যুদ্ধের মাঝেও ৯ দিনেই রেমিট্যান্স এলো দেড় বিলিয়ন ডলার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ ও আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে বড় ধরনের ধাক্কা লাগেনি। বরং চলতি মার্চ মাসের প্রথম ৯ দিনেই দেশে এসেছে দেড় বিলিয়নের বেশি মার্কিন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের ১ থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে এসেছে ১৫২ কোটি ৬০ লাখ বা ১.৫২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। এ হিসাবে প্রতিদিন গড়ে দেশে এসেছে প্রায় ১৬ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত বছরের একই সময়ে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ১০১ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দেশে মোট ২ হাজার ৩৯৮ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় যা প্রায় ২২ দশমিক ৯০ শতাংশ বেশি।

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে প্রবাসীরা দেশে থাকা স্বজনদের কাছে বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে রেমিট্যান্স প্রবাহেও প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩০২ কোটি ৭ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। তার আগের মাস জানুয়ারিতে আসে ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার ডলার, যা ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

এর আগে গত ডিসেম্বর মাসে দেশে আসে ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার রেমিট্যান্স, যা ছিল দেশের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ এবং চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়।

গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স। এছাড়া অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে আসে যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার এবং ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

আর গত আগস্ট ও জুলাই মাসে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন যথাক্রমে ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার এবং ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন মোট ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।