৫০০ দিনে বাফুফে সভাপতি; বললেন, 'আগামী ৫০০ দিন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ'

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি হিসেবে ৫০০ দিন পূরণ করলেন তাবিথ আউয়াল। নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশ দলকে সমর্থন জানাতে তাবিথ আছেন অস্ট্রেলিয়াতে। সিডনির একটি পার্কে বসে নিজ দায়িত্বের খতিয়ান নিয়ে দেশ রূপান্তর-এর সুদীপ্ত আনন্দ'র মুখোমুখি হয়েছিলেন বাফুফে সভাপতি। যার চৌম্বুক অংশ এখানে। 

দেখতে দেখতে ৫০০ দিন কেটে গেলো। বাফুফে সভাপতি হিসেবে এই পথচলাটা কেমন ছিল?
তাবিথ আউয়াল: সত্যি বললে ৫০০ দিন যে হয়ে গেছে এটা আপনি বলার পরেই মাথায় এসেছে। সময় এত দ্রুত পার হয়ে গেছে! এই কদিনে আমরা যথেষ্ট সফলতা পেয়েছি। অনেক অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করেছি এবং অতীতের কিছু ভুলকে শুধরে ফেলতে হয়েছে। বলতে পারেন ৫০০ দিনে অলমোস্ট ১০০০ দিনের কাজ করেছি। দুই-তিনটা কাজের কথা আলাদা করে বলতে চাই। আমাদের নারী জাতীয় দল এখন এশিয়ার পর্যায়ে খেলছে। পুরুষ জাতীয় দল হয়তো এশিয়ান কাপ কোয়ালিফাই করতে পারেনি ঠিক তবে শেষ ম্যাচ পর্যন্ত একটা কম্পিটিটিভ নেচার দেখাতে পেরেছে। যার মাধ্যমে সমর্থকদের স্টেডিয়ামমুখী করতে পেরেছি। তবে আমার কাছে মনে হয় আগামী ৫০০ দিন অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের কাজের গতি বাড়াতে চাই এবং মানের চেয়ে উপরে কাজ করাই হবে আমাদের লক্ষ্য।

দায়িত্ব নিয়ে বলেছিলেন শুরুর এক বছর নিবিড়ভাবে সব পর্যবেক্ষন করবেন। ৫০০ দিনে বাফুফেকে কি রকম দেখলেন। কোথায় পরিবর্তন প্রয়োজন মনে করছেন?
তাবিথ: সত্যি বললে বাফুফের সব কিছু নিয়েই তৃপ্ত হওয়ার সুযোগ নেই। আমি মনে করি যদি আরও একটু গুছিয়ে কাজগুলো করতে পারতাম, অনেকে যদি নিজের কাজের প্রতি আরও একটু আন্তরিক থাকতেন, যদি সহযোগিতা আরেকটু বেশি পেতাম তাহলে খেলার মানটা আরেকটু ভালো জায়গায় নিতে পারতাম। একটা বছর তো লেগেছে অনেক কিছু জানতে, অনেক কিছু খুঁজে বের করতে। এই অল্প সময়ে বাংলাদেশে দুটি সরকার এসেছে। তারপরও আমাদের চেষ্টা ছিল। তবে সন্তুষ্টির জায়গায় কে না চায় আরো ভালো করতে। 

অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ফুটবলের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে স্পন্সর আনার কাজটা নিশ্চয় সহজ ছিল না?
তাবিথ: আমি অবশ্যই খুশি যে এত এত স্পন্সর আমাদের ডাকে সাড়া দিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বর্তমান নির্বাচিত কমিটি, ফুটবল এবং ফুটবলারদের প্রতি আস্থা রাখতে পারছে। যে জায়গাতে আমি গর্ব বোধ করি সেটা হলো, আমাদের প্লেয়াররা এখন ব্যক্তিগতভাবে স্পন্সর পাচ্ছে, পুরুষ-নারী দুই ক্ষেত্রেই। আগে যেটা কল্পনা করা যেত না, ঢাকা শহরের অনেক বিলবোর্ডে এখন ফুটবল তারকাদের দেখা যাচ্ছে। 

আপনি নিজেকে কি একটু ভাগ্যবান মনে করেন যে আপনার সময়েই হামজা চৌধুরীর মতো একজন তারকাকে পেয়েছেন?
তাবিথ: অবশ্যই, অনেক কিছুতেই নিজেকে ভাগ্যবান মনে করি। আমি ভাগ্যবান খেলাটার প্রতি সৎ একঝাক মানুষ নিয়ে গড়া একটা নির্বাহী কমিটি পেয়েছি। হয়তো আমাদের ভিতরে একতা নাই। কিন্তু কেউ ফুটবলের বিপক্ষে কোন কাজ করেন না। আমি ভাগ্যবান, আমরা একজন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী পেয়েছি যিনি জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক। আমরা পেয়েছি হামজা চৌধুরীর একজন সত্যিকারের তারকাকে। যাকে দেখে আরো অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী নারী-পুরুষ জাতীয় দলে আগ্রহী হয়েছে। তবে ভাগ্যকে পক্ষে টানতে আমাদের অনেক পরিশ্রম করতে হয়েছে। পরিশ্রম, মেধা এবং দূরদর্শিতাই আমাদের সহায়তা করেছে ভাগ্যকে কাজে লাগাতে।

ফুটবলকে আরও এগিয়ে নেওয়ার পথে সহযাত্রী হিসেবে যাদের পেয়েছেন, তাদের নিয়ে কী খুব সন্তুষ্ট? সবাই কী নিজেদের আধুনিক করে তুলতে পেরেছেন?
তাবিথ: এখানে দেখার ব্যাপার হলো, সবাই যার যার কাজটা ঠিকভাবে করছেন কীনা। যার যতটুকু সামর্থ্য এর বাইরে তো আপনি প্রত্যাশা করতে পারেন না। আমি কেবল দেখছি, যার যতটুকু সামর্থ্য, সেটা তারা দিচ্ছেন কীনা। আমি মনে করি সবাই চেষ্টা করছেন। কমিটি হিসেবে আমরা চেষ্টা করছি। কিছু কর্মকর্তা (চাকুরে) চেষ্টা করছেন আরো নিজেদের উন্নত করার। তবে বাস্তবতা হলো একটা পর্যায়ের পরে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত আমাদের নিতে হবে। কারণ হাই লেভেলে থাকতে আমাদের হায়ার লেভেলের রিসোর্স লাগবে। যদি মনে হয়, আমার চেয়ে হায়ার লেভেলের একজন সভাপতি দরকার, আমাকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

নিজেই বললেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের কথা। ফুটবলকে এগিয়ে নিতে সরকারের সমর্থন লাগেই। মন্ত্রীর সঙ্গে আপনার কী কথা হলো?
তাবিথ: আমি আর আমিনুল হক সাহেব বাইরের কেউ না। আমরা দুজন একই রাজনৈতিক দলের সদস্য। আমাদের নীতি নির্ধারকও একজন- মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যিনি ক্রীড়াকে অনেক গুরুত্ব দিচ্ছেন, খেলাধূলায় একটা বিপ্লব ঘটাতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে আমিনুল হক সামনের স্তরে আছেন আর আমরা আছি তাকে সহযোগিতা দিতে। প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়াকে চতুর্থ শ্রেণী থেকে বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বাফুফে যে স্কুল ফুটবলটা করতে চাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিতভাবে, এখন সেটা ক্লাস ফোর থেকেই করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী আরেকটি ঘোষণা দিয়েছেন, অবকাঠামোগুলো ঢেলে সাজানোর। আমিনুল হক এক্ষেত্রেও একটা ভালো ভূমিকা রাখতে পারেন। 

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে তাবিথ আউয়াল

একজন সাবেক ফুটবলারকে মন্ত্রী হিসেবে পাওয়া তো আপনার জন্য বাড়তি পাওয়া?
তাবিথ: বাড়তি পাওয়া কেবল আমার নয়, গোটা ফুটবল অঙ্গনের জন্যই। বাফুফে সভাপতি হিসেবে আমার এডভান্টেজ থাকবেই। আমিনুল হক নিজে খেলোয়াড় ছিলেন। কীভাবে ফুটবল চলে উনি জানেন। তিনি জানেন বর্তমানে অনেক প্লেয়ার ক্লাব থেকে সেভাবে টাকা পাচ্ছেন না। অনেক চুক্তি ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে। এসব নিয়ে তিনি ভাবছেন, কথা বলছেন। এক্ষেত্রে আমাদের খেলোয়াড়রাও ভাগ্যবান ওনাকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে পেয়ে। 

ক্লাবগুলোর কথাই নিশ্চয় বলতে চাচ্ছেন। দেশের ফুটবলে তাদের অনেক অবদান। তবে ক্লাবগুলো সত্যিকারের পেশাদার হিসেবে গড়ে ওঠেনি ক্লাবগুলো নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

তাবিথ: পরবর্তী ৫০০ দিনে ক্লাবগুলোকে ব্যাপক গুরুত্ব দেবো। আমরা চাই বাংলাদেশ ফুটবল লিগ এবং চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের প্রতিটি দল যেন এএফসি লাইসেন্সধারী হয়। বর্তমানে মাত্র দুটি ক্লাব এএফসি লাইসেন্স হোল্ডার। যা আমাদের ভবিষ্যত মোটেই ভালো না। একই সঙ্গে আমরা চাই নারী ফুটবলেও সেরা ক্লাবগুলো আসুক। তাই ক্লাবগুলোর উন্নয়ন আগামীর দিনগুলোতে আমাদের অগ্রাধিকার তালিকার ওপরে থাকেব। 

অস্ট্রেলিয়ায় এসে দেখছি আপনি নারী দলকে ভীষণভাবে আগলে রাখছেন। বোঝাই যাচ্ছে তাদের নিয়ে আপনার অনেক আশা...
তাবিথ: আমাদের নারী দলের গড় বয়স মাত্র ১৯ বছর। একটা প্লেয়ারের ক্যারিয়ার যদি গড়ে ৩০ পর্যন্ত হয়, তাহলে এই দলের আরও তিনটা এশিয়ান কাপ খেলার সামর্থ্য আছৈ। আমরা একটা চমকপ্রদ দল পেয়েছি। ওরা ফিজিক্যালি এবং মেন্টালি অনেক স্ট্রং। ইতিমধ্যে নারী দলের জন্য বাংলাদেশ থেকে অনেক সাড়া পেয়েছি। সিডনিতে যারা বাংলাদেশী না তারাও এখন বাংলাদেশের নাম জানে। বাংলাদেশ নারী দলে যারা আছেন তারা দেশের বড় সম্পদ। তাদের দেখভাল করাই আমাদের কাজ।

অথচ একটা শক্ত ঘরোয়া অবকাঠামো পায়নি বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা....। 
তাবিথ: অবশ্যই, মেয়েদের জন্য উঁচুমানের এবং উঁচু পারিশ্রমিকের একটা লিগ আয়োজন করা দরকার। এটা নিয়ে কাজ করছি, এক বছরের মাথায় একটা ভালোমানের লিগ দেখতে পাবেন। আমাদের লক্ষ্য দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষনীয় লিগ আয়োজনের। লীগ উন্নত হলে খেলোয়াড়দের মান বাড়বে, আয়েরও একটা ভালো ব্যবস্থা হবে। বর্তমানে মাত্র ৫০ জন খেলোয়াড় ফেডারেশনের চুক্তিতে। এভাবে নারী ফুটবলে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব নয়। আমরা যদি কমপক্ষে ২০টি ক্লাব দলকে ধারাবাহিকভাবে খেলাতে পারি, একেকটা ক্লাবে যদি ৩০ জন করে প্লেয়ার থাকে, তাহলে ৬০০ জন খেলোয়াড়ের আর্থিক সংস্থান তৈরী হবে।

যুব ফুটবল উন্নয়নে আপনারা বেশ জোর দিয়েছেন। গেম ডেভেলপমেন্ট কমিটি বেশ ভালো কাজ করছে। নিশ্চয় ভালো ফুটবলার পেতে আশাবাদী?
তাবিথ: আমি খুবই আশাবাদী। নতুন কমিটি আসার পর থেকে আমরা সফলভাবে ছেলেদের অনূর্ধ্ব ১৫ ও অনূর্ধ্ব ১৭ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ করেছি। গ্রাসরুটস ডেভেলপমেন্টে কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ আমরা এএফসি'র ব্রোঞ্জ পদক দিয়েছে। ১২ থেকে ১৭- এই বয়সের ছেলে-মেয়েদের নিয়ে যদি ঠিকঠাক কাজ করি, তাহলে আগামী ১০ বছরে একটা শক্তিশালী দল এবং পাইপলাইন আমরা তৈরি করে ফেলতে পারব।

নারী কমিটি নিয়ে কী একই সন্তুষ্টি আছে?
তাবিথ: দেখুন, আমাদের অনেক কমিটিই কিন্তু অসম্পূর্ণ আছে। আমাদের লক্ষ্য, কমিটিগুলাকে পূর্ণাঙ্গ করে শক্তিশালী করা। কিছু কমিটি আছে যেগুলো কাজ দিয়ে পুরোপুরি প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। সেই কমিটিগুলাতে আমরা একটু রদবদল করবো। অনেক কমিটিতে দেখবেন ইসির বাইরের লোকজনকে সুযোগ দিয়েছি, চেয়ারম্যান পর্যন্ত বানিয়েছি। ফুটসাল কমিটিই বড় প্রমাণ। বাংলাদেশে বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজন এখন ফুটবলে আসতে চাচ্ছে। কন্ট্রিবিউট করতে চায়। তাদের প্রত্যাশার জায়গা অনেক ওপরে, তবে সে পর্যায়ে এখনো আমরা পৌঁছাতে পারিনি। 

অর্থ সঙ্কট দেশের ফুটবল উন্নয়নে বড় বাধা। ফুটবলকে এগিয়ে নিতে এই চ্যালেঞ্জ কিভাবে উতরাচ্ছেন?
তাবিথ: প্রোডাক্ট যখন ভালো হয় সে প্রোডাক্টের ভ্যালিউ কিন্তু বেড়ে যায়। আপনি যদি আমাদের খেলাটাকে প্রোডাক্ট হিসেবে দেখেন, আমরা এখন টিকেট প্রাইজ ৫০০ টাকায় নিয়ে গিয়েছি। ভালো প্রোডাক্ট না হলে, ভালো অ্যাম্বিয়েন্স না হলে ফ্যানরা তো এই টাকাটা দিত না। সর্বোচ্চ টিকেটের মূল্য ১০ হাজার টাকায় নিয়ে গিয়েছি। খেলার মানোন্নয়ন না হলে ওটা আমরা করতে পারতাম না। ফুটবলের সামগ্রিক মান বাড়লে স্পন্সর ও স্পন্সরশিপের টাকাও বাড়বে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্বচ্ছ্ব ও সৎ থাকতে থাকা ফাইনান্সিয়াল সাইডগুলোতে। এটা নিশ্চিত হলে আরও অনেকেই এগিয়ে আসবে। আমরা সৎ থাকলে অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের সিএসআর ফান্ডফুটবল উন্নয়নে ব্যবহার করবে। তখন আর টাকা সমস্যা থাকবে না। 

এশিয়ান কাপের প্রস্তুতি নিয়ে অনেক কথাই হয়েছে। আরও কি একটু ভালো হতে পারতো না প্রস্তুতি?
তাবিথ: দেখেন প্রস্তুতি ও পরিকল্পনা- দুটি একেবারেই ভিন্ন জিনিস। আমি একটু ব্যাখ্যা করি। যে পরিকল্পনা করেছিলাম, আমরা কিন্তু সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী এগিয়েছি। এখন প্রশ্ন হতে পারে আমাদের পরিকল্পনাটাই খারাপ ছিল কিনা। বা পরিকল্পনাটা আরও ভালো হতে পারতো কীনা। আমি স্বীকার করি হয়তো হতে পারতো। তবে প্রশ্ন হলো যে, গত আগস্টে বাংলাদেশ নারী দলের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং জায়গাটা কি ছিল? আমাদের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের জায়গাটা ছিল ফিটনেস, স্ট্রেন্থ ঠিক করা। এটা ঠিক না করে যতই প্র্যাকটিস ম্যাচ খেলেন, যতই বিদেশে গিয়ে প্র্যাকটিস করেন লাভ হতো না। যদি তুলনা করেন শুরু থেকে তবে দেখবেন টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে চীনের বিপক্ষে আমাদের মেয়েরা নিজেদের ব্যাপক উন্নতির ছাঁপ রেখেছে। আমাদের রানিং কোয়ালিটি ডাটা এনালাইসিস করে দেখেন অনেক বেড়েছে। সবাই এখন একই গতিতে পুরো ৯০ মিনিট খেলছে। আমাদের প্ল্যানিংয়ের প্রথম পার্ট ছিল মেয়েদের ফিটনেস, নিউট্রিশন এবং স্ট্রেন্থ বাড়ানো। ট্যাক্টিক্যাল বিষয়টা কোচের বোঝার দায়িত্ব। হয়তো আরো এক-দুইটা ম্যাচ খেললে ভালো হতো।  

নারী এশিয়ান কাপ ও পুরুষ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের পর দুই দলের কোচ নিয়ে আপনাকে বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে...
তাবিথ: আমরা একটা পূর্ণাঙ্গ ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করেছি, যেখানে সিনিয়র দলগুলোর অনেক ফ্রেন্ডলি ম্যাচ এবং টুর্নামেন্ট আছে। আমাদের যুব পর্যায়েও অনেক টুর্নামেন্ট এবং ম্যাচ থাকবে। ঘরোয়া লীগের ম্যাচ সংখ্যাও বাড়ানোর চেষ্টা করছি। যেই পর্যায়ে ফেডারেশন এবং খেলাটা চলে গিয়েছে- এটা এসেসমেন্ট করে আমাদের টেকনিক্যাল টিম তৈরি করতে হবে। বিশদ পর্যালোচনার ক্ষেত্রে ফিফা এবং এএফসিরও কিছু সহযোগিতা চেয়েছি। এর মধ্যেই ফিফা অ্যাকাডেমির স্থাপনের বিষয়টি চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছে। তারাও একজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টর দেবে অ্যাকাডেমির জন্য। আমাদের পুরা টেকনিক্যাল স্টাফ, কোচিং স্টাফ, কোচ ডেভেলপমেন্ট, ডক্টর, নিউট্রিশনিস্ট সব জায়গায় আমরা একসঙ্গে কাজ করবো। এপ্রিলেই এগুলো করতো হবে। তাই আমি সবাইকে অনুরোধ করবো, দুইসপ্তাহ একটু ধৈর্য ধরি। আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় চলে এসেছে। এখানে লোকেচুরির কিছু নাই।

ফুটবল এগুতে হলে জেলার ফুটবলকে জাগানোর পাশাপাশি নগরের ফুটবলকেও গুরুত্ব দিতে হয়। এক্ষেত্রে নগর পিতা অর্থাৎ মেয়রের বড় ভূমিকা অনেক। শুনেছি আপনি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র হতে আগ্রহী। যদি মেয়র হন, ফুটবলসহ খেলাধূলকাকে কতটা গুরুত্ব দেবেন?

তাবিথ: আমি সাধারণত খুবই কঠিনভাবে চেষ্টা করি রাজনীতি আর ফুটবলকে আলাদা রাখতে। গত ৫০০ দিনের কাজে নিশ্চয় সেটা প্রমাণিত হয়েছে। মেয়র নির্বাচনে প্রশ্নে, হ্যাঁ, আমি আগামী ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছি মেয়র পদে নির্বাচন করার। অবশ্যই সেখানে আমার দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার আছে। এরপর ফাইনালি ভোটারদের সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হবে। আমি মনে করি একটা নগরের মেয়রের অনেক অবদান থাকে ফুটবল এবং ক্রীড়াকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে। নগরবাসীর জন্য পর্যাপ্ত খেলার মাঠ, পার্কের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব একজন মেয়রের। উন্মুক্ত স্থানে যাতে ছেলে-মেয়েরা অবাধে খেলাধূলা করতে পারে, সেটাও নিশ্চিত করতে পারেন একজন মেয়র। আমরা জানি, সিটি কর্পোরেশনের কাছে বাজেট থাকে এসবের জন্য। অতীতে দুই সিটি কর্পোরেশন পাইওনিয়র লিগ স্পন্সর করেছে যৌথভাবে। যে কোন শহরে আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষটি থাকেন সে শহরের মেয়র। এসব আমরা অলিম্পিক, এশিয়ান গেমস, এমনকি এখানে এশিয়ান কাপ আয়োজনেও বড় ভূমিকা রাখছেন মেয়র।

সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ দেশে আয়োজনের ইচ্ছাটাও তো আপনার প্রবল...

তাবিথ: চেষ্টা করছি এশিয়ার একটি নিউট্রাল ভেন্যু হিসেবে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে। এখন মধ্য প্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ায় যেভাবে যুদ্ধ চলছে, অনেক দল হোম ম্যাচ খেলতে পারবে না। অনেক দল আবার খেলতে চাইলেও অন্য দল তাদের কাছে যাবে না। তাই আমরা চাই নিউট্রাল ভেন্যু হিসেবে নিজেদের তৈরী করতে। এ নিয়ে কাজও শুরে করে দিয়েছি। আমরা চাই সাফ টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে যাতে একটা দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করা যায়। যাতে ভবিষ্যতে অনেকেই বাংলাদেশকে আয়োজক হিসেবে বেঁছে নেয়। বাংলাদেশে কি নাই? বাংলাদেশে দর্শক আছে, বাংলাদেশের মানুষ ফুটবল ভালোবাসে, বাংলাদেশ এখন অনেক নিরাপদ, আমাদের ভিসা সিস্টেম, বিমান যোগাযোগ অন্য অনেক দেশের বা শহরের চেয়ে উন্নত। তাই আমরা স্পোর্টসটাকে ব্যবহার করে চাইবো দেশের পর্যটনখাতকে উন্নত করতে। 

৫০০ দিনে আপনার সবচেয়ে সন্তুষ্টির জায়গা এবং অসন্তুষ্টি সম্পর্কে জানতে চাই- 

তাবিথ: সত্যি বলতে সবচেয়ে স্বস্তি পেয়েছিলাম যখন আমরা ফিফার অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা থেকে যখন বাফুফেকে বের করে আনলাম। তারপর থেকে অনেক দরজা খুলে গেছে, অনেক সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া আমাদের নারী দলের শীর্ষ পর্যায়ে খেলাটাও আমার জন্য বিশেষ কিছু। আর অসন্তুষ্টির কথা যদি বলেন, সেটাও কিছু আছে। আমরা এখনো আমাদের যে লক্ষ্য অনুযায়ী বড় কাজগুলোর কিছুই শুরু করতে পারিনি। যেমন ফিফা এলিট সেন্টারের কাজ, স্টেডিয়ামগুলোকে আধুনিকায়নের কাজ আমরা এখনো শুরুই করতে পারি নি। এই ব্যর্থতার দায় আমাকেই নিতে হবে।