মাটি খেকোদের ট্রাক চাপায় যুবকের মৃত্যু

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় গতকাল শনিবার রাতে মাটি খেকোদের ড্রাম ট্রাকের চাপায় এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর মাটি খেকোরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা নিয়ে মীমাংসার চাপ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর দেদারছে মাটি লুট হলেও অর্থের লোভে প্রশাসনের নীরবতায় এভাবে তাঁজাপ্রাণ নিবে গেল বলেও অভিযোগ এলাকাবাসী। 

নিহত হলেন, কালিয়াকৈর উপজেলার লস্করচালা এলাকার নুর উদ্দিনের ছেলে মাসুম রানা (৩৫)। তিনি মাটি খেকোদের এক সহযোগী ছিলেন। 

এলাকাবাসী ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কালিয়াকৈর উপজেলার মাজুখান এলাকার নাসির উদ্দিন পাশ্ববর্তী লস্করচালা এলাকার নেহাল উদ্দিন ফসলি জমির মাটি কিনেন। পরে প্রশাসন ও মৌচাক ফাঁড়ি পুলিশ ম্যানেজ করে দীর্ঘদিন ধরে ওই লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কেটে নিচ্ছিলেন মাটি খেকো নাসির ও তার সহযোগীরা। সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে দেদারছে মাটি কাটায় আশপাশের ফসলি জমি ধসে পড়া, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ এলাকাবাসীর। তাদের অভিযোগ, এ বিষয়ে একাধিকবার জানালেও অর্থের লোভে প্রশাসনের ছিল নীরবতা। এছাড়াও অবৈধ মাটি কাটার স্থানের আশপাশে নিয়মিত যেতো পাশের মৌচাক ফাড়ির পুলিশ। তারাও কোনো ব্যবস্থা না নিয়ে নিয়মিত মাটি খেকোদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে ফিরে যায় বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর। 

শনিবার রাত ১০টার দিকেও ওই ফাঁড়ি পুলিশের একাধিক সদস্য সে এলাকায় যায় এবং মাটি খেকোদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে চলে যায় জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। তারা জানান, ওই রাতেই সেখানে অবৈধভাবে মাটি টাকার সময় মাটিবাহী ড্রাম ট্রাকের চাপায় ঘটনাস্থলেই মারা যান যুবক মাসুম। এরপর থেকে লাপাত্তা রয়েছেন ওই ড্রাম ট্রাকের চালক মাহবুব। পরে পরিবারের সদস্যদের না জানিয়ে মাটি খেকোরা নিহতের লাশ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। বর্তমানে ঘটনাস্থলে রক্তের দাগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী। এ দিকে লাশ ওই হাসপাতালের মর্গে থাকলেও মাটি খেকোরা বিষয়টি ধামাচাপা দিতে নিহতের পরিবারকে ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে মীমাংসার চাপ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে দেদারছে মাটি লুট হলেও অর্থের লোভে প্রশাসনের নীরবতায় এভাবে তাঁজাপ্রাণ নিবে গেল বলেও অভিযোগ এলাকাবাসী। এ কারণে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে মাটি খেকোদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।  

এ বিষয়ে জানতে ঘটনাস্থলে গেলেও ওই মাটি খেকো নাসির উদ্দিন ও তার সহযোগীদের পাওয়া যায়নি। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাটি ব্যবসায়ীরা এ ঘটনার দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ম্যানেজ করেই মাটি কেটে আসছি।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর বিষয়টি মীমাংসা করতে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে চাপ দেওয়া হচ্ছে। নিহতের বাবা নুর উদ্দিন বলেন, আমার ছেলে মারা গেছে। এই শোক আমি কিভাবে সহ্য করব? এটি হত্যাকাণ্ড। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

কালিয়াকৈর থানাধীন মৌচাক পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (এসআই) শামিম আক্তার জানান, নিহতের লাশ মর্গে রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও মাটি খেকোদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, পুলিশ নিয়মিত টহলে যায়। কিন্তু মাটি কাটার বিষয়টি আমাদের দেখার বিষয় নয়, এটা প্রশাসন দেখবেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফাহিম শাহরিয়ার জানান, বিষয়টি শুনেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অবৈধ ভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে।