স্বাগত জানাই। তবে আন্দোলনের মূল নেতৃত্বের বড় অংশ এনসিপিতে থাকায় এই দলটির ভিত্তি অনেক মজবুত।
নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে যারা সামনের সারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের একটি বড় অংশই বর্তমানে এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি বলেন, গত দেড় বছরের অভিজ্ঞতা ও লড়াই আগামীর বাংলাদেশের গতিপথ ঠিক করে দিয়েছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে নেপালের মতো অস্থির পরিস্থিতি বাংলাদেশেও তৈরি হতে পারে। তিনি জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি ধরে রাখতে সাহিত্য, গান ও সংস্কৃতির মাধ্যমে একে ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি নিরপেক্ষ গবেষণার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি দলের সাফল্য তুলে ধরে বলেন, মাত্র ৩০টি আসনে নির্বাচন করে ভোটের হিসাবে সারা দেশে তৃতীয় হওয়া এনসিপির বড় অর্জন। এতে প্রমাণ করে মানুষ বিকল্প রাজনৈতিক শক্তির অপেক্ষায় ছিল। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন ও এনসিপির ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক সাইফ ইবনে সারওয়ার প্রমুখ।