পাবনায় জামায়াত নেতা হেমায়েতপুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে আলম হাজীর অবৈধ তেল পাম্পে অভিযান চালিয়ে তেল মজুদের দায়ে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ও সতর্ক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
আজ শনিবার বিকেলে হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে অবৈধ তেল মজুদকালে হাতে নাতে ধরা পড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম এ শাস্তি দেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ সঠিক কাগজপত্র ছাড়াই ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তেল পাম্প পরিচালনা এবং অপরাধের পুনরাবৃত্তি করা সত্ত্বেও প্রভাবশালী ও বিত্তবান হওয়ায় অভিযুক্তদের লঘু দণ্ড দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই'র গোপন তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকেলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীমের নেতৃত্বে ইসলামপুরে জেলা জামায়াত রোকন ও ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম হাজীর তেল পাম্পে অভিযান শুরু করে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
দুই ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে পাম্পটিতে ব্যপক অনিয়ম ও অবৈধভাবে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে প্লাস্টিকের ট্যাংকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদকৃত অবস্থায় পান ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় পাম্প কর্তৃপক্ষ পেট্রোল মজুদ ও বিক্রির স্বপক্ষে আইনগত অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। ভ্রাম্যমাণ আদালত এ সময় পাম্প পরিচালক আলম হাজীর ভাই আব্দুল হান্নানকে কয়েকটি ধারায় ৯০ হাজার টাকা জরিমানার দণ্ড দেন।
এদিকে, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ও তেল বিপণনে অনুমোদন ছাড়াই অবৈধ মজুদদারীর গুরুতর অপরাধ করা সত্ত্বেও কারাদণ্ড বা ফৌজদারি মামলা না দিয়ে মাত্র ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কয়েক বছর আগে এই তেল পাম্পের অবকাঠামো নিয়মতান্ত্রিকভাবে না হওয়ায় বিস্ফোরক দপ্তর পেট্রল পাম্পটি বন্ধ ঘোষণা করেছিল। তবে গোপনে পেট্রোলসহ জ্বালানি তেল বিক্রি করা হতো। গোয়েন্দা সূত্র বিষয়টি প্রশাসনকে জানালে সেখানে অভিযান করা হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, গোয়েন্দা তথ্যের হাতে-নাতে প্রমাণ পাওয়ার পরেও প্রশাসনের এমন নমনীয়তা সন্দেহজনক। লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সরকারের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাম্পে অবৈধ কারবার করেন আলম হাজী। ২০২১ সালে নভেম্বর মাসে পাম্পটিতে বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক দগ্ধ হয়ে মারা যান৷ সে সময় ঝুঁকিপূর্ণ ও নিয়ম না মেনে অবৈধ পাম্প পরিচালনার বিষয়টি সামনে এলে চাপে পড়েন জাহাঙ্গীর আলম। কিন্তু পরবর্তীতে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও অবৈধ ব্যাবসা পরিচালনা করছিলেন তিনি। বার বার অপরাধ করে ধরা পড়লেও অজ্ঞাত কারণে অল্প কিছু টাকা জরিমানা ও নামকাওয়াস্তে সতর্ক করে চলে যান প্রশাসনের কর্তারা। বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিৎ।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল আলীম বলেন, অবৈধ কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইন অনুযায়ী সতর্ক ও জরিমানা করে, কাগজপত্র শুধরে নিতে সময় দেওয়া হয়েছে। আমরা এই পাম্পটি নজরদারিতে রেখেছি। অপরাধের পুনরাবৃত্তির বিষয়টি আমার জানা ছিল না। সংশোধন না হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।