ঈদের আগে সরবরাহ কমেছে তেলের

ঢাকার বাজারে সয়াবিন তেলের সংকট কমার বদলে উল্টো বেড়েছে। ইদের আগ মুহূর্তে বাজারে ভোজ্য তেলের সরবরাহ সংকট আরও প্রকট হতে শুরু করেছে। এতে সাধারণ ভোক্তাদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রূপচাদা, মেঘনা ও তীর ব্র্যান্ডের সরবরাহ একেবারেই কম। তবে, যেসব দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল পাওয়া যাচ্ছে তার মধ্যে স্টারশিপ ও পুষ্টি ব্র্যান্ডের তেলই বেশি দেখা গেছে। এ ছাড়া সরবরাহ পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কোনো দোকানে যদি এক লিটারের বোতল পাওয়া যায় তবে দুই বা পাঁচ লিটারের বোলত নেই। যেখানে দুই লিটারের বোতল আছে সেখানে ৫ লিটারের বোতল নেই। এতে করে ভোক্তা তার চাহিদামতো তেল কিনতে পারছেন না।

বোতলজাত সয়াবিন তেলে যেটুকু মিলছে তা নির্ধারিত দামেই পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু বেড়েছে খোলা সয়াবিন তেলের দাম। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এর গতকালের বাজার বিশ্লেষণের তথ্য বলছে, প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ১৯৫ টাকায়। অথচ সরকারের নির্ধারিত দাম ১৭৬ টাকা। এই বাড়তি দাম নেওয়ার বিষয়ে সরকারের কোনো তদারকি দেখা যায়নি।

মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ১২ নম্বর রোডে রয়েছে স্বপ্নের সুপারশপ। সুপারশপের এই শাখায়  ভোজ্য তেলের কর্ণারে সয়াবিন তেলের উপস্থিতি দেখা যায়নি। একই অবস্থা দেখা গেছে এই এলাকার ৮ নম্বর রাস্তায় থাকা সুপারশপে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে শপের একাধিক বিক্রেতা জানান, তেলের সরবরাহ নেই বললেই চলে।

একই অবস্থা মুদি দোকানগুলোতে। কারওয়ানবাজারের বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,  কোম্পানিগুলো একই ব্র্যান্ডের সেমাই, চিনি না নিলে তেলের সরবরাহ দিচ্ছে না। সরবরাহ দিলেও সেটা স্বাভাবিক সরবরাহের তুলনায় একেবারেই কম।

জানা গেছে, দুই সপ্তাহ ধরে খুচরা বাজারে ধীরে ধীরে ভোজ্য তেলের সরবরাহ সংকট তৈরি করেছেন ব্যবসায়ীরা। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে তারাও দাম বাড়াতে চান। কিন্তু সরকার তাতে সায় দিচ্ছে না। উল্টো বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির গত ৯ মার্চ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করে জানিয়েছেন, ‘বাজারে তেলের সংকট নেই, দামও বাড়বে না।’ তবে এরপরও সরবরাহ না বেড়ে উল্টো আরও কমেছে।

এদিকে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম বেড়েছে। ঈদে সারা দেশের গ্রামাঞ্চলে মুরগির মাংসের চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে ঢাকায় সরবরাহ তুলনামূলক কম। এ কারণে দামও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে মুরগির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ৩০-৪০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

জানা গেছে, সব ধরনের মুরগি ব্রয়লার, সোনালি, পাকিস্তানি, লেয়ার এবং দেশি সবগুলোর দামই বেড়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২২০-২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি ও লেয়ার মুরগি প্রতি কেজি ৩৪০-৩৬০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের বিক্রেতা এমদাদ আলী জানান, গত দেড় সপ্তাহে খামার পর্যায়ে মুরগির দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ২০-৩০ টাকা বেড়েছে।