ওমেন্স এশিয়ান কাপের অভিষেকটা জয়ে রাঙাতে পারেনি বাংলাদেশ। গ্রুপের তিন ম্যাচেই হেরে বিদায় নিতে হয়েছে তাদের। সোমবার পার্থের র্যাকটেঙ্গুলার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে লক্ষ্যটা ছিল জয়ের। তাতে খুলতে পারত অনেক সম্ভাবনার দুয়ার। এশিয়ান কাপের কোয়ার্টার ফাইনাল, ২০২৭ বিশ্বকাপ, ২০২৮ অলিম্পিক গেমসের মতো আসরে খেলার সুযোগ তৈরি হতো। সেটা হয়নি উজবেকদের কাছে ৪-০ গোলে হেরে। অতি সাহসী হয়ে গোলের চেষ্টা করতে গিয়েই নিজেদের রক্ষণ অরক্ষিত করে বড় হার বরণ করতে হয়েছিল বাংলাদেশকে। আগের দুই ম্যাচে দুই পরাশক্তি চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে হারের পরও যে স্বপ্নটা ছিল সেটা পূরণ না করেই দেশের পথ ধরেছেন আফঈদা খন্দকাররা। ১২ দলের আসরে কোনো গোল করতে না পারা দুই দলের একটি বাংলাদেশ। ১১ গোল হজম করে শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে এসব চিন্তা করলে সাদা চোখে অভিযান ব্যর্থই বলা চলে। সেই ব্যর্থতার দায়টা সামগ্রিকভাবে নিতে হবে সবাইকে। খেলোয়াড়, বাফুফের দায় আছে অনেক ক্ষেত্রে। তবে বড় দায়টা এড়াতে পারবেন না পিটার বাটলার নিজেও।
প্রথমবার এত বড় মঞ্চে খেলা, সবচেয়ে নবীন দল, র্যাংকিংয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে এবং সবচেয়ে কম প্রস্তুতি নিয়ে অস্ট্রেলিয়া যাওয়া বাংলাদেশের অনেক বড় আশা ছিল না। অন্তত দলটির ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার কখনই চাননি বড় কোনো স্বপ্ন দেখাতে। বাস্তবতা মেনে নিজেদের সেরাটাই শুধু দিতে বলেছিলেন ৫৯ বছর বয়সী কোচ। তবে কোচের পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়ন তিন ম্যাচে করতে পারেনি বাংলাদেশ। তাই জন্ম নেয়নি কোনো অঘটনের। তারপরও এই দলটা নিয়ে গর্ব আর আশার শেষ নেই। এমনটাই তো হওয়ার কথা ছিল। এত বড় টুর্নামেন্টের ওজনটা বুঝতেই যে কেটে গেছে পুরোটা সময়। বাঘা বাঘা সব প্রতিপক্ষ, চোখ ধাঁধানো সব স্টেডিয়াম, কার্পেটের মতো মাঠে প্রস্তুতির সুযোগ, সর্বোপরি একটা ঘোরের মধ্যেই কেটে গেছে বাটলারের শিষ্যদের সময়।
শুরুটা হয়েছিল স্বপ্নের মতোই। ৩ মার্চ সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়ামে লড়াইটা ছিল সর্বোচ্চ ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের বুলডোজারে পিষ্ট হওয়ার শঙ্কাই ছিল। তবে বাংলাদেশ সে ম্যাচে খেলেছে বুক চিতিয়ে। তাই তো পুঁচকে বাংলাদেশকে হারাতে ভালোই বেগ পেতে হয়েছিল চীনকে। এশিয়ার পরাশক্তিদের এভাবে চমকে দেওয়ার আত্মবিশ্বাস নিয়ে ৬ মার্চ একই মাঠে বিশ্ব র্যাংকিংয়ে নবম স্থানে থাকা উত্তর কোরিয়ার মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। প্রথমার্ধের নির্ধারিত সময়ে কোরিয়ানদের রুখে দিয়েছিল তারা। তবে যোগ করা সময়ে অধিনায়ক ও সেন্টারব্যাক আফঈদার দুই ভুলে দুই গোলে পিছিয়ে বিরতিতে যায় তারা। সেখানেই আসলে সুরটা কেটে যায়, মনোযোগটাও টলে যায়। পরে দ্বিতীয়ার্ধে আরও তিন গোল হজম করতে হয় বাংলাদেশকে। এই ম্যাচে সেভাবে আক্রমণই গোছাতে পারেননি ঋতুপর্ণা চাকমারা। দুই সেরার বিপক্ষে সাত গোল হজম করাতেই একটু পিছিয়ে পড়তে হয় বাংলাদেশকে। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জিতলেও কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ পেতে অন্য গ্রুপের খেলায় তাকিয়ে থাকতে হতো। তবে বাংলাদেশের মেয়েরা আগের দুই ম্যাচের চেয়ে আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলেছে ঠিক, কিছু সুযোগও তারা তৈরি করেছিল সোমবার। তবে হাই-লাইন ডিফেন্স কৌশলে খেলতে গিয়ে বারবার নিজেদের ঘর অরক্ষিত করেছে দলের অনভিজ্ঞ রক্ষণভাগ। সুযোগটা কাজে লাগিয়ে প্রথমার্ধে এক ও দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে উজবেকিস্তান বাঁচিয়ে রাখে কোয়ার্টারের সম্ভাবনা।
আর মেয়েরা তাদের সামর্থ্যরে সেরাটা খেলতে না পারাটাই ব্রিটিশ কোচ বাটলারের জন্য বড় আক্ষেপ হয়ে থাকবে। অনেক সীমাবদ্ধতা সত্যেও দলটিকে সেরা রূপে প্রস্তুত করতে চেষ্টার কমতি ছিল না অভিজ্ঞ কোচের। নারী দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে যেভাবে একটি নবীণ দলকে সেরা মঞ্চের জন্য গুছিয়েছেন- তার জন্য তিনি বাহবা পেতেই পারেন। তারপরও কিছু কথা থেকে যায়।
এটা ঠিক বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও সেরা মঞ্চের জন্য কোচের দেওয়া পরিকল্পনার শতভাগ বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এশিয়ার সেরাদের সঙ্গে লড়তে যে মানের প্রস্তুতি প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করতে না পারায় দায় বাফুফের। তাই একাধিকবার এসব অসংগতি নিয়ে কথা বলেছেন বাটলার। তাই বলে নিজের দায় এড়াবেন কী করে?