গাইবান্ধায় পুলিশের জুয়ার খেলার ভিডিও ভাইরাল হওয়ার ঘটনায় দুই উপপরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া এ ঘটনায় তদন্তে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল) শেখ মুত্তাজুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) জসিম উদ্দীন মুঠোফোনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যাহার পুলিশ কর্মকর্তরা হলেন- গাইবান্ধা শহর পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক বুলবুল ইসলাম ও আখতার হোসেন। তাদেরকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করে নেওয়া হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। ফাঁড়িতে কয়েকজন তাস খেলছিল।সেখানে বাইরের পুলিশও ছিল। তবে তারা টাকা দিয়ে খেলেছে। এটা অপরাধ। ভিডিওতে আমরা যাদেরকে চিনতে পেরেছি, তাদেরকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তদন্তে সব বের হবে।
এদিকে ভাইরাল হওয়া ২ মিনিট ২৩ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, একটি লম্বা টেবিল। টেবিল ঘেঁষে চারদিকে চেয়ার সাজানো। চেয়ারে পাঁচ থেকে ছয়জন বসে আছেন। পাশে পুলিশের পোশাকে একজন দাঁড়িয়ে আছেন। কেউ টি শার্ট কেউ গেঞ্জি, কেউ পুলিশের পোশাক পড়ে আছেন। একজনের মাথার ওপরের দিকে কালো চশমা। প্রত্যেকের সামনে টেবিলে একটি করে মানি ব্যাগ। টেবিলের চারপাশে বসে টেবিলের ওপরে তাস ও টাকা। চেয়ারে বসে টেবিল থেকে তাস নিচ্ছে। একটু পর পর মানি ম্যাগ থেকে কেউ টাকা বের করে টেবিলের ওপর রাখছেন। কেউ তাস হাতে নিচ্ছেন। টেবিলের ওপর ১০ টাকা, ২০ টাকা, ৫০০ টাকা ও ১ হাজার টাকার অনেক নোট ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
এবিষয়ে জানতে গাইবান্ধা জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, জুয়াসহ নানা ধরনের অপরাধ দমন করাই আইন প্রয়োগকারি সংস্থার অন্যতম দায়িত্ব। কিন্তু আইনের রক্ষক হয়ে নিজেরাই আইন ভঙ্গ করা বেশি অপরাধ। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।