সানরাইজার্স লিডসের হয়ে ‘দ্য হান্ড্রেড’ টুর্নামেন্টে খেলার জন্য ১ লক্ষ ৯০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ২ কোটি ৩৪ লক্ষ রুপি) দল পেয়েও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদ। একদিকে ভারতীয় মালিকানাধীন দলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র বিতর্ক চলছে, অন্যদিকে জাতীয় দলের ব্যস্ততা আবরারের এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকে বড় প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
আবরারের অংশগ্রহণের পথে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) ‘অনাপত্তিপত্র’ বা এনওসি। দ্য হান্ড্রেড টুর্নামেন্টটি আগামী ২১ জুলাই থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে। ঠিক একই সময়ে (১৫ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট) পাকিস্তান জাতীয় দলের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর নির্ধারিত আছে, যেখানে তারা দুটি টেস্ট ম্যাচ খেলবে। জাতীয় দলের এই সফরের কারণেই পিসিবি তাকে ছাড়পত্র নাও দিতে পারে।
সানরাইজার্স লিডসের প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টরি জানিয়েছেন, দলে মানসম্পন্ন স্পিনারের অভাবেই তারা আবরারকে বেছে নিয়েছেন। ইংল্যান্ডের আদিল রশিদকে না পাওয়ার পর তাদের রাডারে ছিলেন বাংলাদেশের রিশাদ হোসেন, পাকিস্তানের উসমান তারিক এবং আবরার আহমেদ। বর্তমানে টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের তিন নম্বর বোলার হওয়ায় আবরারকে দলে নিতে কালক্ষেপণ করেনি কাভিয়া মারানের নেতৃত্বাধীন টিম ম্যানেজমেন্ট।
সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি দাবি করেছে, আবরারের খেলার সম্ভাবনা বর্তমানে ফিফটি-ফিফটি। আবরারের এজেন্টের মতে, যেহেতু তিনি নিলামে নাম লিখিয়েছেন, তাই এনওসি পাওয়ার বিষয়ে তিনি আত্মবিশ্বাসী। তাছাড়া পিসিবি প্রধানের সঙ্গে আবরারের সুসম্পর্কও তাকে এই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ করে দিতে পারে বলে অনেকে মনে করছেন।
সানরাইজার্স লিডসের মালিকানায় রয়েছে ভারতের সান টিভি নেটওয়ার্ক, যারা আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিক। সম্প্রতি তারা নর্দার্ন সুপারচার্জার্সের অধিকাংশ শেয়ার কিনে এর নাম পরিবর্তন করে সানরাইজার্স লিডস রেখেছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের কারণে ভারতীয় মালিকানাধীন কোনো পাকিস্তানি ক্রিকেটারের অন্তর্ভুক্তি অনেক ভারতীয় সমর্থক মেনে নিতে পারছেন না, যার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দলটির ‘এক্স’ অ্যাকাউন্ট স্থগিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
শেষ পর্যন্ত আবরার এনওসি পেয়ে ইংল্যান্ডে উড়াল দেবেন, নাকি জাতীয় দলের হয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজেই থেকে যাবেন, তা এখন পিসিবির সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।