জাতীয় ঐক্য জোরদারে চীনে নতুন আইন

চীনে জাতিগত ঐক্য জোরদারের লক্ষ্যে একটি নতুন আইন অনুমোদনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে সমালোচকরা আশঙ্কা করছেন, এই আইন দেশটির সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয়ের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনের আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসে (এনপিসি) শিগগিরই ‘জাতিগত ঐক্য ও অগ্রগতি উন্নয়ন আইন’ নামে এ প্রস্তাবটি অনুমোদন পেতে পারে। মূলত সব জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে একটি অভিন্ন ‘চীনা জাতীয় পরিচয়’ গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে এ আইনটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত এ আইনে শিক্ষা, গণমাধ্যম, পরিবার ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে ‘চীনা জাতির যৌথ পরিচয়’ গড়ে তোলার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।

এর আওতায় স্কুলের পাঠ্যক্রমে এ ধারণা অন্তর্ভুক্ত করার পাশাপাশি শিশুদের অল্প বয়স থেকেই মান্দারিন ভাষায় দক্ষ করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বেইজিংয়ের। এ ছাড়া বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অধিকতর যোগাযোগ, মেলামেশা ও একত্রে বসবাসের পরিবেশ তৈরির কথা আইনে উল্লেখ করা হয়েছে। চীনা কর্র্তৃপক্ষের দাবি, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ঐক্য, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠন ও গবেষকদের মতে, এ আইনের ফলে সংখ্যালঘুদের নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও ধর্মীয় পরিচয় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিমসহ অন্যান্য সংখ্যালঘু জাতিগোষ্ঠীর ওপর এর প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।