ইংলিশ ঘরোয়া লিগের ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স লিডস সম্প্রতি হান্ড্রেডের জন্য পাকিস্তানি লেগ স্পিনার আবরার আহমেদকে নিলাম থেকে কিনে নিয়েছে। ভারতের আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি সানরাইজার্স হায়দরাবাদের মালিকানাধীন (কাব্য মারান) লিডসের এই খেলোয়াড় কেনা নিয়ে ভারত জুড়ে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। এমনকি সানরাইজার্স লিডসের এক্স (টুইটার) অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা আইপিএলে নিষিদ্ধ। তারা কেবল ২০০৮ সালের উদ্বোধনী আসরে খেলেছিলেন। এরপর মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার জেরে আইপিএলে পাকিস্তানিদের উপস্থিতির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণত, যেসব ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজির বিদেশি লিগে দল আছে, তারা পাকিস্তানি খেলোয়াড় নেওয়া এড়িয়ে চলে। তবে সানরাইজার্স সেই পথে হাঁটেনি।
ভারতীয় ক্রিকেট কিংবদন্তি সুনীল গাভাস্কার কেন ভারতীয় দলগুলোর পাকিস্তানি খেলোয়াড় অন্তর্ভুক্ত করা থেকে বিরত থাকা উচিত, সে বিষয়ে বেশ সোজাসাপ্টা কথা বলেছেন। 'মিড-ডে' পত্রিকায় এক কলামে তিনি লিখেছেন, "অর্থ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানটি ভারতীয় হোক বা সেই প্রতিষ্ঠানের কোনো বিদেশি সহযোগী শাখা হোক—মালিক যদি ভারতীয় হন, তবে তিনি ভারতীয়দের হতাহতের ঘটনায় অবদান রাখছেন। বিষয়টি এতটাই সহজ। দ্য হান্ড্রেড-এর ওই দলের কোচ ড্যানিয়েল ভেট্টোরি নিউজিল্যান্ডের নাগরিক হওয়ায় হয়তো এই সাধারণ সমীকরণটি বুঝবেন না এবং সে কারণে তিনি তার দলে কিছু পাকিস্তানি খেলোয়াড় চাইতে পারেন, কিন্তু নিশ্চিতভাবেই মালিকের উচিত ছিল পরিস্থিতি বোঝা এবং এই কেনাকাটায় নিরুৎসাহিত করা। অন্য কোনো দেশ খেলে না এমন একটি ফরম্যাটের টুর্নামেন্ট জেতা কি ভারতীয়দের জীবনের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ?"
তিনি আরও যোগ করেন যে, ভক্তরা দলটিকে বয়কট করতে পারে। "এই দলটির প্রতিটি ম্যাচে—তা ঘরের মাঠে হোক বা বাইরে—এই অবিশ্বাস্য খেলোয়াড় কেনার প্রতিবাদে ভারতীয় সমর্থকদের বিশাল বিক্ষোভ দেখা গেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। আসলে, তাদের দলে অত্যন্ত আকর্ষণীয় কিছু স্ট্রোক-মেকার থাকা সত্ত্বেও দর্শকরা যদি খেলা দেখতে না আসে এবং এই সিদ্ধান্তের প্রতি তাদের অসম্মতি জানায়, তবে তাতেও অবাক হওয়ার কিছু নেই।"
গাভাস্কার আরও বলেন, "ভুল সংশোধনের সময় এখনো আছে এবং আশা করি সুবুদ্ধির উদয় হবে।"
এদিকে, বিসিসিআই সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লা শুক্রবার বলেছেন যে, বোর্ড এতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না কারণ এই চুক্তিটি একটি বিদেশি লিগের সাথে সম্পর্কিত এবং ফ্র্যাঞ্চাইজিকেই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
পাকিস্তান আবার আসবে বাংলাদেশে, এপ্রিলে আসছে নিউজিল্যান্ড