জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আহ্বানে ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তি’ প্রসঙ্গে আজ এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসানের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল সংসদসমূহের ভিপি, জিএস এবং এজিএস অংশগ্রহণ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই সভায় অংশগ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজন হিসেবে শিক্ষক সমিতি, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু), আবাসিক হল সংসদসমূহের ভিপি, জিএস, এজিএস এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি এবং কর্মচারী ইউনিয়নের কার্যনির্বাহী পরিষদকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। এর মধ্যে শিক্ষক সমিতি, অফিসার সমিতি, কর্মচারী সমিতি এবং কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তির বিষয়টি ‘মীমাংসিত’ উল্লেখ করে সভায় অংশগ্রহণে অপরাগতা প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে চিঠি দেয়া হয়। প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তি বিষয়ে গত ২৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাকসুর নেতৃবৃন্দের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বৈঠকে এ বিষয়টি মীমাংসিত হয়েছে জানিয়ে জাকসুর নেতৃবৃন্দও সভায় অংশগ্রহণ না করার কথা জানান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান আজকের সভায় অংশগ্রহণকারী আবাসিক হল সংসদসমূহের প্রতিনিধিদের সামগ্রিক বিষয় অবহিত করে বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় ভর্তির বিষয়টি বর্তমান প্রশাসন ব্যাপক সংস্কারের মাধ্যমে ন্যায্য এবং যৌক্তিক পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। উপাচার্য বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় আগে ঔরসজাত সন্তানের পাশাপাশি দত্তক সন্তান, ভাই-বোন এবং স্ত্রী-স্বামী ভর্তি হওয়ার সুযোগ ছিল। বর্তমানে শুধুমাত্র ঔরসজাত সন্তানের ভর্তির সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় বিভাগ এবং ইনস্টিউটগুলোতে পূর্বে ভর্তির সংখ্যা নির্ধারিত না থাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভর্তির সুযোগ লাভ করত। বর্তমান প্রশাসন এই সংস্কার প্রক্রিয়ায় প্রতি বিভাগ/ইনস্টিটিউটে সর্বোচ্চ ৪ জন নির্ধারিত করে বিভাগ সর্বমোট ৪০ জনে সীমিত করেছে। উপাচার্য বলেন, বর্তমান সংস্কার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে বাবা-মা যেসব বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে শিক্ষক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী পদে কর্মরত রয়েছেন, সেসব বিভাগ বা ইনস্টিটিউটে তার সন্তান ভর্তি হওয়ার সুযোগ রহিত করেছে। উপাচার্য বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় সন্তান ভর্তির ক্ষেত্রে ন্যূনতম পাশ নম্বর বাড়ানো হয়েছে। এক সময় শতকরা ৩৫ ভাগ নম্বর অর্জন করলেই ভর্তি হওয়া যেত। বর্তমান প্রশাসন এক্ষেত্রে ত্রুটি-বিচ্যুতি দূর করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করেছে। চলতি শিক্ষাবর্ষে ভর্তিচ্ছু সন্তানের ভর্তির যোগ্যতা হিসেবে ন্যূনতম পাশ নম্বর শতকরা হিসেবে ৪৫-এ উন্নীত করা হয়েছে, যা গত শিক্ষাবর্ষে ছিল ৪০। উপাচার্য সংশ্লিষ্ট সকলের ভর্তি কার্যক্রম সুষ্ঠু, স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
উপাচার্যের নিকট থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধার আওতায় উপরোক্ত সংস্কার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সন্তান ভর্তির বিষয়য় অবহিতপূর্বক সভায় উপস্থিত সকলে তা স্বাগত জানান। সভায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সোহেল আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. আবদুর রব, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ড. এবিএম আজিজুর রহমান, উপ-রেজিস্ট্রার (শিক্ষা) সৈয়দ আলী রেজা প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।