ভারতের কোটি মানুষের হৃদয় ভাঙার হুঙ্কার নিউজিল্যান্ড অধিনায়কের

অস্ট্রেলিয়ার আছে সোনালী ইতিহাস, ভারতের আছে সাম্প্রতিক আধিপত্য, আর নিউজিল্যান্ডের আছে অবিশ্বাস্য ধারাবাহিকতা। গত এক দশকে আইসিসি ইভেন্টগুলোর সমীকরণ মেলালে এই চিত্রটিই ফুটে ওঠে। আগামীকাল রবিবার আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক ভারত এবং নিউজিল্যান্ড। আর এই মহারণের আগে কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শিরোপা জিততে ভারতীয় সমর্থকদের ‘হৃদয় ভাঙতে’ তাদের কোনো দ্বিধা নেই।

২০১৫ সাল থেকে ধরলে এটি নিউজিল্যান্ড পুরুষ দলের পঞ্চম আইসিসি গ্লোবাল টুর্নামেন্টের ফাইনাল। বড় মঞ্চে বারবার নিজেদের প্রমাণ করে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে কেন তারা বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম শক্তিশালী দল। তবে ‘ভদ্রলোক’ হিসেবে পরিচিত এই দলটি এবার কেবল রানার-আপ ট্রফি নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে চায় না।

শনিবার ম্যাচ-পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার বলেন: "আমি একটি ট্রফি জিততে চাই। আমাদের দল সবসময়ই নিজেদের পরিকল্পনায় স্থির থাকে। আমরা পরিস্থিতি বা প্রতিপক্ষ নিয়ে খুব বেশি ভাবি না, বরং দল হিসেবে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।"

ভারতকে ফেবারিট মেনে নিয়েও স্যান্টনার যোগ করেন: "আমরা জানি আমরা ফেবারিট নই, কিন্তু তাতে আমাদের কিছু যায় আসে না। যদি আমরা ছোট ছোট বিষয়গুলো ঠিকঠাক করতে পারি, তবে ট্রফি জেতার সুযোগ থাকবে। আর সেটি করতে গিয়ে যদি কোটি মানুষের হৃদয় ভাঙতে হয়, তাতেও আমি রাজি।"

ঘরের মাঠে ১ লক্ষেরও বেশি দর্শকের সামনে খেলা ভারতের জন্য যেমন অনুপ্রেরণার, তেমনি বিশাল চাপের। স্যান্টনার মনে করেন, এই চাপকেই কাজে লাগাতে পারে নিউজিল্যান্ড। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ফাইনালে প্যাট কামিন্স যেভাবে গ্যালারিকে স্তব্ধ করে দেওয়ার কথা বলেছিলেন, স্যান্টনারের কণ্ঠেও আজ সেই একই সুর শোনা গেল।

পরিসংখ্যানের লড়াই

ভারতের দাপট: গত ৩০টি আইসিসি ম্যাচে ভারত হেরেছে মাত্র দুটিতে।

অভিশপ্ত ভেন্যু: মজার ব্যাপার হলো, ভারতের সেই দুটি হারই (২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনাল ও এবারের সুপার এইট) এসেছে এই আহমেদাবাদের মাঠেই।

সাম্প্রতিক ফলাফল: বিশ্বকাপের ঠিক আগে ভারত সফরে নিউজিল্যান্ড ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ হেরেছিল। তবে স্যান্টনারের মতে, দ্বিপাক্ষিক সিরিজ আর বিশ্বকাপ ফাইনাল সম্পূর্ণ আলাদা।