গাইবান্ধা সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি অকেজো হয়েছে পড়েছে। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালটি এখন অসামাজিক কর্মকা-ের কেন্দ্র। জরাজীর্ণ সব ভবনে ধরেছে ফাটল। প্রধান ফটকে নেই দরজা, ভেঙে গেছে প্রাচীর। রাত হলেই বসে মাদক সেবকদের আড্ডা। একদিকে চিকিৎসক সংকট, অন্যদিকে দুর্বল অবকাঠামো আর নোংরা পরিবেশে পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি নিজেই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়েছে।
সিভিল সার্জন কাযার্লয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৬২ সালে পাঁচ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয় হাসপাতালটি। তখন ১০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল ছিল। হাসপাতাল অস্থায়ী রাজস্ব আর স্টাফরা স্থায়ী রাজস্ব জটিলতায় ২০০৮ সালে ইনডোর বন্ধ হয়ে যায়। পরে এটি পল্লী স্বাস্থ্যকেন্দ্র হিসেবে আউটডোরে রোগী দেখা শুরু হয়। বর্তমানে দুটি চিকিৎসকের পদ থাকলেও একটি শূন্য রয়েছে। নার্স পদে চারজন ও সহকারী নার্স দুজন, অফিস সহায়ক চারজন, ওয়ার্ড বয় দুজন, বাবুর্চি একজন, এমটিল্যাব পদে একজন ও ফার্মাসিস্ট পদে একজন। এর মধ্যে নার্স ও অফিস সহায়কসহ ১৭ জন জনবল রয়েছে। তবে জনবল থাকলেও এখানে কাজ করেন ১১ জন। বাকিরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কাজ করেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ভবনগুলোর স্যাঁতসেঁতে দেয়াল থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা। আবাসিক ভবনগুলোর একই অবস্থা। ভেতরে যত্রতত্র পড়ে আছে রোগীদের বেড। শৌচাগারও ব্যবহারের অনুপযোগী। দুটি কক্ষে তিনজন নার্স সরকারি ওষুধ সরবরাহ করছেন। পাশের রুমে একজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার রোগী দেখছেন। মূল ফটকের সামনে পড়ে আছে একাধিক গাছের গুঁড়ি। গাছের গুঁড়িগুলো লাখ টাকা মূল্যের হলেও তা চত্বরেই নষ্ট হচ্ছে।
হাসপাতালের অবকাঠামোসহ আবাসিক ভবনগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। নষ্ট হচ্ছে মূল্যবান যন্ত্রপাতি। নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় হাসপাতালের প্রধান ফটকে গরু, ছাগল, ভেড়া বিচরণ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জনশূন্য অবস্থার কারণে রাতে অসামাজিক কার্যকলাপসহ মাদকসেবীর আড্ডা হয় এখানে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ওষুধ নিতে আসা আজিরন বেগম (৬০) বলেন, আগে কয়েক গ্রামের মানুষ অসুস্থ হলে ঘরের পাশেই এই হাসপাতালে সেবা নিতে আসত। জরুরি অসুস্থ রোগীরা এখানে ভর্তি হতো।
আরিফখা গ্রামের ফারুক মিয়া (৪০) বলেন, হাসপাতালের প্রাচীর ভেঙে গেছে। ভবনগুলোর দরজা-জানালা নেই। ভবনের ভেতরে অসামাজিক কর্মকা- হয়। সন্ধ্যা হলেই হাসপাতাল চত্বরে বসে মাদকের আড্ডা।
রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোসাববীর হোসেন বলেন, বর্তমানে দুজন মেডিকেল অফিসারের একজন নেই। সম্প্রতি একজন ঢাকায় প্রশিক্ষণে আছেন বলে শুনেছি।
গাইবান্ধা পরিবেশ ক্লাবের সভাপতি গোলাম রাব্বানী মুসা বলেন, যেখানে এক সময় মানুষ সেবা পেত, সেখানে অসামাজিক কর্মকা- হচ্ছে। প্রায় ১৫ বিঘা সরকারি জমি পড়ে আছে। অথচ এই জেলায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় নেই।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান জানান, অনেক আগে থেকে হাসপাতাটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। তবে আউটডোর সার্ভিস চালু রাখা হয়েছে। হাসপাতালটি চালু করতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে একটি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।