প্রতিবছর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আমাদের মাঝে আসে পবিত্র মাস রমজান। এই মাস শিশুদের হৃদয়ে ইমানের বীজ বপনেরও এক অনন্য সুযোগ। শৈশবেই যদি নামাজ ও রোজার প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা যায়, তবে সেই শিক্ষা জীবনের পরবর্তী সময়েও তাদের পথ দেখায়। আর শিশুদের ইবাদতে অভ্যস্ত করানো মানে তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা নয়, বরং স্নেহ, উৎসাহ ও সুন্দর পরিবেশের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাদের আল্লাহর ইবাদতে আগ্রহী করে তোলা।
প্রথমত, শিশুদের হৃদয়ে মহান আল্লাহর ভালোবাসা জাগ্রত করা প্রয়োজন। তারা যখন জানতে পারে যে, মান আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তিনি আমাদের ভালোবাসেন এবং আমাদের কল্যাণ চান, তখন তাদের মনে স্বাভাবিকভাবেই ইবাদতের প্রতি আকর্ষণ জন্ম নেয়। গল্পের মাধ্যমে নবী-রাসুলদের জীবন, সাহাবিদের ত্যাগ ও মহান আল্লাহর অনুগ্রহের কথা শোনালে শিশুরা সহজেই সেই শিক্ষা গ্রহণ করে।
দ্বিতীয়ত, রোজার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। ছোট শিশুদের জন্য পূর্ণ রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়। তবে কয়েক ঘণ্টা রোজা রাখা বা অর্ধদিবস রোজা রাখার অনুশীলন তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করে। সাহরির সময় পরিবারের সঙ্গে জেগে ওঠা, সবার সঙ্গে বসে খাবার খাওয়া কিংবা ইফতারের সময় অংশগ্রহণ শিশুদের মনে এক বিশেষ আনন্দ তৈরি করে। ইফতারের পর তাদের প্রশংসা করা বা ছোট উপহার দেওয়া হলে তারা আরও উৎসাহিত হয়।
তৃতীয়ত, নামাজ শেখানোর ক্ষেত্রেও কোমল পদ্ধতি অবলম্বন করা প্রয়োজন। শিশুদের দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে বাধ্য না করে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য নামাজে দাঁড়াতে উৎসাহ দেওয়া যেতে পারে। সহজ সুরা শেখানো, বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার সুযোগ দেওয়া কিংবা ছোটদের নামাজে কখনো তাদের ইমাম হওয়ার সুযোগ দিলে তারা আত্মবিশ্বাস পায় এবং নামাজের প্রতি ভালোবাসা অনুভব করে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, শিশুরা অনুকরণপ্রিয়। তারা বড়দের আচরণ দেখে দ্রুত শেখে। বাবা-মা যদি নিয়মিত নামাজ আদায় করেন, কোরআন তেলাওয়াত করেন এবং রমজানের আমলগুলো আন্তরিকভাবে পালন করেন, তবে শিশুরাও তা অনুসরণ করতে আগ্রহী হয়। ঘরে যদি রমজানের শান্ত ও ইবাদতমুখর পরিবেশ থাকে, তবে তা শিশুদের মনে গভীর প্রভাব ফেলে।
রমজান মূলত আত্মগঠনের এক মহান মাস। এই সময়ে শিশুদের ভালোবাসা ও প্রেরণার মাধ্যমে ইবাদতে অভ্যস্ত করা গেলে তারা ইবাদতকে বোঝা নয়, বরং আনন্দের দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করবে। আজকের ছোট্ট শিশুরাই আগামী দিনের আলোকিত মুসলিম সমাজ গড়ে তুলবে। তাই তাদের ধীরে ধীরে ইবাদতে অভ্যস্ত করাই আমাদের দায়িত্ব। তাহলে তারা ছোট থেকেই সুন্দর আখলাকের ওপর গড়ে উঠবে।
লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক