'দুই দলেই ভালো ব্যাটার আছে। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বোলিং এখন ফর্মে, আর ভারত খুব বেশি নির্ভর করছে বুমরার ওপর। তাই আমি মনে করি নিউজিল্যান্ডই জিতবে।' টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগের দিন এমন ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন পাকিস্তানের সাবেকে পেসার মোহাম্মদ আমির।
কিন্তু তার আরেকটি ভবিষ্যদ্বাণী মিথ্যা প্রমাণ করে বিশ্বকাপ শিরোপা অক্ষুন্ন রেখেছে ভারত গতকাল আহমেদাবাদের ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে হারিয়ে। হারের জন্য এবার আমির দোষারোপা করেছেন কিউই অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনারের ভুল কৌশলের জন্য। তাঁর দাবি, ভুল বোলিং পরিবর্তনের কারণেই নিউজিল্যান্ড যেন ‘থালায় করে’ শিরোপা তুলে দিয়েছে ভারতের হাতে।
টস জিতে প্রথমে বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। একাদশে স্পিনার কোল ম্যাকোনচি–কে বাদ দিয়ে দলে নেওয়া হয় পেসার জেকব ডাফি–কে। কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে মনে করেন আমির। কারণ ভারতের ওপেনার অভিষেক শর্মা পাওয়ারপ্লেতে অফস্পিনের বিপক্ষে তুলনামূলক দুর্বল—তবুও সেই কৌশল কাজে লাগাতে পারেনি কিউইরা।
ভারতের হয়ে দারুণ সূচনা করেন অভিষেক শর্মা ও সন্জু স্যামসন। মাত্র ১৮ বলে হাফসেঞ্চুরি করেন অভিষেক। পরে ইশান কিশান ইনিংসের গতি ধরে রাখেন। শেষ দিকে শিবম দুবের ৮ বলে ২৬ রানের ক্যামিওতে ভারতের স্কোর পৌঁছে যায় ২৫৫ রানে। জবাবে নিউজিল্যান্ড থেমে যায় ১৫৯ রানে।
‘হারনা মানা হ্যায়’ অনুষ্ঠানে আমির বলেন, “নিউজিল্যান্ডের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে—তারা ওয়াইড বল করছিল এবং সেখান থেকেও ছক্কা খাচ্ছিল। তবে বোলিং পরিবর্তনের বিষয়টি আমি বুঝতে পারিনি। যখন জানেন অভিষেক শর্মা স্পিনে সমস্যায় পড়ে, তখন স্পিনার না এনে পেসার খেলানো কেন?”
তিনি আরও বলেন, “২০০৫ সাল থেকে নিউজিল্যান্ড দলকে অনুসরণ করছি, কিন্তু এত চাপের মধ্যে তাদের কখনো দেখিনি।”
এদিকে আমিরের মতে, এই টুর্নামেন্টে ভারত দেখিয়ে দিয়েছে যে কেবল ফাস্ট বোলার নয়, ব্যাটসম্যানরাও বড় টুর্নামেন্ট জেতাতে পারে। তাঁর ভাষায়, “ভারত একটি মিথ ভেঙে দিয়েছে—শুধু পেসাররাই টুর্নামেন্ট জেতায়, এমন ধারণা আর নেই। সেমিফাইনাল ও ফাইনালে সমতল উইকেটে তারা ২৫০–এর বেশি রান করেছে।”
ফাইনালে ৪ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন বুমরা। আর পাঁচ ম্যাচে ৩২১ রান করে টুর্নামেন্টসেরা নির্বাচিত হন সঞ্জু স্যামসন। ফাইনালেও তিনি কিউইদের বিপক্ষে ৮৯ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেন।